এ অবস্থায় কৃষি জমিতে সেচের পানি না পেয়ে অনেকটাই বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। তবে জেলা প্রশাসন জানায়, দ্রুত বাঁধ অপসারণে পদক্ষেপ নেয়া হবে।
সরেজমিনে ঘটনাস্থল ঘুরে দেখা যায়, ধরখার ইউনিয়নের বনগজ আখাউড়া সড়কের পাশে তিতাস নদীর বিভিন্ন স্থানে বাঁধ নির্মাণ করে রাতের আধারে ভেকু দিয়ে কেটে ট্রাক্টরে করে বালি এবং মাটি নিয়ে যাচ্ছে দুর্বৃত্তরা। গত দুই মাস ধরে এমন পরিস্থিতি চললেও স্থানীয় প্রশাসন অনেকটাই নীরব ভূমিকা পালন করছে।
অপরদিকে ভূমি খেকোরা প্রভাবশালী হওয়ায় এ নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলছেন না স্থানীয়া। তবে ভুক্তভোগী কৃষকরা বলছেন, নদীর বিভিন্ন অংশে বাঁধ নির্মাণ করে বালি মাটি কেটে নেয়ার কারণে পানি না পেয়ে ঝুঁকিতে পড়েছে কৃষি জমি। বাঁধের কারণে জমিতে সেচের পানি দিতে না পেরে অনেকটাই বিপাকে পড়েছেন তারা।
আরও পড়ুন: ধান ছেড়ে তামাক চাষ, পরিবেশ বিপর্যয়ের দায় নেবে কে?
কৃষক মো. কামাল হোসেন সরকার বলেন, ‘আমরা চাই, এই নদী খনন হোক। এখানে নদীর মাঝখানে বাঁধ দেয়ার কারণে আমরা ক্ষেতে পানি দিতে পারি না। জমিতে পানি না দেয়ায় জমিও শুকিয়ে যাচ্ছে। আমরাও সমস্যায় আছি। আমরা চাই, সব সময় যেন নদীতে পানি থাকে, তাহলে আমাদের জমিতে পানি দিতে সুবিধা হবে।’

মো. শাহ আলম নামে আরেক কৃষক বলেন, ‘রাতের বেলা এখানে মাটি কেটে নিয়ে যায়। যারা কাটে তারাই নদীতে বাঁধ দিয়ে রাস্তা করে নিয়েছে। নদীর মাঝখানে ভরাট করে রাস্তা করার কারণে নদীর পানি এদিকে আসতে পারে না। পানি না আসায় আমরাও জমিতে পানি দিতে পারি না। অনেক কষ্ট করে জমি চাষ করতে হচ্ছে। আমরা চাই, এই বাঁধ যেন না থাকে। নদী যেন নদীর মতোই থাকে।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনজুর রহমান জানান, নদীতে কৃত্রিমভাবে বাঁধ দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। যদি কেউ করে থাকে দ্রুত এ বিষয়ের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
আরও পড়ুন: ধসে পড়ল আশুগঞ্জ স্টিল রাইস সাইলোর নির্মাণাধীন দুই টাওয়ার
অপরদিকে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দিদারুল আলম জানান, নদীর বাঁধটি অপসারণের জন্যে দ্রুত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে এবং বাঁধটিকে অপসারণ করা হবে।
গত দুই মাস ধরে প্রভাবশালী ভূমি খেকোরা নদীর প্রায় আধা কিলোমিটার অংশ জুড়ে বড়-বড় গর্ত করার মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকার মূল্যের বালু ও মাটি লুটে নিয়ে যায়।