বিদেশযাত্রার স্বপ্ন পূরণে ‘আমলাতান্ত্রিক বাধা’, জনশক্তি রফতানিকে স্বচ্ছ ও দালালমুক্ত করার তাগিদ

৩ সপ্তাহ আগে
দেশের অর্থনীতির কঠিন সময়েও প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠিয়ে রাখেন অর্থনীতির চাকা সচল। তবে একজন শ্রমিকের বিদেশ যাত্রার পথ এখনো দীর্ঘ সংগ্রামের মতো। দ্বারে দ্বারে ঘুরে ক্ষয় হয় সময়, হারানো যায় অর্থ, ভাঙে স্বপ্ন। সামাজিক মর্যাদা ও অধিকার থেকে বঞ্চিত থাকার অভিযোগও থাকছে এই প্রবাসীদের। শ্রমবাজার রক্ষা আন্দোলনের মতে, ধীরগতির অভিবাসন প্রক্রিয়া আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় ভরা। এই পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জনশক্তি রফতানি হতে হবে স্বচ্ছ ও দালালমুক্ত।

দারিদ্র্যের কষাঘাত থেকে বাঁচতে ধারদেনা করে বিদেশে যাওয়ার স্বপ্ন দেখা ফাহিম ও রাতুলের সঙ্গে কথা হয় সময় সংবাদের। দীর্ঘ প্রক্রিয়া পেরিয়ে ভিসা মিললেও আটকে আছে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ছাড়পত্র। দিন যত গড়াচ্ছে, ততই বাড়ছে ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার দুশ্চিন্তা।

 

তারা জানান, দুই মাস আগে ভিসা পেলেও এখনো ম্যানপাওয়ার ক্লিয়ারেন্স মিলছে না। ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়তে হবে; এই আশঙ্কাই এখন সবচেয়ে বড়। বারবার অফিসে এসে ঘুরে গেলেও সঠিক কোনো তথ্য মিলছে না।

 

আরও পড়ুন: বিএমইটির জটিলতায় সংকুচিত হচ্ছে সৌদি শ্রমবাজার?

 

অভিবাসন প্রত্যাশীদের মতে, সব কাগজপত্র ঠিক থাকার পরও ছাড়পত্র না দেয়ার কোনো যুক্তিসংগত কারণ নেই।

 

অথচ এই শঙ্কা, অনিশ্চয়তা আর চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে যখন অভিবাসন প্রত্যাশীরা পৌঁছান স্বপ্নের গন্তব্যে, তখন তারাই হয়ে ওঠেন রাষ্ট্রের ‘সোনার ডিম পারা হাঁস’। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্সে সচল থাকে দেশের অর্থনীতির চাকা। কিন্তু সম্মান ও অধিকার নিশ্চিতের প্রশ্নে প্রবাসীরা বরাবরই থেকে যান উপেক্ষিত।

 

প্রবাসীরা বলেন, আমাদের উপার্জিত টাকাতেই দেশ চলে। তবে অনেক কোম্পানিতে নেই পর্যাপ্ত ইনস্যুরেন্স সুবিধা; দুর্ঘটনা ঘটলে শ্রমিকদের পরিবার একেবারে অসহায় হয়ে পড়ে। তাই সরকারের কাছে দাবি, দ্রুত পেনশনের ব্যবস্থা করা হোক। বিদেশ যাত্রার সময় যেন বাংলাদেশি বিমানবন্দরে কোনো ধরনের হয়রানি না হয় সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

 

পরিসংখ্যান বলছে, গত বছরের তুলনায় ২০২৫ সালে প্রবাসী কর্মীর সংখ্যা বেড়েছে। গত পাঁচ অর্থবছরে ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে রেমিট্যান্স প্রবাহও। অর্থনীতিতে যাদের অবদান এত বড়, সেই জনশক্তি রফতানিতে কেন এত অস্বচ্ছতা, জটিলতা ও হয়রানি-এই প্রশ্ন তুলছেন খোদ বায়রা সংশ্লিষ্ট নেতারাও।

 

শ্রমবাজার রক্ষা আন্দোলনের অর্থ সম্পাদক মেহেদী হাসান বলেন, ‘সৌদি আরব বাংলাদেশের একটি বড় শ্রমবাজার। কিন্তু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে এই বাজারে সম্ভাবনার পুরোটা কাজে লাগানো যাচ্ছে না।’

 

আরও পড়ুন: প্রবাসীরা ট্যাক্স ছাড়া কয়টি মোবাইল ফোন আনতে পারবেন, জানাল সরকার

 

আন্তর্জাতিক অভিবাসন দিবসে অভিবাসন খাতে বিদ্যমান জটিলতা দূর করে স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং দালালচক্রের দৌরাত্ম্য কমানোর তাগিদ দিয়েছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা। ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব বলেন, ‘বিদেশে শ্রমিক পাঠানোর প্রক্রিয়া দ্রুত ও সহজ করতে হবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অভিবাসন প্রত্যাশীদের জন্য আর্থিক সহযোগিতার ব্যবস্থাও রাখা যেতে পারে।’

 

মাসের পর মাস ধরে বিএমডিতে ছাড়পত্রের অপেক্ষায় আছেন বহু অভিবাসন প্রত্যাশী। এর মাঝেই ২০২৫ সালের ১৬ই ডিসেম্বর পর্যন্ত বিদেশে গিয়েছেন ১০ লাখ ৭১ হাজার ৩৯৫ জন কর্মী। যাদের বেশিরভাগই গিয়েছেন নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে এবং জিনিসপত্র ওঠানামার কাজে। তাইতো খাদ সংশ্লিষ্ট সবাই বলছেন, হারভাঙ্গা এই শ্রমের মর্যাদাধিক রাষ্ট্র সহজ হোক অভিবাসীদের জীবন এবং অভিবাসন প্রক্রিয়া।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন