বিজিবির টেকনাফস্থ ২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আশিকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানিয়েছেন, শুক্রবার (২১ মার্চ) ভোরে টেকনাফের শাহাপরীরদ্বীপ পশ্চিমপাড়া ঘাটের কাছে দিয়ে রোহিঙ্গা বোঝাই একটি নৌকা অবৈধ উপায়ে সাগর পথে বাংলাদেশের অনুপ্রবেশের সময় তলা ফেটে যায়। নৌকা ডুবির খবর পেয়ে সৈকতের পাশের স্থানে দায়িত্বরত বিজিবি সদস্যরা তৎক্ষণাৎ স্থানীয় জেলেদের নিয়ে তাদের উদ্ধারের জন্য এগিয়ে গেলে ২৫ জন রোহিঙ্গাকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
এ উদ্ধার কাজ চলাকালে একজন বিজিবি সদস্য সমুদ্রে নিখোঁজ হয়। পরবর্তীতে ডুবে যাওয়া নৌকাটি উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
আরও পড়ুন: স্বদেশে ফেরার স্বপ্ন বুনছেন রোহিঙ্গারা
নিখোঁজ বিজিবির সদস্য একজন সিপাহী। তিনি টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপ বিজিবি বিওপির অধীনে কর্মরত ছিলেন।
এ বিষয়ে টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপের ইউপি সদস্য আবদুল মান্নান বলেন, ‘মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাবাহী একটি ট্রলার ডুবির ঘটনা শুনেছি। এ ঘটনায় বিজিবির এক সদস্যসহ বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গা নিখোঁজ থাকার খবর পেয়েছি।’
স্থানীয়রা জানান, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাবোঝাই একটি ট্রলার টেকনাফে শাহপরীর দ্বীপ পশ্চিম পাড়া এলাকায় সাগরে ভাসমান দেখেন বিজিবির এক সদস্য। ওই নৌকাতে ওঠেন বিজিবির নিখোঁজ সদস্য। স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আমিনের মালিকাধীন মাছ ধরার নৌকায় শাকের মাঝির নেতৃত্বে মাঝিমাল্লারা রোহিঙ্গাবহনকারী নৌকাটি থামানো সংকেত দেয়। এ সময় উত্তাল সাগরের ঢেউয়ে নৌকাটি ডুবে যায়। তাদের চিৎকারে নারী-শিশুসহ ২৫ জন রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করে স্থানীয় জেলে ও বিজিবি। পরে নিখোঁজ বিজিবির সদস্যসহ রোহিঙ্গাদের সন্ধানে সাগরে তল্লাশি চালানো হয়।
আরও পড়ুন: রোহিঙ্গা সহায়তা বন্ধ করতে চেয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র
ট্রলার মালিক মো. আমিন বলেন, ‘মাঝরাতে সাগরে রোহিঙ্গাবহনকারী ট্রলার ধরতে যাওয়ার কথা বলে ওই বিজিবির সদস্য আমার নৌকাটি নিয়ে যান। পরে রোহিঙ্গাবহনকারী নৌকাটি কূলে নিয়ে আসার পথে সাগরে ঢেউয়ের স্রোতে ডুবে যায়। এতে ২৫ জনের মতো রোহিঙ্গা জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিজিবির এক সিপাহী নিখোঁজ রয়েছেন। তাকে উদ্ধারে সাগরে তল্লাশি চলছে।’
এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ এহসান উদ্দিন বলেন, ‘রোহিঙ্গা বহনকারী একটি নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে বলে শুনেছি। এ বিষয়ে আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।’