মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তারের আদালতে গত রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) ২২ ধারায় জবানবন্দি দেয় ভুক্তভোগী মোহনা।
এরপর মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে অভিযুক্ত সাফিকুর রহমান এবং তার স্ত্রী বিথীসহ ৪ আসামিকে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে হাজির করে পুলিশ। রিমান্ড শুনানি চলাকালে বিচারক ভুক্তভোগী শিশুর জবানবন্দির বরাত দেন।
মোহনার ওপর হওয়া নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে বিচারক বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ যাতে জানতে পারে, ভুক্তভোগী যে পজিশন থেকে এ স্টেটমেন্ট দিয়েছে আমি সেটা শুনাচ্ছি। তার মুখ থেকে গলা পর্যন্ত লম্বা পোড়ার দাগ, যা এখন সাদা হয়ে আসছে। কপালে লাঠি দিয়ে মারার দাগ আছে। হাতে বাঁশের লাঠির আঘাত ও পোড়ার দাগ আছে, সেই দাগটা এখনো দগদগে। পায়ের রানে বড় অংশে খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকার দাগ আছে এবং লাঠি দিয়ে মারার চিহ্ন আছে। হাতে ও পায়ের নখে মারার চিহ্ন আছে। পিঠে লাঠি দিয়ে মারার অসংখ্য গুরুতর আঘাত আছে। চোখ দু’টি গর্তে ঢোকানো, চোখের পাশেও কালো দাগ আছে। শরীরে জ্বর ও মাথায় প্রচুর ব্যথা রয়েছে। হাসপাতাল থেকে আসার পরেও সেগুলো যায়নি।’
আরও পড়ুন: শিশু গৃহকর্মী নির্যাতন: বিমানের এমডির পদ হারালেন সাফিকুর
জবানবন্দির লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘খুন্তি দিয়ে মারধর ও চোখের মধ্যে মরিচের গুঁড়া দেয়া হত মোহনাকে। তাকে বাথরুমের মধ্যে লুকিয়ে রাখা হত। সেখানে খাবার দিত না। বাথরুমে পানির মধ্যে থাকতে থাকতে তার পায়ে পচন ধরে গেছে। পুরো শীতে শীতের পোশাক দেয়নি। ভালো কোনো খাবার দেয়নি। বাথরুমের পেস্ট খেয়েছে। টয়লেটের পানি খেয়ে থেকেছে। বাঁশ ও লাঠি দিয়ে নিয়মিত মারধর করা হত।’
আদালত কক্ষে বিচারকের মুখে এ বর্ণনা শুনে উপস্থিত আইনজীবীরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। এক আইনজীবী দাবি তোলেন, ‘ওনারা যে যে নির্যাতন করেছেন, ওনাদের সেই সেই নির্যাতন করা হোক।’ এ সময় অন্য আইনজীবীরাও এতে সমর্থন জানান।
এদিন শুনানি শেষে আদালত সাফিকুর রহমানের ৫ দিন, তার স্ত্রী বিথীর ৭ দিন এবং দুই গৃহকর্মী রুপালী খাতুনের ৫ দিন ও সুফিয়া বেগমের ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আরও পড়ুন: বিমান এমডির বাসায় লোমহর্ষক নির্যাতনের বর্ণনা দিলো শিশু গৃহকর্মী
এর আগে শিশু গৃহকর্মীকে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগে ১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ৩টায় উত্তরার এক বাসা থেকে সাফিকুর রহমান, স্ত্রী ও দুই কাজের মেয়েকে গ্রেফতার করা হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
]]>
২ সপ্তাহ আগে
২







Bengali (BD) ·
English (US) ·