তাই মুমিন মাত্রই এ মাসকে বিশেষভাবে মূল্যায়ন করে। নিচে রমজানের বিশেষ কিছু আমল উল্লেখ করা হলো-
সাহরি খাওয়া: রমজান মাসে সাহরি খাওয়া রাসুলুল্লাহ (সা.) এর অন্যতম সুন্নত। সাহরী খাওয়ার ব্যাপারে হাদিসে উৎসাহিত করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (স) ইরশাদ করেন, তোমরা সাহরি কর। কেননা সাহরির খাবারে বরকত রয়েছে। (সুহিহ বুখারি : ১৯২৩)
আরেক হাদিসে সাহরির ফযিলত বর্ণনা করে রাসুলুল্লাহ (স) ইরশাদ করেন, “যারা সাহরী খায়, আল্লাহ তায়ালা তাদের ওপর রহমত বর্ষণ করেন এবং ফেরেশতাগণ তাদের জন্য রহমতের দুআ করতে থাকে।” (মুসনাদে আহমাদ : ১১০৮৬)
রোজা রাখা: রমজানের অন্যতম ফরয আমল হলো রোজা রাখা। প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থ বিবেকসম্পন্ন মুসলমানের উপর রমজানের রোজা রাখা ফরয। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন,
হে মুমিনগণ! তোমাদের প্রতি রোযা ফরয করা হয়েছে, যেমন তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের প্রতি ফরয করা হয়েছিল, যাতে তোমাদের মধ্যে তাকওয়া সৃষ্টি হয়। (সুরা বাকারা : ১৮৩)
অন্য আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তিই এ মাস পাবে, সে যেন এ সময় অবশ্যই রোযা রাখে। (সুরা বাকারা : ১৮৫)
কুরআন তিলাওয়াত করা: পবিত্র মাহে রমজান কুরআন নাযিলের মাস। এ মাসে বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত করা মুমিনের কর্তব্য। যারা কুরআন তিলাওয়াত করবে, কুরআনের হক আদায় করবে মহানবী (সা.) তাদের সম্পর্কে বলেন,
রোজা ও কুরআন কিয়ামতের দিন মানুষের জন্য সুপারিশ করবে। রোজা বলবে, হে প্রতিপালক, আমি দিনের বেলা তাকে পানাহার ও যৌনতা থেকে বিরত রেখেছি। তাই তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ তুমি কবুল কর। কুরআন বলবে, হে প্রতিপালক, আমি তাকে রাতে নিদ্রা থেকে বিরত রেখেছি। তাই তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ তুমি কবুল কর। তিনি বলেন, এরপর উভয়ের সুপারিশই কবুল করা হবে।’ (মুসনাদে আহমদ : ৬৬২৬)
ক্ষমাপ্রার্থনা করা: নিজের গুনাহের জন্য সর্বদাই আল্লাহ তায়ালার কাছে তাওবা ইস্তিগফার করতে হবে। বিশেষ করে রমজান মাসে তাওবা-ইস্তিগফারের মাধ্যমে ক্ষমাপ্রার্থনা করা উচিত। কেননা রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি রমজান মাস পেয়েও তার গুনাহ ক্ষমা করাতে পারেনি, তার নাক ধুলায় ধূসরিত হোক। (জামেউল উসুল : ১৪১০)
আরও পড়ুন: রমজান তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার সুবর্ণ সুযোগ
দোয়া করা: আল্লাহ তায়ালা রোজাদারের দোয়া কবুল করেন। প্রত্যেক রোজাদারের উচিত আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দোয়া করা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তিন ব্যক্তির দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। (১) রোজাদার যতক্ষণ না সে ইফতার করে, (২) ন্যায়নিষ্ঠ নেতা এবং (৩) মজলুমের দোয়া। (সহিহ ইবনু হিব্বান : ৩৪২৮)
ইফতার করা: রমজানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো ইফতার। সারাদিন রোজা রাখার পর সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহর নির্দেশে রোজা ভাঙাই হলো ইফতার।
এটি প্রিয়নবী (সা.) এর সুন্নত। হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, মানুষ ততদিন কল্যাণের ওপর থাকবে, যতদিন তারা দ্রুত ইফতার করবে।” (বুখারি : ১৯৫৭) অন্য হাদিসে এসেছে, “তোমাদের কেউ ইফতার করলে সে যেন খেজুর দিয়ে ইফতার করে। তা না পেলে পানি দিয়ে ইফতার করবে, কারণ পানি পবিত্র। (আবু দাউদ : ২৩৫৭)
ইফতার করানো: রোজাদারকে ইফতার করানো একটি বিশেষ সওয়াবের কাজ। এতে রোজাদারের মতোই রোজার সওয়াব পাওয়া যায়।
রাসলুুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে, সে রোজাদারের মতোই সওয়াব লাভ করবে। এতে রোজাদারের সওয়াব থেকে বিন্দুমাত্র কমানো হবে না। (মুসনাদ আহমদ : ২২৩০২)
কিয়ামুল লাইল করা: হাদিসে রমজান মাসে কিয়ামুল লাইল করার কথা বিশেষভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। কিয়ামুল লাইল অর্থ রাতের নামাজ। রমজানের তারাবির নামাজ ও তাহাজ্জুদের নামাজ কিয়ামুল লাইলের অন্তর্ভুক্ত।
রমজানে কিয়ামুল লাইলের মর্যাদা অপরিসীম। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি রমজান মাসে পূর্ণ বিশ্বাসের সঙ্গে সওয়াবের আশায় কিয়াম করে আল্লাহ তায়ালা তার পূর্বের সমস্ত পাপ ক্ষমা করে দেন। (বুখারি : ১৯০৫)
লেখক: আলেম ও প্রাবন্ধিক

৩ দিন আগে
২






Bengali (BD) ·
English (US) ·