‘মাদক সম্রাট’ নিহতের জেরে ব্যাপক সহিংসতা, মেক্সিকোর বর্তমান পরিস্থিতি কী

২ দিন আগে
‘মাদক সম্রাট’ এল মেনচো নিহতের জেরে কয়েকদিনের সহিংসতার পর মেক্সিকোয় পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। নিরাপত্তা বাহিনীর কড়া টহলের মধ্যেই খুলছে স্কুল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। ফিরতে শুরু করেছেন পর্যটকরা। তবে এখনও আতঙ্কে রয়েছেন বাসিন্দারা।

গেল রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সামরিক অভিযানে নিহত হন কুখ্যাত মাদক সম্রাট এল মেনচো। এরপর মেক্সিকোজুড়ে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। অন্তত ২০টি অঙ্গরাজ্যে সড়ক অবরোধ, গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা ঘটে। যার ক্ষতচিহ্ন এখনও স্পষ্ট। নিহত হন নিরাপত্তা বাহিনীর অনেক সদস্য।

 

তবে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। আংশিকভাবে সচল হতে শুরু করেছে সামাজিক ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম। নিরাপত্তা বাহিনীর কড়া টহলের মধ্যেই খুলছে স্কুল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

 

মেক্সিকোর অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় জানিয়েছে, এল মেনচোর দুই দেহরক্ষীকে গ্রেফতার করে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আলমোলোয়া দে জুয়ারেজের ফেডারেল কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছে। অস্ত্র বহনের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে বাধ্যতামূলক প্রি-ট্রায়াল ডিটেনশনের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

 

কর্তৃপক্ষ বলছে, অবরোধ ধীরে ধীরে কমলেও সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতে নজরদারি জোরদার রাখা হয়েছে। তবুও বাসিন্দাদের মাঝে কাজ করছে আতঙ্ক।

 

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘জীবন তো চলবেই, তবুও রাস্তায় কী হয় না হয় তার ভয় থেকেই যায়। কখন দৌড়াতে হয়, লুকাতে হয়।’ 

 

আরেকজন বললেন, ‘পুরো পরিস্থিতি নিয়ে খুব খারাপ অনুভব করছি। আমার কর্মস্থল, আমাদের অফিস; সামনে কী আছে, কী হতে যাচ্ছে এই অনিশ্চয়তা আমাদের ঘিরে আছে।’ 

 

আরও পড়ুন: প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরেই মাদক সম্রাট এল মেনচোকে গ্রেফতার এবং হত্যা

 

এদিকে, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বুধবার ফোনালাপ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেনবাউম। গোয়েন্দা তথ্য সহায়তায় ওয়াশিংটনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল উল্লেখ করে ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান শেইনবাউম।

 

তিনি বলেন, ‘মেক্সিকোতে কী ঘটছে, পরিস্থিতি কেমন সেসব জানতে চেয়ে তিনি (ট্রাম্প) আমাকে ফোন করেছিলেন। আমিও তাকে জানিয়েছি, অভিযানটি কীভাবে পরিচালিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছ থেকে আমরা গোয়েন্দা সহায়তা পেয়েছি এবং সমন্বয় খুব ভালোভাবেই চলছিল।’

 

এদিকে, সহিংসতার জেরে যুক্তরাষ্ট্র তাদের নাগরিকদের সতর্কবার্তা দিলেও পরে তা প্রত্যাহার করা হয়। দুই দেশের নিরাপত্তা সহযোগিতা ও সীমান্তপারের মাদকবিরোধী কৌশল এখন নতুন করে আলোচনায়।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন