পাঁচ দিনে কক্সবাজার ঘুরবেন ৮ লাখের বেশি পর্যটক

২ দিন আগে
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের জনপ্রিয় স্পট সুগন্ধা পয়েন্ট; যেখানে সারা বছর পর্যটকের আনাগোনায় মুখর থাকে। ঈদের লম্বা ছুটির দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) সকাল থেকে সৈকতের সুগন্ধাসহ সবকটি পয়েন্ট ছিল লোকে-লোকারণ্য। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে পর্যটকের আনাগোনা। যেদিকে চোখ যায় শুধু মানুষ আর মানুষ, যেন তিল ধারণের ঠাঁই নেই বিস্তৃত বালিয়াড়ি সৈকতের কোথাও। কারও মনে আনন্দ প্রথমবার সমুদ্র দেখার, আর কারও মনে আনন্দ নোনাজলের স্পর্শে।

তপ্ত রোদেও সৈকতে ভ্রমণ পিপাসু মানুষের মনে আনন্দ-উচ্ছ্বাস প্রকাশে কমতি ছিল না। সৈকতে ঘুরতে আসা অধিকাংশ পর্যটকের গন্তব্য গোসলে নেমে সাগরের নোনাজলের স্পর্শ নেয়া। আর পর্যটকের ঈদ আনন্দের উচ্ছ্বাসের কাছে যেন হার মেনেছে সাগরের উত্তাল ঢেউও।

 

অনেককেই কিটকটে (বিচ ছাতা) বসে সময় কাটাতে দেখা গেছে। আবার অনেকেই সৈকতের বালিয়াড়িতে ছোটা-ছুটিতে মেতেছেন নিজের মতো করে। বিচ বাইক, ঘোড়ায় চড়ে অনেককে নিজের ছবি ধারণে ব্যস্ত সময় পার করতেও দেখা গেছে।

 

আর কোলাহলময় যান্ত্রিক জীবনের অবসাদ কাটাতে ছুটে আসা ভ্রমণ পিপাসুরা বলছেন, প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের লীলাভূমি কক্সবাজার ঘুরতে এসে তারা তৃপ্ত।

 

পর্যাপ্ত পর্যটকে খুশি ব্যবসায়ীরা

 

পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের দেয়া তথ্যমতে, ঈদের টানা ছুটির দ্বিতীয় দিনে লাখো পর্যটকের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে সৈকত নগরী কক্সবাজার। রমজানের পুরো এক মাস পর্যটক শূন্য থাকলেও ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে এখন উপচে পড়া ভিড়। আর ঈদের আনন্দ উপভোগে পর্যটকদের পাশাপাশি সৈকতে ভিড় করছেন স্থানীয় দর্শনার্থীরাও।

 

আরও পড়ুন: ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে ‘পয়সা উসুল’, একের মধ্যে তেরো! 

 

এদিকে কাঙ্খিত সংখ্যক পর্যটক সমাগম ঘটায় খুশি হোটেল-মোটেলসহ পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, ঈদের দ্বিতীয় দিনে সাড়ে ৫ শতাধিক হোটেল-মোটেলের অন্তত ৮০ শতাংশ কক্ষ বুকিং রয়েছে। তৃতীয়দিন থেকে শতভাগ হোটেল কক্ষ বুকিং থাকবে। আগামী ৫ এপ্রিল পর্যন্ত পর্যটক আগমনের ঢল অব্যাহত থাকবে।

 

কক্সবাজারে ১ থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত আট লাখের বেশি পর্যটক ঘুরতে আসবেন বলে আশা ব্যবসায়ীদের। ছবি সময় সংবাদ

 

কক্সবাজার আবাসিক হোটেল মোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, ঈদের প্রথম দিন তেমন পর্যটকের দেখা মিলেনি। দ্বিতীয় দিন ১ এপ্রিল লাখের অধিক পর্যটক কক্সবাজার এসে পৌঁছেছেন। সন্ধ্যায় আরও অনেকেই এসে পৌঁছাবেন। ৫ এপ্রিল পর্যন্ত পর্যটকরা আবাসিক হোটেল বুকিং দিয়েছেন। টানা ৫ দিন গড়ে দেড় লাখ করে ৫ দিনে সাড়ে ৭ লাখ পর্যটক কক্সবাজারে আসবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

হোটেলের চার্ট দেখে ভাড়া পরিশোধের পরামর্শ

 

বিভিন্ন বড় বড় ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকদের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। বাড়তি ভাড়া আদায়, খাবারের দাম বেশি রাখা ও মানসম্মত সেবা না নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সে সময়।

 

আরও পড়ুন: ঈদের দিন ঘুরে আসুন ঢাকার মনোরম ৪ জায়গা থেকে

 

এ অবস্থা নিয়ে কক্সবাজার আবাসিক হোটেল মোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, প্রতিটি হোটেলে কক্ষভাড়ার তালিকা টাঙানো থাকে। পর্যটকরদের তালিকা দেখে কক্ষভাড়া পরিশোধের নির্দেশনা দেয়া থাকে। অনলাইনেও অধিকাংশ হোটেলের কক্ষভাড়া অগ্রিম বুকিংয়েরও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

 

হোটেল দ্য স্যান্ডি বিচের মালিক আব্দুর রহমান বলেন, কাঙ্খিত সংখ্যক পর্যটক আসায় খুশি সাগরপাড়ের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে হোটেল-রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরা। ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে বিপুল সংখ্যক পর্যটক সমাগম ঘটেছে। আর ছুটির দিনগুলোতে অতিরিক্ত পর্যটকের চাপ থাকায় অসাধু ব্যবসায়িদের কারণে দুর্ভোগ ও হয়রানির শিকার হতে হয়। তাই কক্সবাজারে সআসার আগে হোটেল কক্ষ আগাম বুকিং দিয়ে আসার পরামর্শ তার।

 

হোটেল কক্স-টুডের ব্যবস্থাপক আবু তালেব শাহ বলেন, এখন পর্যটকে ভরপুর কক্সবাজার। টানা ৫ দিন এই পর্যটক থাকবে।

 

ব্যবস্থাপনা নিয়ে যা বলছেন পর্যটকরা

 

সৈকতের লাবণী পয়েন্টে কথা হয়, ঢাকা থেকে আসা শিক্ষক আবেদিন নাহিদের সঙ্গে। তিনি বলেন, কক্সবাজারে আসা মানেই আনন্দ। এখানের নীল জলরাশি আর শীতল হাওয়ায় মন থেকে ক্লান্তির অবসান হয়।

 

ঈদের দ্বিতীয় দিনে কক্সবাজারের হোটেল-মোটেলগুলো পর্যটকে টুইটুম্বুর হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ছবি সময় সংবাদ

 

রাজশাহীর ব্যবসায়ী রফিকুল আনোয়ার জানান, সমুদ্র, পাহাড়, ঝর্ণা, বৌদ্ধ বিহার আর প্রকৃতিতে কক্সবাজার সত্যি বিমুগ্ধ করে মনকে।

 

নিরাপত্তা জোরদার

 

আর আগত পর্যটকের বেশিভাগই ব্যস্ত সমুদ্র স্নানে। তাই সমুদ্রস্নানে নেমে কোনো পর্যটক যেন বিপদাপন্ন পরিস্থিতিতে না পড়েন সেজন্য সতর্ক দৃষ্টি রেখেছে লাইফগার্ড সদস্যরা। আর গোসলে জন্য পর্যটকদের নির্দেশনা মেনে সাগরে নামার পরামর্শ তাদের। এমনটাই জানিয়েছেন সী সেইফ লাইফ গার্ডের সুপারভাইজার ওসমান গনি।

 

আরও পড়ুন: ঈদের ছুটি / সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে প্রশান্তি খুঁজছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা

 

তিনি বলেন, মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত কম হলে লাখো পর্যটক সমুদ্র সৈকতে এসেছেন। যারা বেশিরভাগই পানি নেমেছেন স্নান করেছেন।

 

পর্যটক হয়রানি রোধে যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের পরিদর্শক মোহাম্মদ সোহেল। তিনি বলেন, সমুদ্র সৈকতের পাশাপাশি বিশ্বের দীর্ঘতম মেরিন ড্রাইভ, হিমছড়ি ঝর্ণা, ইনানি ও পাটুয়ারটেকের পাথুরে সৈকত, শহরের বার্মিজ মার্কেট, মহেশখালীর আদিনাথ মন্দির, ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক এবং রামুর বৌদ্ধ বিহারসহ কক্সবাজারের বিনোদন কেন্দ্রগুলো পর্যটকদের আনাগোনায় মুখরিত হয়ে উঠেছে। সবখানেই নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। নিয়মিত টহলের পাশাপাশি জেলা পুলিশের টহলও রয়েছে। বসনো হয়েছে অভিযোগ কেন্দ্র। পর্যটকদের থেকে কোনো অভিযোগ পেলে পুলিশ ও জেলা প্রশাসন মিলে দ্রুত সমাধন করা হচ্ছে।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন