এ ঘটনায় এক মাঝি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এবং অন্তত ১১জন মাঝিমাল্লা আহত হয়েছেন। জলদস্যুরা তিনটি ফিশিং ট্রলার থেকে জ্বালানি, মাছ ধরার সরঞ্জামসহ প্রয়োজনীয় মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
গুলিবিদ্ধ মাঝি আনোয়ারা উপজেলার মৃত ছিদ্দিক আহমেদের ছেলে মনি মাঝি (৫৮)। তিনি পূর্ব গহিরা তেলিপাড়ার মো. জসিম কোম্পানির মালিকানাধীন একটি ফিশিং ট্রলারে কর্মরত ছিলেন। হামলার পর গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
অন্যান্য আহতরা হলেন, হেফাজ মাঝি, আবুল হাসেম, জিয়াউল হক, আবুল কাশেম, আবদুর রহমান, আরফাত, জাবেদ , ফরিদ, জব্বার ও মিজান।
ভুক্তভোগী মাঝিমাল্লাদের ভাষ্য অনুযায়ী, একই সময় পূর্ব গহিরা এলাকার মো. হেফাজ কোম্পানি ও মো. কাশেম কোম্পানির মালিকানাধীন আরও দুটি ফিশিং ট্রলার জলদস্যুর কবলে পড়ে। এ সময় ট্রলারে থাকা মাঝিমাল্লাদের মারধরসহ বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হয়। পরে ট্রলারগুলোর জ্বালানি, জাল ও মাছ ধরার অন্যান্য সরঞ্জাম লুট করে নিয়ে যায় জলদস্যুরা।
হামলার শিকার একটি ট্রলার রাত আনুমানিক ১২টার দিকে উপকূলে ফিরে আসে। অন্য দুটি ট্রলারও বুধবার বিকেল নাগাদ আনোয়ারা উপকূলে ফিরে এসেছে বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুন: বঙ্গোপসাগর থেকে ফের ২০ জেলেকে অপহরণ
মাঝিমাল্লাদের দাবি, জলদস্যুরা নিজেদের বাঁশখালী, কুতুবদিয়া ও মহেশখালী এলাকার বাসিন্দা বলে পরিচয় দিয়েছে। তবে এই তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. মহিউদ্দিন বলেন, 'মঙ্গলবার রাতে মাছ শিকারে গিয়ে তিনটি ট্রলার জলদস্যুর কবলে পড়ে। এতে মনি নামের এক মাঝি গুলিবিদ্ধ হন এবং আরও ৯-১০ জনকে মারধর করা হয়। জলদস্যুরা ট্রলারগুলোর জ্বালানি ও সরঞ্জাম লুট করে নিয়ে গেছে।'
এ বিষয়ে বার-আউলিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক মো. কামাল হোসেন বলেন, 'ঘটনাটি ঘটেছে কক্সবাজার জেলাধীন গভীর সমুদ্র এলাকায়। আমরা বিকেলে গহিরা এলাকায় গিয়ে ঘটনার উপাত্ত সংগ্রহ করেছি এবং আহত জেলে ও একজন মাঝির সাথে কথা বলেছি।'
আরও পড়ুন: বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ বাবা-ছেলের মরদেহ উদ্ধার
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের জনসংযোগ কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়ামুল হক বলেন, 'একজন মাঝি গুলিবিদ্ধ হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন, এমন তথ্য আমরা পেয়েছি। সাগরে আমাদের টহল কার্যক্রম চলমান রয়েছে।'
]]>
৩ দিন আগে
১








Bengali (BD) ·
English (US) ·