শ্রমিকরা যখন ঘরের গাছপালা ভাজ করা কার্পেট ভর্তি কার্ডবোর্ডের বাক্স নামাচ্ছিলেন, জোহরান মামদানি তখন নতুন বাসভবনের লনে সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন।
তিনি বলেন, ‘নিউইয়র্কবাসী জীবনের গুরুত্বপূর্ণ নানা মুহূর্তে যেসব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছেন, আজ তেমনই একটি রীতির অংশ হতে পেরে রমা ও আমি নিজেদের ভাগ্যবান মনে করছি। সেটা হলো, নগরের আরেক অংশে গিয়ে নতুন একটি অধ্যায় শুরু করা, যেটিকে আমরা এখন আমাদের বাড়ি বলব।’
গত ৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নিউইয়র্ক সিটির ১১১তম মেয়র নির্বাচিত হন জোহরান মামদানি। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সাবেক গভর্নর ও স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যান্ড্রু কুমো ও রিপাবলিকান প্রার্থী কার্টিস স্লিওয়াকে পরাজিত করেন তিনি। মামদানি শহরটির প্রথম মুসলিম।
ম্যানহাটনের অ্যাস্টোরিয়া এলাকায় ভাড়ায় থাকতেন মামদানি। প্রধানত মধ্যবিত্ত পরিবারের আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত এই এলাকাটি অভিবাসীদের আধিক্য এবং বহু সংস্কৃতি ও খাবারের জন্য বিখ্যাত। নিউইয়র্ক সিটি মেয়র নির্বাচনের প্রচারণার সময় মামদানির অন্যতম প্রতিশ্রুতি ছিল নিউইয়র্কে বাড়িভাড়া কমানো। যেমনটা এখন অ্যাস্টোরিয়া এলাকায় কার্যকর রয়েছে।
আরও পড়ুন: ট্রাম্পকে ফোন করে ভেনেজুয়েলায় হামলার নিন্দা জানালেন মামদানি
গত মাসে (৮ ডিসেম্বর) মামদানি নিশ্চিত করেন, তিনি ও তার স্ত্রী রামা দুয়াজি আগামী জানুয়ারিতে গ্রেসি ম্যানশনে উঠবেন। মামদানি জানান, এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ তার পরিবারের নিরাপত্তা। পাশাপাশি গ্রেসি ম্যানশনে থাকার ফলে তিনি নিউইয়র্কবাসীর জন্য তার ‘অ্যাফোর্ডেবলিটি অ্যাজেন্ডা’ তথা সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসন ও জীবনযাত্রার নীতি বাস্তবায়নে আরও মনোযোগ দিতে পারবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এরপর নতুন বছরের প্রথম দিন (১ জানুয়ারি) এক বিশেষ আয়োজনের মধ্যদিয়ে পবিত্র কোরআন হাতে শপথ নেন মামদানি। নিউইয়র্কের ইতিহাসে প্রথম কোনো মেয়রের পবিত্র কোরআন ছুঁয়ে শপথ নেয়ার ঘটনা এটা। শপথ নেয়ার পরই কাজে নেমে পড়েছেন তিনি। এর মধ্যে নতুন ঠিকানা গ্রেসি ম্যানশনে উঠলেন।
এটি নির্মিত হয় ১৭৯৯ সালে এবং বর্তমানে এর মূল্য প্রায় ১০ কোটি ডলার। ২২৬ বছরের পুরনো এই প্রাসাদটি ম্যানহাটনের ইয়র্কভিল এলাকার ইস্ট এন্ড এভিনিউয়ের ৮৮ স্ট্রিটে অবস্থিত এবং ১৯৪০-এর দশক থেকে নিউইয়র্ক সিটির মেয়রদের সরকারি বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
জোহরানের আগের বাসস্থানের তুলনায় এই ঐতিহাসিক বাড়িটি বিশেষ। আগে তিনি যে এক কক্ষের একটি বাসায় থাকতেন, তার জন্য প্রতি মাসে ভাড়া দিতে হতো ২ হাজার ৩০০ ডলার। সেখানে কোনো ওয়াশার-ড্রায়ার ছিল না। ভাঙা পাইপের কারণে প্রায়ই কক্ষে পানি ঢুকে পড়ত।
আরও পড়ুন: ভারতে কারাবন্দি উমর খালিদকে চিঠি লিখলেন মামদানি
জোহরান মামদানি তার শৈশবের বেশিরভাগ সময় এই ম্যানহাটানেই কাটিয়েছেন। সেখানে সেন্ট্রাল পার্কের অপর পাশে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তুকি পাওয়া একটি অ্যাপার্টমেন্টে তিনি থাকতেন। তার বাবা ছিলেন কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক।
অন্যদিকে জোহরান মামদানি দম্পতির নতুন বাসভবনটি প্রায় ১১ হাজার বর্গফুট (১ হাজার ২১ বর্গমিটার) জায়গাজুড়ে বিস্তৃত। এখানে রয়েছে ব্যক্তিগত পাচক, সুশোভিত বলরুম এবং ইস্ট রিভারের দিকে মুখ করা একটি বারান্দা।
সোমবারের বক্তব্যে ৩৪ বছর বয়সি জোহরান মামদানি বলেন, মেয়রের বাসভবনে ওঠার বিষয়টি তার একটি প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। তার প্রতিশ্রুতিটি ছিল, সাধারণ মানুষ যেভাবে জীবনযাপন করে থাকে, সেভাবেই তার সরকার চলবে। তবে মামদানি বলেছেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে তাকে মেয়রের বাসভবনে ওঠার সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
মেয়র আরও বলেছেন, গ্রেসি ম্যানশনে স্থায়ী হওয়ার পর তিনি এটিকে নিউইয়র্কবাসী, বিশেষ করে যারা সাধারণত এমন জায়গায় যাওয়ার সুযোগ পান না, তাদের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে চান। নতুন বসবাসস্থল আপার ইস্ট সাইড এলাকায় আগের মতো বহু-সাংস্কৃতিক পরিবেশ পাবেন না জোহরান মামদানি। এটি নগরের অন্যতম অভিজাত এলাকা। এখানকার প্রায় তিন-চতুর্থাংশ অধিবাসী শ্বেতাঙ্গ।
আরও পড়ুন: নিউইয়র্ক সিটির মেয়র / দায়িত্ব নিয়েই ইসরাইল সমর্থিত নির্বাহী আদেশ বাতিল করলেন মামদানি
]]>
২ দিন আগে
১








Bengali (BD) ·
English (US) ·