নোয়াখালীতে শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মকর্তা সংকট, পাঠদান ব্যাহত

১ সপ্তাহে আগে
নোয়াখালীতে শিক্ষা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে শুরু করে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষক ও কর্মকর্তার পদ শূন্য থাকায় বাধাগ্রস্ত হচ্ছে সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রম।

জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৯টি উপজেলার মধ্যে ৮টিতেই উপজেলা শিক্ষা অফিসারের পদ শূন্য। সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারের ৯টি পদের মধ্যে ৬টিই খালি। এমনকি তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির প্রায় সব পদই দীর্ঘকাল ধরে শূন্য পড়ে আছে। প্রশাসনিক এই সংকটের ফলে বিদ্যালয়ের নিয়মিত তদারকি ও শিক্ষক ব্যবস্থাপনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।


শিক্ষক সংকটের চিত্র আরও উদ্বেগজনক। জেলার ১৬টি সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের মধ্যে ১৪টিতেই কোনো প্রধান শিক্ষক নেই। সহকারী শিক্ষকের ১৮টি পদের মধ্যে ১৭টিই শূন্য। এ ছাড়া ৫১টি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক এবং ৫৪টিতে সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদ খালি পড়ে আছে। জুনিয়র স্কুলগুলোতেও অন্তত ৪ জন প্রধান শিক্ষকসহ বিপুলসংখ্যক বিষয়ভিত্তিক সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য।


নোয়াখালী জেলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. আবুল কাশেম সংকটের চিত্র তুলে ধরে বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ে ৫৩ জন শিক্ষকের পদের মধ্যে ১৪টিই শূন্য। আর কর্মচারীদের ১৪টি পদের মধ্যে ১২টিই খালি। এতে নিয়মিত পাঠদান ও দাপ্তরিক কাজ সামলাতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।


জেলার এই অচলাবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় শিক্ষাবিদরাও। চৌমুহনী সরকারি এস এ কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক আবুল বাসার এবং নোয়াখালী সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মো. জসীমউদ্দিন জানান, দ্রুত শিক্ষক ও কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া না হলে জেলার শিক্ষার মান আরও অবনতির দিকে যাবে।


আরও পড়ুন: শিক্ষক সংকটে ধুঁকছে লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজ, ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম


জেলায় ১৬টি সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের পাশাপাশি ৩০৫টি বেসরকারি মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে। প্রায় সবখানেই শিক্ষক সংকটের কারণে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান, পরীক্ষা গ্রহণ ও শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।


জানতে চাইলে জেলা শিক্ষা অফিসার নুর উদ্দিন মো. জাহাঙ্গীর বলেন, ‘শিক্ষা কর্মকর্তা ও শিক্ষক সংকটের কারণে অনেক স্কুলে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। দ্রুত শূন্য পদগুলো পূরণ করা গেলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব হবে।’


অভিভাবক ও শিক্ষাবিদদের আশঙ্কা, দ্রুত সময়ের মধ্যে এই শূন্য পদগুলোতে নিয়োগ না দিলে জেলার শিক্ষা ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি ও অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন