বুক ভরে শ্বাস নিতে এসে নাভিশ্বাস, হাতিরঝিল যেন মশা উৎপাদনের প্রকল্প

১ সপ্তাহে আগে
ভবনের চাপে ক্লান্ত নগরী ঢাকার বাসিন্দাদের একটু দম ফেলার জায়গা হাতিরঝিল। কিন্তু সেখানে গেলেই উল্টো দম বন্ধ হওয়ার অবস্থা! উৎকট গন্ধে গা গুলিয়ে আসে। সঙ্গে মশার যন্ত্রণায় স্থির থাকাই দায়! কিন্তু কেন প্রশান্তি দেয়ার বদলে এমন বিরক্তিকর হয়ে উঠলো হাতিরঝিলের পরিবেশ?

সম্প্রতি হাতিরঝিল ঘুরে দেখা যায়, ঝিলপাড়ের বিভিন্ন জায়গায় ছড়ানো ছিটানো ময়লার ভাগাড়। কুচকুচে কালো পানিতে  উঠছে বুদবুদ। উৎকট দুর্গন্ধে শ্বাস নেয়াই দায়। ঝিলপাড়ের খোলা জায়গায় দাঁড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ঘিরে ধরে অগুনতি মশার ঝাঁক। যায়গায় যায়গায় ভাসমান আবর্জনার স্তুপে মশার লার্ভা দেখলে মনে হবে, নগরবাসীর জন্য জ্বলের ধারে খোলা বাতাসে দু’দন্ড বসে বুক ভরে শ্বাস নেয়ার ঠিকানা হাতিরঝিল যেন মশা উৎপাদনের এক বিশাল প্রকল্প!


দর্শনার্থীরা জানান, একসময় এখানে বসার জন্য মানুষ ভিড় করত। এখন দুর্গন্ধে নাক চেপে দ্রুত স্থান ত্যাগ করতে হয়। একবার যারা ঘুরতে আসছেন, পরিবেশের এই বেহাল দশায় দ্বিতীয়বার ফেরার ইচ্ছে হারিয়ে ফেলেন। এক মুহূর্তও বসা যায় না মশার উপদ্রুপে।


হাতিরঝিলে পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসেছিলেন আরিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‌‘একটু ভালো সময় কাটাতে এসেছিলাম কিন্তু পানিতে যে বিশ্রী গন্ধ তাতে টেকাই দায়! মনে হচ্ছে কোনো খোলা ড্রেনের পাশে দাঁড়িয়ে আছি।’


শুধু পানি নয়, হাতিরঝিলের ফুটপাত ও সড়কগুলোতেও চোখে পড়ে যত্রতত্র ময়লার স্তূপ।


নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, হাতিরঝিল প্রকল্প তৈরির সময় যে পরিকল্পনা নেয়া হয়েছিল সেটি ব্যহত হওয়ার কারণে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।


নগর পরিকল্পনাবিদ ও হাতিরঝিলের অন্যতম ডিজাইনার স্থপতি ইকবাল হাবিব সময় নিউজকে বলেন, হাতিরঝিলের মূল পরিকল্পনায় যে ড্রেনেজ ব্যবস্থা ছিল, দুর্ভাগ্যবশত আজও তা কার্জকর হয়নি। যেখানে ড্রেনেজগুলো সুয়ারেজ আউটলাইন পাইপের সাথে যুক্ত করা হবে, যাতে কোনো ড্রেনের পানি ঝিলের পানিকে দুষিত করতে না পারে। কারণ, ঝিলে সরাসরি নর্দমার পানি পড়া বন্ধ না করলে কোনোভাবেই ঝিলের জৌলুস ফেরানো সম্ভব নয়।

 

আরও পড়ুন: পুরানোগুলো অসম্পূর্ণ, তবু তিন প্রকল্প আনছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ


এছাড়া কারওয়ান বাজার অংশ নিয়ে নানামুখি সমস্যা বা প্রতিকুলতা আগে থেকেই রয়ে গেছে। এতে মুল পরিকল্পনাকেও ব্যাহত করেছে বলেও জানান তিনি। বলেন, এই অংশের জন্য প্রায় ১০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। যা সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীনে এক্সপ্রেসওয়ের সাথে অনুমোদন দেয়া হয়। এর কাজ এক্সপ্রেসওয়ের সাথেই দ্রুততম সময়ের মধ্যে শেষ করে বুঝিয়ে দেয়ার কথা।


এছাড়া অন্য অংশের জন্য ইতোমধ্যে ওয়াসার একটি প্রজেক্ট অনুমোদন পেয়েছে যা ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে। ফলে এই সমস্যার সমাধান হবে বলেও আসা করেন এই স্থপতি।


রাজউক-এর এক কর্মকর্তা সময় নিউজকে জানান, দর্শণার্থীদের অসচেতনতার পাশাপাশি হকারদের উপদ্রুব এই মেগা প্রজেক্টের সৌন্দর্যকে আরও বেশি হুমকির মুখে ফেলেছে। কর্তৃপক্ষ নিয়োমিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালালেও তা স্থায়ী হচ্ছে না বললেই চলে।


তিনি বলেন, কারওয়ান বাজার অংশ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের দায়িত্বে রয়েছে। ফলে এই অংশের ব্যাপারে তারা ভাল বলতে পারবেন।


এক্সপ্রেসওয়ের দায়িত্বে থাকা প্রকল্প পরিচালক এ এইচ এম আকতারের সঙ্গে কথা বলার জন্য তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন