ভ্যাটিকান এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও আলোচনার বিস্তারিত জানায়নি। তবে ভ্যাটিকানের প্রকাশ করা একটি ছোট ভিডিওতে দেখা যায়, পোপের দফতরে দুজন মুখোমুখি বসে হাত মিলিয়ে হাসিমুখে কথা বলছেন।
সাক্ষাতের পর মাচাদো বলেন, তিনি পোপ লিওকে অনুরোধ করেছেন যেন তিনি ভেনেজুয়েলার সেই সব মানুষের পাশে দাঁড়ান, যারা রাজনৈতিক কারণে বন্দি বা পরিবার থেকে জোর করে আলাদা হয়ে আছেন। তার ভাষায়, এসব মানুষের মুক্তি এখন সময়ের দাবি।
পোপ লিও, যিনি প্রথম একজন আমেরিকান পোপ, সম্প্রতি ভেনেজুয়েলা প্রসঙ্গে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে মার্কিন বাহিনীর হাতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আটক হওয়ার ঘটনার পর তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলাকে একটি স্বাধীন দেশ হিসেবেই থাকতে হবে।
আরও পড়ুন: যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ইরান: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
গত শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দেয়া এক গুরুত্বপূর্ণ ভাষণে পোপ লিও সামরিক শক্তি ব্যবহার করে কূটনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে তিনি ভেনেজুয়েলায় মানবাধিকার রক্ষার আহ্বান জানান।
এদিকে সোমবার ভেনেজুয়েলার সরকার দাবি করেছে, তারা ১১৬ জন বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দির সংখ্যা সরকারের ঘোষণার চেয়ে কম।
ভেনেজুয়েলায় রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দীর্ঘদিন ধরেই মানবাধিকার সংগঠন, আন্তর্জাতিক মহল ও বিরোধী নেতাদের প্রধান দাবি। এই আন্দোলনে মারিয়া করিনা মাচাদো বরাবরই সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন।
আরও পড়ুন: ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলোর ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ ট্রাম্পের
মাচাদো ভেনেজুয়েলার সাবেক জাতীয় পরিষদের সদস্য। তবে প্রেসিডেন্ট মাদুরোর ঘনিষ্ঠ কর্তৃপক্ষ তাকে ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে প্রার্থী হতে বাধা দেয়। এরপর তিনি একজন বিকল্প প্রার্থীকে সমর্থন দেন, যিনি অনেকের মতে নির্বাচনে প্রকৃত বিজয়ী ছিলেন। যদিও মাদুরো নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করেন। স্বাধীন পর্যবেক্ষকদের ব্যালট যাচাইয়ে সরকারি ফলাফলে নানা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়।
সব মিলিয়ে ভ্যাটিকানে এই সাক্ষাৎ ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক সংকট ও মানবাধিকার পরিস্থিতিকে আবারও আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
]]>
৩ দিন আগে
২








Bengali (BD) ·
English (US) ·