মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের অস্থিরতাকে কেন্দ্র করে রোববার (১৯ এপ্রিল) দেশে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় সরকার। এর রেশ কাটতে না কাটতেই বন্দরকেন্দ্রিক ২১টি বেসরকারি অফডক তাদের এই চার্জ বাড়িয়ে দেয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অফডক থেকে বন্দরে কন্টেইনার পরিবহনে নিয়োজিত লরিগুলো যেমন ডিজেলে চলে, তেমনি ডিপোর ভেতরে কন্টেইনার ওঠানামার কাজে ব্যবহৃত ক্রেনসহ অন্যান্য ভারী যন্ত্রপাতিও ডিজেলচালিত। ২১টি অফডকে প্রতিদিন গড়ে ৬৫ থেকে ৭০ হাজার লিটার ডিজেলের প্রয়োজন হয়।
চার্জ বাড়ানোর বিষয়ে বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কন্টেইনার ডিপো অ্যাসোসিয়েশনের (বিকডা) মহাসচিব রুহুল আমিন বিপ্লব বলেন, ‘ডিপোগুলো প্রতিদিন প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ হাজার লিটার ডিজেল পোড়ায় তাদের অপারেশন কর্মকাণ্ডের জন্য। সুতরাং এই বর্ধিত করা ছাড়া ডিপোগুলোর অন্য কোনো উপায় নেই এই কস্টটাকে অ্যাডজাস্ট করার জন্য।’
ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত চার মাসে বন্দর ও স্টিভিডোর একবার করে এবং অফডকগুলো দুইবার চার্জ বাড়িয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক বাজারে বাংলাদেশের পণ্য রফতানি খরচ অনেক বেড়ে যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: জাতিসংঘে পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য দেয়ায় রাঙ্গামাটিতে বিক্ষোভ
বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাফা) সহ-সভাপতি খায়রুল আলম সুজন এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘গত কিছু দিন আগে আমাদেরকে বিকডার যে ট্যারিফটা ছিল সেটাও ২০ শতাংশ আমাদেরকে বাড়তি দিতে হয়েছে। রিসেন্টলি তেলের মূল্য বৃদ্ধির কারণে যেটা সাড়ে ৮ শতাংশ বিকডা আবার নতুন করে রিকভারির জন্য যে সার্কুলারটা দিয়েছে, সেটা আমাদের ট্রেডের ওপর একটা বিরূপ প্রভাব ফেলবে।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংশ্লিষ্ট এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘যার যার মতো ইচ্ছে করে যতটুকু ইচ্ছে ততটুকু বাড়ায় দিবে, এটা আমাদের যারা ইউজার আছে ইউজারের ওপর চাপায় দেয়া, সেটা আসলে আমাদের ব্যবসার জন্য বড় ধরনের একটা ক্ষতির সম্মুখীন।’
ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, এভাবে বারবার চার্জ বাড়ানো হলে আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের ভারসাম্য নষ্ট হবে এবং সাধারণ ভোক্তাদের ওপর পণ্যের দামের প্রভাব পড়বে। তাই তারা এই চার্জ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন।
বর্তমানে ২১টি অফডক বছরে ৩ লাখের বেশি আমদানি কন্টেইনার এবং সাড়ে ৭ লাখের বেশি রফতানি কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করছে। সমুদ্র বন্দরের মূল এলাকার বাইরে অবস্থিত বিশেষায়িত এই কন্টেইনার ইয়ার্ডে আমদানিকৃত পণ্য খালাস, লোডিং-আনলোডিং, স্টোরেজ বা সংরক্ষণ এবং শুল্কায়নের কাজ করা হয়।
]]>
১ ঘন্টা আগে
১








Bengali (BD) ·
English (US) ·