সময় সংবাদ: আপনার ক্রিকেটে আসার গল্পটা কেমন ছিল?
রবিন: ক্রিকেটে আসার গল্পটা খুবই সিম্পল ছিল, চাইল্ডহুড (ছোটাবেলায়) বয়সে বাংলাদেশের খেলা দেখে একটা অনুপ্রেরণার সৃষ্টি হয়। সাকিব ভাই, তামিম ভাই— টিভিতে দেখতাম তাদের খেলা, তো তখন থেকেই একটা অনুপ্রেরণা কাজ করতো যে আমিও একদিন খেলবো ইনশাল্লাহ। কিন্তু সেক্ষেত্রে বাসায় অনেক বকাঝঁকা খেতে হতো, বাট ওইটা কখনো মাথায় না নিয়ে আর কি খেলাধুলাটা চালিয়ে যেতাম।
তো ফার্স্ট অব অল, ওনারা কেউই জানতো না বাসায়, তো পালিয়ে পালিয়ে আমার বেস্ট ফ্রেন্ড আছে নাঈম- ও আমাকে ক্লেমন ক্রিকেট একাডেমিতে নিয়ে গিয়েছিল প্রথমে। বাসায় না জানিয়েই প্র্যাক্টিস শুরু করি। ওই খান থেকেই শুরু হয়, তারপর বাসায় যখন দেখছে যে আমাকে থামানো যাচ্ছে না তখন তারাও আমার সাথে রাজি হয়।
সময় সংবাদ: এখন বাসা থেকে কেমন সাপোর্ট পাচ্ছেন?
রবিন: বাসার পরিস্থিতি এখন টোটালি ডিফারেন্ট আর কি। এখন আমার ভালো সময়েও তারা আমার পাশে থাকে, খারাপ সময়ে তারা সবচেয়ে বেশি আমার পাশে থাকে।
সময় সংবাদ: বাংলাদেশের ক্রিকেটে আপনি কাকে আইডল মনে করেন?
রবিন: না আইডল বলতে কেউ নেই, সবার খেলায় ভালো লাগে। আমি একজন ওপেনার হিসেবে..... লিটন দা আছে, তারপর তামিম ইকবাল ভাই ছিল, ওনার সাথে ওপেন করার অনেক ইচ্ছা ছিল বাট হয়নি। সেক্ষেত্রে সবাইকেই ভালো লাগে, সাকিব আল হাসান ভাই আছে, সিনিয়র যে ক’জন ক্রিকেটার আছে সবাইকেই ভালো লাগে..... রিয়াদ ভাই, মুশফিক ভাই, লিটন দা, আপকামিং যারা আছে সবার ব্যাটিংই ভালো লাগে।
সময় সংবাদ: প্রথমবার যখন বিপিএলে দল পাওয়ার খবরটা পেলেন, তখন আপনার অনুভূতি কেমন ছিল?
রবিন: আসলে আমি অকশনটা দেখছিলাম, আমার এনসিএলের খেলা চলছিল, তো আমি শেষ করে মাত্র রুমে ঢুকছিলাম। তখনই আর কি আমার সিরিয়াল আসছে, ‘সি’ ক্যাটাগরি ১২ নম্বর সিরিয়াল। তো আমি দেখছিলাম যে আসলে কেউ নেয় কি না...... ফার্স্ট টাইম খুবই ভালো অনুভূতি ছিল, যে না আমি হয়ত বা চান্স পেতে পারি। কারণ আমার প্রিভিয়াস পারফরম্যান্স ভালো ছিল, একটা এক্সপেক্টেশনের জায়গা ছিল... আলহামদুলিল্লাহ।
আরও পড়ুন: এবার রিশাদের সাশ্রয়ী বোলিং, জয়ে শীর্ষে উঠল হোবার্ট
সময় সংবাদ: বিপিএলে খেলার জন্য নিজেকে কীভাবে প্রস্তুত করছেন?
রবিন: কোচ আছেন যারা, যারা সিনিয়র ক্রিকেটার আছেন, তাদের থেকে জানার চেষ্টা করছি যে কি কি ফেইস করা লাগে বা ওইখানে কতটা কঠিন পরিস্থিতিতে পরতে পারি... তো ওইগুলা নিয়েই কাজ করতেছি। আমার প্রস্তুতি আমি নিজে থেকেই নিচ্ছি আর কি।
সময় সংবাদ: কোন দিকটা বেশি ইমপ্রুভ করার চেষ্টা করছেন?
রবিন: আমি এবার পাওয়ার হিটিং নিয়ে কিছু কাজ করেছি। ইনশাল্লাহ যদি সুযোগ পাই, যদি ব্যাটে-বলে লাগে ইনশাল্লাহ চেষ্টা করবো ভালো কিছু করার।
সময় সংবাদ: আপনি যখন কোনো কিছু নিয়ে সমস্যায় পড়েন, কিংবা কোনো কিছু নিয়ে কাজ করা দরকার, ব্যক্তিগতভাবে তখন আপনি কার সহযোগিতা নেন?
রবিন: যখন বিকেএসপিতে ছিলাম ছোটোবেলায়, তখন বেশ কয়েকজন কোচ ছিলেন, স্পোশালি টুটুল স্যার, অঙ্কন স্যার ছিলেন, ওনারা আমাকে গাইডলাইন করতেন। বাট আমি যখন বের হয়ে যাই বিকেএসপি থেকে, তখন আর কি নারায়ণগঞ্জ ক্রিকেট একাডেমিতে জাহাঙ্গীর আলম স্যার ছিলেন, উনার কাছে যাওয়া হতো। এখন যদি সময় না পাই, যদি বাসায় যাওয়ার সময় না থাকে, তো সেক্ষেত্রে আমি মাসকো ক্রিকেট একাডেমিতে গিয়ে প্র্যাক্টিস করি। সেখানে ভালো প্র্যাক্টিস হয়, ফ্যাসিলিটিসও (সুযোগ-সুবিধা) ভালো। সেখানে সালাউদ্দিন স্যার আছেন, মোস্তাকিম স্যার আছেন, উনারা খুবই হেলপফুল। সালাউদ্দিন স্যার যেহেতু এখন নাই, আমি যখনই সময় পাই মোস্তাকিম স্যারের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করি।
দলে সুযোগ পেয়ে সতীর্থদের কাছ থেকে কেমন সহযোগিতা পাচ্ছেন?
রবিন: আসলে এখনও আমাদের টিম প্র্যাক্টিসটা হয়নি, বাট সবাই হেলপফুল, সবাই চেনা-জানা, সবাই বড় ভাই, সবচেয়ে ছোট মনে হয় আমিই। বড় ভাই, সমবয়সি যারা আছেন, সবাই অনেক হেলপফুল।
আরও পড়ুন: ভারতকে লজ্জা দিয়ে অ-১৯ এশিয়া কাপের চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান
সময় সংবাদ: দল পাওয়ার পর সবার আগে কাকে খবরটা দিয়েছিলেন?
রবিন: সবাই আসলে অকশনটা দেখতেছিল, আমার কাছের যারা ছিল তারাই আসলে আমাকে ফোন করছিল। তো ওইভাবে স্পেশালি কাউকেই বলা হয়নি, কারণ যারা স্পেশাল মানুষ তারা টিভির সামনেই ছিল।
সময় সংবাদ: বিপিএল আর ঘরোয়া ক্রিকেটের মধ্যে সবচেয়ে বড় পার্থক্য আসলে কি মনে হয়েছে আপনার কাছে?
রবিন: আসলে আমি ফার্স্ট টাইম বিপিএলে, ঘরোয়া লিগে আমি তিন বছর ধরে খেলছি। তো আমি এখনও বিপিএলে ওইভাবে আমেজটা নিতে পারিনি। তো, আমি জানি না কি রকম পার্থক্য হবে, বাট আমি মনে করি আমি যদি আমার সেরাটা খেলতে পারি তাহলে অবশ্যই ভালো কিছু হবে।
সময় সংবাদ: ভবিষ্যতে নিজেকে কোথায় দেখতে চান?
রবিন: অবশ্যই নিজেকে ওয়ার্ল্ডক্লাস হিসেবেই দেখতে চাই। ইনশাল্লাহ ন্যাশনাল টিমে সুযোগ পেলে আমি আমার যে অ্যাবিলিটি আছে, দেশকে যে সার্ভিসটা দিতে পারি আমি... আমি ওইটাই চেষ্টা করবো যে আমার যতটুকু অ্যাবিলিটি আছে আমি যেন আমার দেশকে দিতে পারি।
সময় সংবাদ: আপনার জীবনে সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা কে?
রবিন: অনুপ্রেরণা আমা মা। ছোটোবেলা থেকেই সাপোর্ট করতো। আমার দুলাভাই আছে, আমার বোন আছে— তারা তিনজনই আমাকে সবসময় সাপোর্ট করতো।
সময় সংবাদ: যারা এখনো সুযোগ পাওয়ার অপেক্ষায় আছে, তাদের উদ্দেশ্যে কি বলতে চান?
রবিন: তাদের উদ্দেশ্যে তেমন কিছু বলার নেই, বাট আমি বলবো যে তারাও অনেক ক্যাপাবল, তারাও অনেক ট্যালেন্ট প্লেয়ার, হয়তোবা আজকে হয় নাই কালকে হবে, ইনশাল্লাহ। নিজের প্রস্তুতিটাটা ঠিক রাখলে সবকিছুই অর্জন করা সহজ।
সময় সংবাদ: ভক্ত সমর্থকদের উদ্দেশ্যে কি বলতে চান?
রবিন: তাদের উদ্দেশ্যে একটাই বার্তা দিবো যে, আমি চট্টগ্রাম টিমের হয়ে খেলতেছি, আমি এখন চট্টগ্রাম পরিবারের সদস্য, ধরতে গেলে আমি এখন চট্টগ্রামের লোক হয়ে গেছি। তো আমি তাদেরকে একটাই বার্তা দিতে চাই যে, তারা যেন আমাদের খেলা দেখে, আমাদের টিমকে সাপোর্ট করে।
]]>
৩ সপ্তাহ আগে
৩








Bengali (BD) ·
English (US) ·