মসজিদের ইফতার তহবিলে ১০ হাজার ডলার দান ১০ প্রবাসী বাংলাদেশির

২ সপ্তাহ আগে
বিদেশের মাটিতে থেকেও ভ্রাতৃত্ব ও কৃতজ্ঞতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন ১০ জন বাংলাদেশি অভিবাসী। সিঙ্গাপুরে পবিত্র রমজান মাসে মুসল্লিদের ইফতারের আয়োজনে সহায়তা করতে তারা যৌথভাবে ১০ হাজার সিঙ্গাপুরি ডলার (যা বর্তমান বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৯ লক্ষ টাকার বেশি) সংগ্রহ করে স্থানীয় একটি মসজিদের ইফতার তহবিলে দান করেছেন।

সিঙ্গাপুরে আজ বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) থেকে রোজা শুরু হয়েছে। অন্যান্য মুসলিম দেশগুলোর মতোই পবিত্র রমজান উপলক্ষে দক্ষিণ এশিয়ার উন্নত ও সমৃদ্ধ এ দেশটিতেও মসজিদে মসজিদে ইফতারের আয়োজন করা হয়ে থাকে। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়।

 

স্থানীয় মালাবার মসজিদে স্থানীয়দের পাশাপাশি ইফতার তহবিল গঠনে অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশি অভিবাসীরা। দান করেছেন ১০ হাজার সিঙ্গাপুরি ডলার যার নেতৃত্বে রয়েছেন ব্যবসায়ী রেজাউল করিম।

 

রেজাউল করিম ২০০১ সালে সিঙ্গাপুরে নিজস্ব নির্মাণ ব্যবসা এএজি কন্সট্রাকশন শুরু করেন। এরপর থেকে তিনি নিয়মিত মালাবার মসজিদে যাতায়াত করেন। রমজান মাসে এই মসজিদে নিয়মিত ইফতারের আয়োজন করা হয়। নিজের দেশের মতো ধর্মীয় অনুভূতি ও একাত্মতা খুঁজে পাওয়ার লক্ষ্যে তিনিও এই মসজিদে অনুদান দেয়ার পরিকল্পনা করেন।

 

৪০ বছর বয়সি রেজাউল করিম জানান, ২০২৫ সালের শুরু থেকেই তিনি এবং তার সমমনা ১০ বন্ধু মিলে প্রতিদিন সঞ্চয় শুরু করেন। বছর শেষে জমাকৃত সেই ১০ হাজার ডলার তারা মসজিদের ইফতার তহবিলে তুলে দেন।

 

আরও পড়ুন: মালদ্বীপে রোজা শুরুর তারিখ ঘোষণা

 

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে রেজাউল করিম বলেন, ‘মালাবার মসজিদ প্রতি রমজানে যেভাবে ইফতারের ব্যবস্থা করে তার তুলনায় আমাদের এই অবদান খুবই সামান্য। বাংলাদেশের মসজিদেও আমরা কাপড়, মিষ্টি ও বিভিন্ন সামগ্রী দান করি। এখানে ইফতারের আয়োজন আমাকে আমার দেশের কথা মনে করিয়ে দেয় এবং নিজেকে খুব সমাদৃত মনে হয়।’

 

মসজিদের নির্বাহী চেয়ারম্যান এম. কে. জামিল জানান, এই মসজিদের মুসল্লিদের প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশই বাংলাদেশি যাদের মধ্যে যেমন ব্যবসায়ী রয়েছেন তেমনি আছেন প্রবাসী শ্রমিক ভাইরাও। তিনি বলেন, এই মসজিদটি বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের জন্য একটি মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। নিখরচায় ইফতারের ব্যবস্থা আমাদের অভিবাসী শ্রমিক ভাইদের জন্য বড় ধরনের সহায়তা।’

 

এই ১০ জন বাংলাদেশি এবং আরও অনেক প্রবাসী নিয়মিত এই মসজিদে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করেন। ইফতারের সময় খাবার পরিবেশন এবং ভিড় সামলানোর মতো কঠিন কাজগুলো তারা হাসিমুখে সম্পন্ন করেন। মসজিদের ৫-এস (হাসি, সালাম, সম্ভাষণ ও শিষ্টাচার) নীতি অনুসরণ করে তারা আগত মুসল্লিদের সেবা দিয়ে থাকেন।

 

আরও পড়ুন: রমজানে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের নতুন সময়সূচি

 

২০২৪ ও ২০২৫ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী মালাবার মসজিদে ইফতার করতে আসা মানুষের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। ২০২৫ সালে প্রতিদিন গড়ে ৯০০ জন এবং সপ্তাহান্তে প্রায় ১ হাজার ২০০ জন মুসল্লি এখানে ইফতার করেছেন। চলতি বছর রমজানে এই সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা করছে মসজিদ কর্তৃপক্ষ।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন