এদিকে প্রতিদিনই কমছে তাপমাত্রা। তীব্র শীতের কাছে অসহায় হয়ে পড়েছে সব শ্রেণি পেশার মানুষ। প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। দিন ও রাতে হিম শীতল বাতাস বইছে। চরম ভোগান্তিতে দিনযাপন করছেন ছিন্নমূল ও অসহায় মানুষ। শীত থেকে বাঁচতে খরকুটো জ্বালিয়ে উষ্ণতা নেয়ার চেষ্টা করছেন তারা।
আলমডাঙ্গা হাটবোয়ালিয়া গ্রামের বাসিন্দা সাইফুল হুদা জানান, কয়েকদিন ধরে শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে চুয়াডাঙ্গায়। আমাদের মত খেটে খাওয়া মানুষ চরম বিপাকে রয়েছেন। শীতের কাছে নাকাল হয়ে পড়েছি। ঘরেও বাইরে একই রকম শীত অনুভূত হচ্ছে। অতিরিক্ত শীতের কারণে শরীর কাঁপছে।
জীবননগর মনোহরপুর গ্রামের রহিম বক্স জানান, মাঠে কাজ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। যার কারণে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মাঠে গিয়ে দাঁড়ানো সম্ভব হচ্ছে না শীতের কারণে। ক্ষেতে জমে থাকা পানিগুলো মনে হচ্ছে বরফ।
আরও পড়ুন: একদিনের ব্যবধানে তাপমাত্রা বাড়লেও রাজশাহীতে কমেনি শীতের দাপট
চুয়াডাঙ্গা উজিরপুর গ্রামের দিনমজুর হাসেম আলী বলেন, ‘প্রতিদিন ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে কাজের সন্ধানে চুয়াডাঙ্গায় আসি। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও কাজ না পেয়ে বাড়ি ফিরতে হয়। শীতের কাছে অসহায় হয়ে বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছি।’
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, চুয়াডাঙ্গার ওপর দিয়ে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। তাপমাত্রা ৭ থেকে ৯ ডিগ্রির ভেতরে ওটা-নামা করছে। বুধবার সকাল ৬টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৬ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর বাতাসের আদ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ।
আরও পড়ুন: মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নওগাঁয় ৬.৭
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকাল ৬টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঠান্ডা বাতাস আর কুয়াশার কারণে শীত বেশি অনুভূত হচ্ছে। দিনের তাপমাত্রা কমে আসছে। বেশিরভাগ সময় দিনের বেলা সূর্যের দেখা মিলছে না। তাপমাত্রা আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান এই আবহাওয়া কর্মকর্তা।
এ দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে শিশু কনসার্টের ডা. মাহাবুবুর রহমান জানান, অতিরিক্ত শীত শিশুদের সহনশীলতার বাইরে চলে যাচ্ছে। সহজেই ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে প্রায় শতাধিক শিশু সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। শিশু ওয়ার্ডেও নিউমোনিয়া শ্বাসকষ্ট, জ্বর, ব্রংকাইটিসসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমসিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসকদের। এ শীতে অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ওই চিকিৎসক।

১ সপ্তাহে আগে
২








Bengali (BD) ·
English (US) ·