প্রতিদিনের ইফতারে একজনকে শরিক করি

১৯ ঘন্টা আগে
রমজান মাস রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস। এ মাসে সিয়াম, কিয়াম ও দান-সদকার মাধ্যমে বান্দা তার রবের নৈকট্য অর্জন করে। ইফতার শুধু ক্ষুধা নিবারণের সময় নয়; এটি সহমর্মিতা, ভাগাভাগি ও সামাজিক সংহতির অনন্য সুযোগ। তাই আসুন প্রতিদিনের ইফতারে একজনকে শরিক করি, এই অঙ্গীকারকে বাস্তবে রূপ দিই।

দান ও খাদ্য দানের ফজিলত


আল্লাহ তাআলা বলেন,

 

وَيُطْعِمُونَ الطَّعَامَ عَلَىٰ حُبِّهِ مِسْكِينًا وَيَتِيمًا وَأَسِيرًا তারা আল্লাহর ভালোবাসায় অভাবগ্রস্ত, এতিম ও বন্দীকে খাদ্য দান করে।  (সুরা  দাহর:৮)


তিনি আরও বলেন, مَثَلُ الَّذِينَ يُنفِقُونَ أَمْوَالَهُمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ كَمَثَلِ حَبَّةٍ أَنْبَتَتْ سَبْعَ سَنَابِلَ... যারা আল্লাহর পথে তাদের সম্পদ ব্যয় করে, তাদের দৃষ্টান্ত একটি বীজের মতো, যা থেকে সাতটি শীষ উৎপন্ন হয়। (সুরা বাকারা:২৬১) এই আয়াতগুলো আমাদের শেখায়,খাদ্য দান কেবল সামাজিক দায়িত্ব নয়; এটি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের অন্যতম মাধ্যম।

 

ইফতার করানোর ফজিলত


রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

 

مَنْ فَطَّرَ صَائِمًا كَانَ لَهُ مِثْلُ أَجْرِهِ، غَيْرَ أَنَّهُ لَا يَنْقُصُ مِنْ أَجْرِ الصَّائِمِ شَيْئًا যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করায়, সে তার সমপরিমাণ সওয়াব পায়; তবে রোজাদারের সওয়াব থেকে কিছুই কমে না। (সুনানুত তিরমিজি: ৮০৭) 
অন্য এক হাদিসে রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

 

أَفْشُوا السَّلَامَ، وَأَطْعِمُوا الطَّعَامَ، وَصِلُوا الْأَرْحَامَ তোমরা সালাম প্রচার করো, খাদ্য দান করো, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখো। (সুনানু ইবনি মাজাহ:১৩৩৪) এগুলো প্রমাণ করে ইফতার করানো কেবল দান নয়; এটি ঈমানের পরিচয় ও জান্নাতের পথে একটি উজ্জ্বল আমল।

 

কেন প্রতিদিন একজন?


১. নিয়মিত আমল আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয় রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, أَحَبُّ الأَعْمَالِ إِلَى اللَّهِ أَدْوَمُهَا وَإِنْ قَلَّ আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল হলো যা নিয়মিত করা হয়, যদিও তা অল্প হয়। (সহিহ বুখারি:৬৪৬৪)

 

আরও পড়ুন: যেভাবে আল আকসা বিজয় করেছিলেন সালাহউদ্দীন আইয়ুবি রহ.

 


২. সমাজে ভ্রাতৃত্ব বৃদ্ধি পায় একজন দরিদ্র, শ্রমজীবী বা পথচারীকে ইফতারে শরিক করলে হৃদয়ে ভালোবাসা ও সহমর্মিতা জন্মায়।
৩. গোপন দানের বিশেষ মর্যাদা, আল্লাহ তাআলা বলেন, إِن تُبْدُوا الصَّدَقَاتِ فَنِعِمَّا هِيَ ۖ وَإِن تُخْفُوهَا وَتُؤْتُوهَا الْفُقَرَاءَ فَهُوَ خَيْرٌ لَّكُمْ তোমরা যদি সদকা প্রকাশ্যে দাও, তবে তা উত্তম; আর যদি তা গোপনে দাও এবং দরিদ্রদের দাও, তবে তা তোমাদের জন্য আরও উত্তম। এতে আল্লাহ তোমাদের কিছু গুনাহ মাফ করবেন। আর তোমরা যা কর, আল্লাহ সে সম্পর্কে সর্বজ্ঞ। (সুরা বাকারা:২৭১)

 

বাস্তবায়নের সহজ উপায়


১.প্রতিদিন অন্তত একজন রোজাদার হোক সে শ্রমিক, মসজিদের মুসল্লি, প্রতিবেশী বা পথচারী,ইফতারে আমন্ত্রণ করুন। ২.সামান্য খেজুর ও পানি দিয়েও ইফতার করানো যায়; মূল বিষয় আন্তরিকতা। ৩.বন্ধু বা পরিবারের সঙ্গে মিলে ছোট একটি  ইফতার পরিকল্পনা করতে পারেন। ৪. গোপনে সাহায্য করার চেষ্টা করুন নিয়ত যেন একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি।


রমজান আমাদের শেখায় ক্ষুধার কষ্ট অনুভব করে অন্যের পাশে দাঁড়াতে। প্রতিদিন একজনকে ইফতারে শরিক করা হয়তো ছোট একটি উদ্যোগ, কিন্তু আল্লাহর কাছে তা হতে পারে বিশাল সওয়াবের কারণ। আসুন, এ রমজানে আমরা প্রত্যেকে অঙ্গীকার করি, প্রতিদিনের ইফতারে একজনকে শরিক করি, যেন আমাদের ইফতার কেবল আমাদের না থেকে সবার আনন্দে পরিণত হয়। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে তাওফিক দান করুন। আমিন।

 

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন