বেনাপোল বন্দর: একদিনে বাণিজ্যে ১১ কোটি, ভ্রমণে ১২ লাখ টাকা আয়

১ সপ্তাহে আগে
যশোরের বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারত-বাংলাদেশে এক দিনে বাণিজ্য ২৪৮ ট্রাক বাণিজ্য হয়েছে এবং পাসপোর্টধারী যাতায়াত করেছেন ১৩৭৮ জন। এতে বাণিজ্য খাতে প্রায় ১১ কোটি টাকা এবং ভ্রমণ খাতে প্রায় ১২ লাখ টাকা রাজস্ব আহরণ হয়েছে।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকালে বন্দরের সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) কাজী রতন বেনাপোল রুটে বাণিজ্য ও পাসপোর্টধারী যাতায়াতের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।


স্থানীয় মানিচেঞ্জার ব্যবসায়ীদের তথ্য মতে, মঙ্গলবার বাংলাদেশি ১০০ টাকার বিনিময়ে মিলেছে ৭৪.২০রুপি এবং ভারতীয় ১০০ টাকায় বাংলাদেশি টাকা পাওয়া গেছে ১৩৩ টাকা। প্রতি ইউএস ডলারের ক্রয় মূল্য ছিল ১২৫ টাকা এবং বিক্রয় মূল্য ১২৬ টাকা।


বন্দরের তথ্য মতে, মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে বেনাপোল ও পেট্রাপোলে আমদানি ও রফতানি বাণিজ্য শুরু হয়। এদিন দিনভর ভারত থেকে আমদানি হয়েছে ১৭৮ ট্রাক পণ্য। আমদানি পণ্যের মধ্যে ছিল শিল্প কলকারখানার কাঁচামাল, তৈরি পোশাক, কেমিকেল, শিশু খাদ্য, মেশেনারিজ দ্রব্য, অক্সিজেন, বিভিন্ন প্রকারে ফল, চাল, পেঁয়াজ, মাছসহ বিভিন্ন পণ্য।


আরও পড়ুন: বেনাপোল বন্দর: একদিনে বাণিজ্যে ১২ কোটি, ভ্রমণে ১৩ লাখ টাকা আয়


দেশীয় শিল্প সুরক্ষার কারণ দেখিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নিষেধাজ্ঞায় সুতাসহ কয়েকটি পণ্য আমদানি সরকার পরিবর্তনের পর থেকে বন্ধ আছে।


বাংলাদেশি পণ্য ভারতে রফতানি বাণিজ্য হয়েছে ৫৮  ট্রাক পণ্য।  এসব পণ্যে মধ্যে উল্লেখ্য ছিল, বসুন্ধরা টিসু, মেলামাইন, কেমিকেল মাছ ও ওয়ালটন পণ্যসামগ্রী। ভারত সরকারের নিষেধাজ্ঞায় কারণে বেনাপোল স্থলপথে পাট, পাটজাত দ্রব, তৈরি পোশাক,কাটের তৈরি আসবাব পত্রসহ কয়েকটি পণ্য রফতানি হচ্ছে না।


এ বিষয়ে বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সামসুর রহমান জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে প্রতিদিন প্রায় ৭০০ ট্রাক পণ্যের বাণিজ্য হতো। তবে গত বছরের ৫ আগস্টের পর দুদেশের একের পর এক বাণিজ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞায় আমদানি-রফতানি ও পাসপোর্টধারী যাতায়াত অর্ধেকের নিচে কমে এসেছে।


আরও পড়ুন: বাণিজ্যের আড়ালেই পাচার হয় ৭৫ শতাংশ অর্থ, নেপথ্যে কী?


তিনি আরও জানান, গত এক বছর ধরে বন্ধ দুই দেশের বাণিজ্য বৈঠক। এতে দুই দেশের ব্যবসায়ীরাই বড় ধরনের বিড়ম্বনা ও ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এতে গত বছরে ও তার আগের বছরের চেয়ে দেড় লাখ টনের বেশি পণ্য আমদানি কমেছে। বাণিজ্যের পরিবেশ ফেরাতে সরকারের পদক্ষেপ কামনা করেন তিনি।


ইমিগ্রেশন তথ্য জানান, ভোর সাড়ে ৬টা থেকে বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দরের মধ্যে শুরু হয় পাসপোর্টধারী যাতায়াত। মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৬টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে মোট যাতায়াত করেছে ১৪৪৯  জন। এদের মধ্যে বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারতে গেছে ৭৯৯ জন। ভারতে যাওয়া যাত্রীদের মধ্যে বাংলাদেশি ছিল ৫৭৩ জন, ভারতীয় ২১৮ জন ও অনান্য দেশের ৮ জন। এ সময়  ভারত থেকে ফিরেছে  ৫৭৯  জন। ভারত ফেরত যাত্রীদের মধ্যে বাংলাদেশি ছিল ৪৪০ জন, ভারতীয় ১৩৭ জন।  অনান্য দেশের ছিল দুজন। ৫ আগস্টের পর ভিসা জটিলতায় পাসপোর্টধারী যাতায়াত কমে যায়।


এ দিকে বেনাপোল রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার আয়নাল হাসান জানান,  রেল পথে এসিআই মটরস নামে আমদানিকারকের কেবল  ভারত থেকে  ট্রাক্টর আমদানি হয়। গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে  রেলে অনান্য পণ্যের আমিদানি এবং ভারতের নিষেধাজ্ঞার কারণে ঢাকা-বেনাপোল-কলকাতা রুটে দুই দেশের মধ্যে যাত্রীবাহী রেল চলাচল বন্ধ রয়েছে।

 

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন