আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, অপরাধ দমনে সর্বদাই তৎপর, বাইরে জনগণের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে পুলিশ সক্ষমতা বাড়ানোর কথা বললেও অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সহিংসতা বাড়ার মূল কারণ বিচারহীনতা।
জানা যায়, গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে ময়মনসিংহের ভালুকায় একটি কারখানার শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে মবের মাধ্যমে হত্যা করে মরদেহ গাছে ঝুলিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়। যার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়; যা নাড়া দেয় পুরো দেশের মানুষের বিবেককে।
গত ১০ নভেম্বর ভোরে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাসে দুর্বৃত্তরা আগুন দিলে গাড়ির ভেতরে ঘুমন্ত অবস্থায় জুলহাস নামে এক চালকের মৃত্যু হয়। ত্রিশালে গত ৯ নভেম্বর জুয়ার টাকা না পেয়ে ছেলের হাতে বাবা-মা ও ২৭ নভেম্বর তুচ্ছ বিষয় নিয়ে বন্ধুর হাতে খুন হন মুনতাসির ফাহিম নামে এক শিক্ষার্থী।
আরও পড়ুন: বরিশালে সক্রিয় অটোরিকশা ছিনতাই চোরচক্র, ২ মাসে ১৫ খুন
এ ছাড়া গত ২ ডিসেম্বর নগরীর চরপাড়া এলাকায় মাদক ব্যবসা নিয়ে দ্বন্দ্বে খুন হন রিগান নামে এক যুবক। গেল এক বছরে ময়মনসিংহে এমন ১১১টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ২০২৫ সালে এসব হত্যা মামলায় ২৭৫ জনকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
গত ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের ভালুকায় শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে মবের মাধ্যমে হত্যার পর নির্বাক হয়ে পড়েছেন বাবা-মা ও স্ত্রী। পাশেই কাঁদছিল দীপুর ছোট্ট ছেলেটি। ছবি: সময় সংবাদ
এ ছাড়া গেল বছরে ধর্ষণ মামলা ২৪০টি, ১৮টি অপহরণ, ২৬১টি চুরি এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে ৫১৬টি। এতে উদ্বেগ বেড়েছে জনমনে।
জেলার বাসিন্দারা বলেন, উঠতে-বসতে, বের হতে কখনোই আমরা নিরাপদ বোধ করি না। সবসময় মনে হয় যে চারপাশে অনিরাপদ পরিবেশ। এভাবে যদি মানুষের নিরাপত্তা না থাকে তাহলে এটা খুবই উদ্বিগ্ন হওয়ার বিষয়।
আরও পড়ুন: ২০২৫ সালে ‘খুনের’ শহর ছিল খুলনা
তারা আরও জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তৎপরতার দাবি যতটা জোরালো ততটাই জরুরি কার্যকর উপস্থিতি। সেজন্য প্রয়োজন দৃশ্যমান উদ্যোগ ও কড়া নজরদারি।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আরও বেশি তৎপর হতে হবে সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলোকে জানিয়ে সুজন ময়মনসিংহ মহানগরের সহসভাপতি তৌহিদুজ্জামান ছোটন বলেন, ‘বিচারহীনতার যে সংস্কৃতি এটা অপরাধ প্রবণতা বাড়ার অন্যতম কারণ। এজন্য অপরাধ করলে যে পার পাওয়া যায় না এটার নজির স্থাপন করতে হবে। সেই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোকে আরও তৎপর হলে আমরা আশা করি অপরাধ কমে আসবে।’
তবে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘যে কোনো ধরণের অপরাধ সংঘটিত হলে সেটিকে তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত ও শনাক্ত করে আসামি গ্রেফতারের সক্ষমতা আমাদের রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আমরা সর্বদা তৎপর রয়েছি।’

১ সপ্তাহে আগে
৬








Bengali (BD) ·
English (US) ·