বঙ্গোপসাগর থেকে ফের ২০ জেলেকে অপহরণ

২ সপ্তাহ আগে
সুন্দরবন উপকূলসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের দুটি স্থান থেকে জেলে বহরে হামলা ও লুটপাট চালিয়ে মাছ লুট করে নিয়েছে বনদস্যুরা। সেইসঙ্গে ২০ জেলেকেও অপহরণের অভিযোগ উঠেছে।

গত সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে দুবলার উপকূলের নারিকেলবাড়ীয়া ও আমবাড়ীয়া সাগরের খাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

 

পূর্ব সুন্দরবনের জেলেপল্লী দুবলা ফরেস্ট স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিল্টন রায় মঙ্গলবার বিকেলে মোবাইল ফোনে জানান, সোমবার দিবাগত রাতে অজ্ঞাতপরিচয় বনদস্যু বাহিনীর সদস্যরা দুবলার নারিকেলবাড়ীয়ার চর সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরা অবস্থায় জেলে বহরে হানা দেয়। দস্যুরা প্রথমে লুটপাট চালায়। পরে আটটি ট্রলার থেকে আট জেলেকে দস্যুদের ট্রলারে তুলে নিয়ে যায়।

 

এ এলাকায় অপহৃত জেলেরা হলেন- হরিদাস বিশ্বাস (৫০), গোপাল বিশ্বাস (৪৫), রমেশ বিশ্বাস (৫০), প্রশান্ত বিশ্বাস (৪৮), শংকর বিশ্বাস (৩৫),তুষার বিশ্বাস (৪০), মনিরুল বিশ্বাস (৪৮), ও উজ্জল কুমার বিশ্বাস (৪৫)। এদের বাড়ি খুলনার পাইকগাছায় বলে জানা গেছে।

 

মিল্টন রায় আরও জানান, একই রাতে দুবলারচর সংলগ্ন সাগরের আম্বাড়ীয়ার খাড়ির খাল এলাকায় জেলেদের বহরে বনদস্যু সুমন জাহাঙ্গীর বাহিনী হামলা চালায়। অস্ত্রের মুখে ১২টি ট্রলার থেকে আলোরকোলের ১২ জেলেকে অপহরণ করে নিয়ে যায় বলে দুবলার ফিসারমেন গ্রুপের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন।

 

আরও পড়ুন: সুন্দরবনে ২০ জেলেকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি ‘ডন বাহিনী’র

 

অপহৃত এসব জেলেরা হলেন- কালিদাস বিশ্বাস, কাশেম মোড়ল, সাধন বিশ্বাস, শিবপদ বিশ্বাস, রশিদ সরদার, প্রকাশ বিশ্বাস, ইয়াসিন মোড়ল, শিমুল, রুপ কুমার বিশ্বাস, গণেশ বিশ্বাস, উত্তম বিশ্বাস ও বাটু বিশ্বাস। তাদের বাড়ি পাইকগাছা, কয়রা ও আশাশুনির বিভিন্ন এলাকার বলে জানা গেছে।

 

দুবলার ফিসারমেন গ্রুপের সভাপতি বলেন, ‘চারটি বনদস্যু গ্রুপ বর্তমানে সুন্দরবন সংলগ্ন সাগর এলাকায় দাঁপিয়ে বেড়াচ্ছে। এদের দাপটে জেলেদের মাঝে চরম ভয় ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। জেলেরা পেশা ছেড়ে দেয়ার চিন্তা ভাবনা করছেন।

 

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম ২০ জেলে অপহরণের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, জেলেদের নিরাপত্তায় বনরক্ষীদের টহল কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এছাড়া কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী, পুলিশ ও র‌্যাবের কয়েকটি টিম এ নিয়ে কাজ করছে।

 

এর আগে গত ২২ জানুয়ারি রাতে পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের মাহমুদা, চুনকুড়ি ও মালঞ্চ নদীর বিভিন্ন এলাকা থেকে অস্ত্রের মুখে জলদস্যু ‘ডন বাহিনী’ পরিচয়ে ২০ জন জেলেকে অপহরণের ঘটনা ঘটে। তাদের প্রত্যেকের পরিবারের কাছে ৪০ হাজার টাকা করে মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন