পিরোজপুরে যুবককে পেটানো মামলা, আসামি ধরছে না পুলিশ!

৪ দিন আগে
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় ইভটিজিংয়ে বাধা দেওয়ায় বিয়ে বাড়িতে হামলা চালিয়ে মো. আলাউদ্দিন (১৮) নামে এক যুবককে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। এ ঘটনায় থানায় মামলা হলেও পুলিশ আসামিদের গ্রেফতার করছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, মামলা হওয়ার পরও পুলিশ প্রভাবশালী প্রতিপক্ষের হয়ে কাজ করছে এবং বিভিন্নভাবে তাদেরকে হয়রানি করা হচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হয়নি থানা পুলিশ।


বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) মঠবাড়িয়া থানায় কবির মোল্লা বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন।


মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, টিকিকাটা ইউনিয়নের বাইশকুড়া এলাকার মিরাজ খানের ছেলে রবিউল খান (২৬)-সহ কিশোর গ্যাংয়ের কয়েকজন সদস্য প্রায়ই ওই এলাকায় মেয়েদের উত্ত্যক্ত করে। গত মঙ্গলবার বিকেলে তারা একটি মেয়েকে উত্ত্যক্ত করলে স্থানীয় রবিউল মোল্লা (২৫) তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে তারা এলোপাতাড়ি মারামারি করে সেখান থেকে পালিয়ে যায়।

 
এরপর বিকেল ৫টার দিকে লোহার রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে দলবলসহ রবিউল মোল্লার বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে রবিউল খান। এ সময় রবিউল মোল্লার খালাতো ভাই আলাউদ্দিনকে হত্যার উদ্দেশ্যে লোহার রড দিয়ে আঘাত করলে তার বাম কানে গুরুতর জখম হয়। এ ঘটনায় আরও চারজন আহত হয়েছেন। হামলাকারীরা এ সময় নারীদের কাপড়চোপড় ধরে টানাটানি করে শ্লীলতাহানি ঘটায়। তারা এক নারীর ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণের চেইন ছিনতাই ও নগদ অর্থ লুট করে।

 

আরও পড়ুন: জনস্বার্থবিরোধী কিছু হলেই আমরা প্রতিবাদ করব: মাসুদ সাঈদী

 

পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য আলাউদ্দিনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তিনি বর্তমানে মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

 

রবিউল মোল্লার মা আয়শা বেগম বলেন, ‘আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। আমরা থানায় একটি মামলা করেছি। এখন হয়রানি করার জন্য উল্টো একটি মামলা দায়ের করেছেন আসামিপক্ষ। পুলিশ সঠিক তদন্ত না করে উল্টো আমাদের হয়রানি করছে।’


এ বিষয়ে মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজন বিশ্বাস বলেন, ‘মারামারির বিষয়ে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিষয়টির তদন্ত চলমান রয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’


বাদীপক্ষকে হয়রানির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে আর কোনো কথা বলতে রাজি হয়নি।


তবে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জিয়াউর রহমান (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) বলেন, ‘বিষয়টি খোঁজ নিয়ে আমরা দেখব এবং ব্যবস্থা নেব।’

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন