বরিশালে সক্রিয় অটোরিকশা ছিনতাই চোরচক্র, ২ মাসে ১৫ খুন

৩ সপ্তাহ আগে
চুরিকে কেন্দ্র করে প্রতিনিয়তই ঘটছে হত্যা ও লাশ গুমের মতো ঘটনা। অভিযোগ উঠেছে অপরাধীরা ধরা পড়লেও জামিনে বের হয়ে পুনরায় জড়িয়ে পড়েছেন একই অপরাধে। তথ্য বলছে অটোরিকশা চুরিকে কেন্দ্র করে গত দুই বছরে বরিশালে খুনের ঘটনা ঘটেছে অন্তত ১৫টি। আর অটোরিকশা চুরির হয়েছে শতাধিক।

গত বছরের মে মাসে ব্যাটারি চালিত রিকশা নিয়ে বের হয়ে নিখোঁজ হন বরিশাল নগরীর দক্ষিণ আলেকান্দার রিফিউজি কলোনির বাসিন্দা ফরিদ ফরাজীর ছেলে সোহেল ফরাজী। ওই বছর জুলাই মাসের ১১ তারিখ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন খয়রাবাদ সেতুর নীচ থেকে সোহলের দেহাবশেষ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ঘটনায় পরিবার মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ ইমরান নামে একজনকে গ্রেফতারও করে।


মামলার আসামি ইমরানের বরাত দিয়ে সে সময় পুলিশ জানিয়েছিল, সেসহ আরও তিনজন সোহেলের বাবার ব্যাটারিচালিত রিকশাটি ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করে। ওই পরিকল্পনা অনুযায়ী নগরের লাকুটিয়া সড়কের একটি দোকান থেকে ঘুমের ওষুধ কেনে তারা। এরপর কীর্তনখোলা নদীর ওপর সেতুতে গিয়ে ঘুমের ওষুধ গুঁড়া করে এনার্জি ড্রিংকসের সঙ্গে মেশানো হয়। এরপর সেখান থেকে চারজন খয়রাবাদ সেতুর নিচে যায়। পরিকল্পনা অনুযায়ী ওই পানীয় সোহেলকে পান করানো হয়। এরপর সোহেল অচেতন হয়ে গেলে তাকে নদীর মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়। পরে রিকশা বিক্রি করে তারা পালিয়ে যায়।'


নিহত সোহলের পিতা ফরিদ ফরাজী বলেন, 'বর্তমানে ইমরান জামিনে রয়েছে। সন্তানকে হারানোর শোক তাদের প্রতি মুহূর্তে তাড়া করে বেড়াচ্ছে। হত্যার সুষ্ঠু বিচারের দাবিও করেন তিনি।'


ওই একই এলাকার ৫০ গজ দূরে বসবাস করেন অটোরিকশা চালক হিরন হাওলাদারের পরিবার। গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে অটোরিকশা নিয়ে বের হয়ে আর বাড়িতে ফিরে আসেননি হিরন।


নিখোঁজের ২৯ দিন পর চড়বাড়িয়ার সাপানিয়া গ্রামের একটি নালার মধ্য থেকে হিরনের গলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই মামলায় আল আমিন নামে একজনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-৮।


আরও পড়ুন: বরিশালে ৩ ঘণ্টায় ৩ মরদেহ উদ্ধার


হিরনের স্ত্রী জানিয়েছেন, 'স্বামীর মৃত্যুর পর ছেলে, মেয়েসহ ও শাশুড়িকে নিয়ে কষ্টের মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে। হত্যার সুষ্ঠু বিচার না পেয়ে আতঙ্ক আর ভয়ে কাটছে তার দিন।'


বরিশাল নগরের একাধিক অটো রিকশা চালকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, 'প্রথমে যাত্রীবেশে চক্রটির সদস্যরা দূর গন্তব্যে অতিরিক্ত ভাড়ার বিনিময়ে চুক্তি করে। এরপর নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে অচেতন করে অটোরিকশাটি নিয়ে পালিয়ে যায়। আর অটোরিকশা চালক জোরজবরদস্তি করলে তাকে হতে হয় খুনের শিকার।'


অনুসন্ধানে মিলেছে চোর চক্রের কয়েকটি গোপন সাম্রাজ্যের সন্ধান। ঝালকাঠি জেলার কলেজ মোড়, বরিশালের পলাশপুর ও মোহাম্মদপুরসহ কয়েকটি এলাকায় সক্র‍িয় চোর চক্র। যারা চোরাই অটো নামমাত্র টাকায় কিনে বিক্রি করেন খণ্ড খণ্ড করে।


বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী বলেন, 'ব্যাটারিচালিত অবৈধ অটোরিকশার সংখ্যা বেড়ে গিয়েছে কয়েকগুণ। আর বৈধ কাগজ না থাকায় এসব যান চুরি হলেও শনাক্ত করা সম্ভব হয় না। তিনি আরো বলেন, 'অবৈধ এসব যান নিয়ন্ত্রণে শীঘ্রই ব্যবস্থা নেয়া হবে।'


বরিশাল মেট্র‍োপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, 'বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটছে তবে পুলিশ অপরাধ দমবে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।'

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন