প্রতিবেদন মতে, সাক্ষাৎকারে প্রশ্ন করতে গিয়ে কার্লসন বলেন, মস্কো ভলোদিমির জেলেনস্কি ‘অনির্বাচিত’ প্রেসিডেন্ট মনে করে এবং এ কারণে তিনি ‘কোনো ধরনের চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে পারেন না।’ এরপর তিনি উইটকফের কাছে জানতে চান, ‘আপনার কি মনে হয়, ইউক্রেনে নির্বাচন হবে?’
জবাবে উইটকফ বলেন, ‘হ্যাঁ, নির্বাচন হবে। তারা এতে সম্মত হয়েছে। ইউক্রেনে নির্বাচন হবে।’ তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি ট্রাম্পের এই দূত। কিয়েভ ইন্ডিপেন্ডেন্ট জানিয়েছে, তারা তাৎক্ষণিকভাবে উইটকফের এই দাবি যাচাই করতে পারেনি।
ইউক্রেন সবশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৯ সালের এপ্রিলে। ওই নির্বাচনের মধ্যদিয়ে পাঁচ বছরের দেশের প্রেসিডেন্ট হন জনপ্রিয় কৌতুকাভিনেতা ভলোদিমির জেলেনস্কি। গত বছর তার ক্ষমতার মেয়াদ শেষ হয়েছে। কিন্তু রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধের অজুহাতে নির্বাচন দেননি জেলেনস্কি।
আরও পড়ুন: যুদ্ধবিরতির আলোচনার মধ্যেই ইউক্রেনে ব্যাপক হামলা রাশিয়ার
গত ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। ইউক্রেনীয় বাহিনীর প্রতিরোধের মধ্যদিয়ে তা রক্তক্ষয়ী সংঘাতে রূপ নেয়। এরপর গত তিন বছর ধরে সেই সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। রাষ্ট্রপ্রধান ও সেনাবাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন জেলেনস্কি।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সরকার ইউক্রেনে নির্বাচন না হওয়া নিয়ে কোনো কথা বলেনি। তবে ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে শান্তি আলোচনা শুরুর পর তিনি ও তার কর্মকর্তারা এ নিয়ে কথা তোলেন।
গত মাসের শুরুর দিকে রয়টার্সকে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের ইউক্রেন ও রাশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত কিথ কেলগ বলেন, ইউক্রেনের নির্বাচন যুদ্ধের কারণে স্থগিত ছিল। সেটি এখন সম্পন্ন করা জরুরি। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে গিয়ে চলতি বছরের শেষ দিকে তারা নির্বাচনের আয়োজন করতে পারে।
আরও পড়ুন: রাশিয়ার বোমারু বিমানঘাঁটিতে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা, ব্যাপক বিস্ফোরণ
প্রায় একই ধরনের কথা বলেন রুশ কর্মকর্তারা। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জেলেনস্কির সঙ্গে আলোচনায় প্রস্তুত, তবে তার বৈধতা-সংক্রান্ত বিষয়গুলো বিবেচনা করতে হবে। এ কথার মধ্যদিয়ে তিনি মূলত ইউক্রেনে একটা নির্বাচনের দিকেই ইঙ্গিত করেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকো চলতি মাসের শুরুর দিকে জানায়, ট্রাম্পের দলের সদস্যরা প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক প্রেসিডেন্ট পেত্রো পোরোশেঙ্কো ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া তিমোশেঙ্কোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। এ দুই রাজনীতিবিদ ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার কথা স্বীকার করেছেন। তবে রাশিয়ার সঙ্গে সংঘাতের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন আয়োজনের বিরোধিতা করেছেন।
]]>