মাদারীপুর সদর উপজেলার পৌর পেয়ারপুর গ্রামে এই প্রতারণার সূত্রপাত হলেও অপহরণের মূল ঘটনাটি ঘটে রাজধানী ঢাকায়। গত ৩১ মার্চ (মঙ্গলবার) আদালতে মামলা দায়েরের পর ওই রাতেই মীমাংসার কথা বলে তাদের মাইক্রোবাসে তুলে নেয়া হয়।
ভুক্তভোগী জহিরুল ইসলাম রাজধানী ঢাকায় একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করেন। তার ছেলে বায়েজিদকে আমেরিকা নেয়ার জন্য ১৩ লাখ টাকায় চুক্তি হয় প্রতিবেশী মধ্য পেয়ারপুর গ্রামের আব্দুল লতিফ সরদারের দুই ছেলে শমশের এবং আবু রায়হানের সঙ্গে। কিন্তু বিদেশে নিতে ব্যর্থ হলে জহিরুল পাওনা টাকা ফেরত চান। অভিযুক্তরা টাকা দিতে টালবাহানা শুরু করলে বাধ্য হয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন তিনি। পাওনা টাকা উদ্ধারে গত ৩১ মার্চ (মঙ্গলবার) তিনি একটি মামলা করেন।
মামলার বিষয়টি টের পেয়ে ওই দিন রাতেই মীমাংসার কথা বলে জহিরুলকে মাইক্রোবাসে তুলে নেয় একটি চক্র। পরে জহিরুলের ছোট ভাই রাশেদুল ইসলামকে খবর দিয়ে তাকেও জিম্মি করা হয়। তিন দিন ঢাকার বাড্ডা থানা এলাকার একটি বাসায় আটকে রেখে তাদের কাছ থেকে চার লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করা হয়। পরে তারা জিম্মিদশা থেকে মুক্তি পান। এই ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।
আরও পড়ুন: কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে মাদারীপুরে বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে গ্যাস সিলিন্ডার
ভুক্তভোগী জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার ছেলেকে বিদেশে নিতে পারেনি। টাকাও ফেরত দেয়নি। আমি মামলা করলে উল্টো আমাকে ও আমার ভাইকে অপহরণ করে জিম্মি করা হয়। পরে মুক্তিপণ দিলে মুক্তি মেলে। আমি এই ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
প্রতিবেশী দোলন মুন্সি বলেন, ‘গুম করে টাকা আদায়ের ঘটনা খুবই ন্যক্কারজনক। এর সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিচারের আওতায় আনা উচিত। এমন ঘটনা কিছুতেই মেনে নেয়া যায় না।’
অপহরণকারী চক্রের সদস্য সামস ইশতিয়াক এবং পরিকল্পনাকারী শমশের সরদার ও তার ভাই আবু রায়হানের মুঠোফোনের কথোপকথনের কয়েকটি অডিও ক্লিপ প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। সেখানে শোনা যায়, টাকা যা লাগে তা দিতেই প্রস্তুত শমশের। দেড় লাখ টাকার চুক্তিতে যেকোনো কিছুর বিনিময়ে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসিয়ে দিতে হবে জহিরুলকে। পরে জহিরুলের স্ত্রী রচনা রহমানের সঙ্গে ফোনে কথা বলে অপহরণকারীরা। তাকেও ভয়ভীতি দেখিয়ে মুক্তিপণের টাকা দিতে বাধ্য করা হয়।’
আরও পড়ুন: মাদারীপুরে যাত্রীবাহী বাস আগুন, একজনের মৃত্যু
জানা যায়, গুলশান এলাকার সামস ইশতিয়াকের সহায়তায় অভিযুক্ত শমশের আমেরিকা এবং তার ছোট ভাই আবু রায়হান ফিনল্যান্ড বসে পুরো অপহরণের পরিকল্পনা করেন।
ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্তদের বাবা আব্দুল লতিফ সরদার সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘জহিরুল আমাদের কাছে অল্প কিছু টাকা পাবে। সেটা নিয়ে থানা ও এলাকায় মীমাংসার জন্য বসা হয়েছিল; কিন্তু সমাধান হয়নি। আর অপহরণ করে টাকা আদায় করার ঘটনায় আমার ছেলেরা জড়িত নয়।’
অন্যদিকে ফিনল্যান্ড থেকে আবু রায়হান মুঠোফোনে জানান, জহিরুল ইসলাম ও তার ভাইকে কেউ অপহরণ করেনি। কেউ তাদের জিম্মি করে অর্থ আদায়ও করেনি। এ কথার কোনো ভিত্তি নেই।
প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় অভিযুক্ত সামস ইশতিয়াকের। তিনি দাবি করেন যে তিনি দেশের বাইরে আছেন এবং ঘটনার সময় বাংলাদেশে ছিলেন না। তিনি বলেন, ‘আমি কোনো মুক্তিপণের টাকা নিইনি।’ তবে তার লোক টাকা নিয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের সঠিক জবাব দিতে পারেননি তিনি। উল্টো সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য প্রতিবেদককে উপঢৌকন বা গিফট দেয়ার প্রস্তাব দেন তিনি।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘পাওনা টাকা ফেরত দেয়াকে কেন্দ্র করে চাকরিজীবী ও তার ভাইকে অপহরণের ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। মূল ঘটনা রাজধানী ঢাকার বাড্ডা থানা এলাকায় হয়েছে। এ বিষয়ে বাড্ডা থানা থেকে কোনো তথ্য বা সহযোগিতা চাওয়া হলে সার্বক্ষণিক পাশে থাকবে মাদারীপুর জেলা পুলিশ।’
]]>
১ সপ্তাহে আগে
২








Bengali (BD) ·
English (US) ·