মাত্র তিন চিকিৎসক দিয়েই চলছে দুমকি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

১ দিন আগে
পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার একমাত্র সরকারি হাসপাতালে তিনজন চিকিৎসক দিয়ে চলছে স্বাস্থ্যসেবা। এতে চিকিৎসাসেবা নিতে এসে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন রোগীরা। চিকিৎসক ও জনবল সংকটের বিষয়টি স্বীকার করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাও। তবে সিভিল সার্জন বলছেন, সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

উপজেলার প্রায় ১ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ২০০৮ সালে হাসপাতালটি ৩১ শয্যায় উন্নীত করা হলেও বাড়েনি সেবার মান। দুমকি উপজেলার বিপুল জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবার ভরসাস্থল উপজেলা হাসপাতালটি নানা সংকটে এখন নিজেই রোগী। ১৯৯৭ সালে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং ১৯৯৮ সালে এটি রাজস্ব খাতে আসে।

 

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ৩১ শয্যার এই হাসপাতালে ২২ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৩ জন। আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও), গাইনি, মেডিসিন, সার্জারি ও অ্যানেসথেসিয়া কনসালট্যান্টসহ ৫টি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়া তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির স্বাস্থ্য সহকারীসহ ৬০টি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ২২ জন। জনবল সংকটের কারণে হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।

 

আরও পড়ুন: দুমকিতে টমটম-অটোবাইক সংঘর্ষে শিশুসহ নিহত ২

 

অন্যদিকে, হাসপাতালে পর্যাপ্ত টেকনিশিয়ান না থাকায় এবং যন্ত্রপাতি নষ্ট থাকায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হচ্ছে প্রাইভেট ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। হাসপাতালের আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন দীর্ঘ ৫ বছর ধরে নষ্ট। এছাড়া এক্স-রে মেশিন ও অপারেশন থিয়েটারসহ (ওটি) অধিকাংশ সরঞ্জাম বিকল হয়ে পড়ে আছে। এতে বাধ্য হয়ে রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে হচ্ছে বাইরের ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। ফলে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি অর্থ।

 

দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. জি এম এনামুল হক বলেন, ‘আমাদের দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক এবং তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী সংকট রয়েছে। এছাড়া টেকনিশিয়ানের সমস্যা রয়েছে। সমস্যার বিষয়ে বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরও সমাধান হয়নি।’

 

পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা. মো. খালেদুর রহমান মিয়া বলেন, ‘আমাদের প্রায় সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই চিকিৎসক সংকট রয়েছে। আমরা এই বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। আশা করি খুব শীঘ্রই সমাধান হবে।’

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন