প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে হামলা-ভাঙচুর-আগুন

৪ সপ্তাহ আগে
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অবস্থিত দৈনিক প্রথম আলো এবং তেজতুরি পাড়ায় অবস্থিত ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারের প্রধান কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত পৌনে ১২টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।


ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর শাহবাগ থেকে মিছিল নিয়ে বিক্ষুব্ধ একটি দল কারওয়ান বাজারের দিকে যায়। মিছিলটি প্রথম আলো কার্যালয়ের সামনে পৌঁছে বিক্ষোভ শুরু করে। এ সময় সেখানে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের শান্ত করার চেষ্টা করে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।


একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে তারা প্রথম আলো কার্যালয়ে ভাঙচুর চালায়। গেট ভেঙে রাত ১২টার দিকে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ কার্যালয়ের ভেতরে ঢুকে পড়ে টেবিল-চেয়ার ও বিভিন্ন নথিপত্র বাইরে রাস্তায় বের করে নিয়ে আসে এবং সেগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেয়।


প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের সময় বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন।


পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী উপস্থিত হয়ে বিক্ষোভকারীদের বুঝানোর চেষ্টা করে। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা সেখান থেকে সরে গিয়ে পার্শ্ববর্তী ডেইলি স্টারের কার্যালয়ে হামলা চালায় এবং আগুন ধরিয়ে দেয়।


রাত সোয়া ১টায় প্রতিবেদন লেখার সময় পাওয়া খবর অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী, র‍্যাব, পুলিশসহ আইনশৃঙ্ক্খলা-বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য রয়েছে। ফায়ার সার্ভিস আগুন নেভানোর চেষ্টা করছে।

 

আরও পড়ুন: ওসমান হাদির মৃত্যুতে শনিবার রাষ্ট্রীয় শোক

 

বৃহস্পতিবার ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর জানার পর রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় রাস্তায় নেমে আছে বিক্ষুব্ধ জনতা। প্রতিবেদন লেখার সময় শাহবাগে বিপুল সংখ্যক মানুষ জড়ো হয়েছেন। সেখানে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ নেতারাও উপস্থিত হন।

 

জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট সড়কে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে দুর্বৃত্তরা রিকশায় থাকা ওসমান হাদিকে গুলি করে। ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার জন্য প্রচারণা চালাচ্ছিলেন তিনি।


মোটরসাইকেলে করে এসে দুজন তাকে খুব কাছ থেকে গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জানা যায়, গুলি ওসমান হাদির মাথার ডান দিক থেকে ঢুকে বাম পাশ দিয়ে বের হয়ে গেছে।


এই অবস্থার মধ্যেই পরিবারের ইচ্ছায় তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছিল। সবশেষ সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুরে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নেয়া হয়েছিল ওসমান হাদিকে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন