বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ডাম্পিং স্টেশনের কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।
সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ভেতরে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ময়লার ভাগাড় নির্মাণের বিরোধের মধ্যেই ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের মূল ফটকের সামনে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাতে ফেলা বর্জ্য ফেলা হয়। বুধবার ভোরে পার্কের মূল ফটকের সামনে বর্জ্যের স্তূপ দেখতে পায় কর্তৃপক্ষ।
পার্ক কর্তৃপক্ষ জানায়, হাতির ভাস্কর্যশোভিত প্রধান ফটকের সামনে, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য পড়ে থাকতে দেখা যায়। ধারণা করা হচ্ছে, রাতের কোনো এক সময় সেখানে এসব বর্জ্য ফেলে যাওয়া হয়।
জাতীয় উদ্যানের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আরিফুর ইসলাম বলেন, ‘আমরা সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি উদ্যানের সামনে কয়েক গাড়ি ময়লা ফেলানো হয়েছে। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। গবেষণা করতে আসার শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীরা এখানে প্রবেশে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তীব্র দুর্গন্ধে কর্মকর্তারাও টিকতে পারছে না।’ তবে, সমালোচনার মুখে এদিন দুপুরেই বর্জ্য সরিয়ে ফেলে সিটি কর্পোরেশন।
দেশের সবচেয়ে বড় এই প্রাকৃতিক বনভূমির কেন এমন পরিণতি? এ প্রশ্নের উত্তর মেলে মাত্র ২০০ মিটার সামনে গেলেই। জাতীয় উদ্যানের দেয়াল ভেঙে ভিতরে নির্মাণ করা হচ্ছে ময়লার ভাগাড়। যার নেতৃত্ব দিচ্ছে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন। রাতারাতি এমন কাণ্ডে ক্ষুব্ধ বন বিভাগ। চিঠি দিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানানোর পরদিনই উদ্যানের প্রধান ফটক হয়ে যায় ময়লার স্তূপ।
আরও পড়ুন: এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানে দাওয়াত না দেয়ায় বিদ্যালয়ে তালা!
জাতীয় উদ্যানের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আরিফুর ইসলাম বলেন, ‘আমাদের অনুমতি ছাড়াই দেয়াল ভেঙে এই নির্মাণ কাজ চালানো হচ্ছে। জাতীয় উদ্যানের ভেতরে ময়লার ভাগাড় হলে পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। হুমকিতে পড়বে জীববৈচিত্র্য। তাই আমরা আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়ে বিষয়টি সিটি কর্পোরেশনকে জানাই। আমরা আশা করি সিটি কর্পোরেশন সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করবেন।’
গাজীপুরে ময়লার জন্য উপযুক্ত ডাম্পিং স্টেশন যেমন প্রয়োজন তেমনি বনের পাশে ময়লার ভাগাড় হলে হুমকিতে পড়বে পরিবেশ। পরিদর্শন শেষে এমনটাই মত বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) বিশেষজ্ঞ দলের।
প্রতিনিধি দলের সদস্য বেলার রিসার্চ অফিসার রাইসুল ইসলাম সময় সংবাদকে বলেন, ‘গাজীপুরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে আমরা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছি। এখানে স্থায়ী কোনো ডাম্পিং স্টেশন নেই। তেমনি বনও আমাদের রক্ষা করতে হবে। কিন্তু এই ময়লার ডাম্পিং স্টেশনটি বনের পাশে করাটা কতটা যুক্তিসঙ্গত সেটা আরও আগেই ভেবে দেখা উচিত ছিল। খালি চোখে দেখে মনে হচ্ছে এখানে যদি ময়লার ভাগাড় তৈরি করা হয় তবে বনের ক্ষতি হবে।’
আরও পড়ুন: হরিজন সম্প্রদায়ের মা হারা মেয়ের বিয়েতে হাজির হয়ে প্রশংসায় ভাসছেন গাজীপুরের ডিসি
এ বিষয়ে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়ে আমাদেরকে বিষয়টি অবগত করেছে বন বিভাগ। সিটি কর্পোরেশন এবং বড় বিভাগ দুটিই অত্যন্ত প্রয়োজনীয় দুটি দফতর। আশা করি তারা সবাই বন রক্ষার বিষয়টি মাথায় রাখবেন।’
এদিকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দুই দফরের এমন কাণ্ডে বিব্রত স্থানীয় বাসিন্দারা। এরইমধ্যে মানববন্ধন করে সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমের প্রতিবাদও জানিয়েছে তারা।
এরইমধ্যে সিটি করপোরেশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়ে এই ডাম্পিং জোন নির্মাণ কাজ বন্ধ করার নির্দেশনা দিয়েছে পরিবেশ বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়।
বিষয়টি নিয়ে জানতে দফায় দফায় যোগাযোগ করলেও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে রাজি হননি সিটি করপোরেশনের প্রশাসক। তবে মোবাইল ফোনে নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ সোহেল হাসান বলেন, ‘পরিবেশ বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ের চিঠিটি এরই মধ্যে আমরা হাতে পেয়েছি। এরপরই আজ বৃহস্পতিবার মৌখিক নির্দেশনায় এই ময়লার ভাগাড় তৈরির কাজ বন্ধ রাখতে বলেছি। এর আগে প্রধান ফটকে বর্জ্য ফেলার যে দায় সিটি কর্পোরেশনের ওপর দেয়া হয়েছিল তা মিথ্যা। রাতের আঁধারে তৃতীয় পক্ষ এখানে ময়লা ফেলে আমাদের ওপর দায় চাপিয়েছে।’

১ সপ্তাহে আগে
২








Bengali (BD) ·
English (US) ·