অন্যদিকে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার তৈরি করা, মূল্য তালিকা না রাখাসহ নানা অভিযোগে চারটি হোটেলসহ সুপার সপকে সাড়ে ৯ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বুধবার (১৯ মার্চ) দুপুর থেকে বিকেলে পর্যন্ত পৃথকভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এ জরিমানা করা হয়।
বাংলাদেশ চা বোর্ডের পঞ্চগড় আঞ্চলিক কার্যালয় ও ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, জেলার চা কারখানাগুলোতে প্রতিনিয়তই তদারকি করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার বিকেলে পঞ্চগড় সদর উপজেলার জগদল এলাকার চা প্রক্রিয়াজাত কারখানা মলি টি ফ্যাক্টরিতে জেলা প্রশাসন ও চা বোর্ড অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চা তৈরি এবং মানহীন পাতা সংগ্রহ করা এবং সংগৃহীত চা পাতায় ফরেন পার্টিকেলের উপস্থিতি খুঁজে পায় প্রশাসন ও চা বোর্ডের কর্মকর্তারা।
আরও পড়ুন: অবৈধভাবে ইউরিয়া সার গুদামজাত করায় বিএনপি নেতাকে জরিমানা
পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারখানার মালিক মখলেছার রহমানকে এক লাখ টাকা জরিমানা করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার ইমরানুজ্জামান। একই সঙ্গে মুচলেকা নেয়া হয়। এদিকে জরিমানার নগদ অর্থ প্রদান করলে আদায়কৃত টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেয়া হয়।
এ সময় অন্যদের মধ্যে চা বোর্ড পঞ্চগড় আঞ্চলিক কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফ খানসহ চা বোর্ডের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকায় জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় জেলা নিরাপদ খাদ্য অফিস ও জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে পঞ্চগড় জেলা জজ আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাহিদ হাসানের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।
এ সময় হোটেল হাইওয়েকে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার তৈরি, হোটেল নুরজাহানকে মেয়াদ ছাড়া খাবার সংরক্ষণ করা, স্বপ্ন সুপার সপে মূল্য তালিকা না রাখাসহ নানা অভিযোগে চারটি প্রতিষ্ঠানকে সাড়ে নয় হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
আরও পড়ুন: চুয়াডাঙ্গায় ভোক্তার অভিযানে তিন প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা
ভ্রাম্যমাণ আদালতে ইফতার বাজার মনিটরিংসহ বিভিন্ন মুদি দোকান পরিদর্শন করা হয়। এ সময় আনুমানিক ১০ কেজি রং যুক্ত চিপস জব্দ ও ধ্বংস করা হয় এবং নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩ অনুযায়ী সতর্ক করা হয়।
অভিযানে উপস্থিত ছিলেন জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা জয় চন্দ্র রায়, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পঞ্চগড় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মাসুম উদ দৌলা, সদর নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক ও পৌর নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক, জেলা পুলিশ ও আনসারের একটি দল।
এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক সাবেত আলী।