ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইনে সরকারি খরচে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন!

২ সপ্তাহ আগে
ফরিদপুরে ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইনের পাশাপাশি সরকারি খরচে প্রচার করা হয়েছে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে (বিনোদন কেন্দ্র)। সদ্য প্রতিষ্ঠিত ওই প্রতিষ্ঠানের প্রচারের স্বার্থে সেখানে গিয়ে উদ্বোধন করা হয়েছে ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইনের। এছাড়া বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে ক্যাপসুল খাওয়ানো শেষে শিশু ও অভিভাবকদের হাতে ধরিয়ে দেয়া হয়েছে প্রতিষ্ঠানের টিকিট।

শনিবার (১৫ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০ টায় শহরের ঝিলটুলী এলাকায় একটি ভবনের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত ‘প্লে পার্ক’ নামক প্রতিষ্ঠানে ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন সরকারি কর্মকর্তারা। 


সিভিল সার্জন কার্যালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান মোল্লা। এছাড়া সিভিল সার্জন মাহামুদুল হাসানসহ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
যদিও প্রতিবছর ফরিদপুর সদর হাসপাতাল থেকে ক্যাম্পেইনটির উদ্বোধন করা হয়। কিন্তু এ বছর ওই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে গিয়ে সরকারি অনুষ্ঠানটির উদ্বোধন করা হয়।


সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলায় ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ার উপযোগ্য শিশুর সংখ্যা রয়েছে ৩ লাখ ২২ হাজার ৮৪ জন। এসব শিশুর সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৯৪৪টি কেন্দ্রের মাধ্যমে ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়। এতে প্রায় তিন হাজার স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবী কাজ করেন।

আরও পড়ুন: ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খেলে কী হয়?

শহরের গোয়ালচামট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ডা. জাহেদ মেমোরিয়াল শিশু হাসপাতাল, পৌরসভা কেন্দ্রসহ বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, ক্যাপসুল খাওয়ানো শেষে শিশুদের অভিভাবকের হাতে ওই প্রতিষ্ঠানের একটি করে টিকিট ধরিয়ে দেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। তাতে উল্লেখ রয়েছে, টিকিটটি ৩০ মিনিটের জন্য ফ্রি। যার মেয়াদ আগামী ২৫ মার্চ পর্যন্ত।


শহরের টেপাখোলা টিকা কেন্দ্রে এক বছর বয়সী শিশু সন্তানকে ভিটামিন এ খাওয়াতে নিয়ে যান রুবেল হোসেন। 

তিনি বলেন, ‘ক্যাপসুল খাওয়ানো শেষে আমার হাতে একটি টিকিট দেন একজন স্বাস্থ্যকর্মী। তখন সে জানায়, এই টিকিটে পার্কে ঘুরতে পারবেন।’


ওই প্রতিষ্ঠানের সুপারভাইজার নিয়াজ মোর্শেদ বলেন, ‘সিভিল সার্জন অফিসের মাধ্যমে টিকিটগুলো দেয়া হয়নি। আমাদের প্রচারের জন্য শিক্ষার্থীদের দেয়া হয়েছিল। তারা হয়তো টিকা কেন্দ্র থেকে টিকিট দিয়েছে।’


ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহামুদুল হাসান বলেন, ‘স্কুলে ছোট বাচ্চারা না থাকায় আমরা ওই প্রতিষ্ঠানে কেন্দ্র করি, যেহেতু এটি শিশুদের নিয়ে একটি বিনোদনমূলক প্রতিষ্ঠান একারণেই এখানে ক্যাম্পেইন করা হয়। বিনোদন কেন্দ্রে শিশুদের উপস্থিতি বেশি থাকে একারণেই এখানে আয়োজন করা হয়। মূলত শিশুদের ভিটামিন ক্যাপসুল খাওয়ানো নিশ্চিত করতেই এখানে কেন্দ্র করা হয়।’

আরও পড়ুন: একযোগে ১ লাখ ২০ হাজার কেন্দ্রে শুরু ‘এ’ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন

তিনি আরও বলেন, ‘পৌর এলাকার মধ্যে আমাদের কোনো স্বাস্থ্যকর্মী কাজ করে না। এটা পৌরসভা দেখভাল করে থাকে। পৌরসভার স্বাস্থ্যকর্মীরা এধরনের কাজ করে থাকলে ঠিক হয়নি। কেন্দ্র থেকে টিকিট ধরিয়ে দেয়া ঠিক হয়নি, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব।’


বিষয়টি জানতে ফরিদপুর পৌরসভার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মামুনুল ইসলামের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি বারবার ফোনের লাইনটি কেটে দেন।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন