নীলফামারী-৪ আসনে অবাঙালি, নতুন ভোটার ও হিন্দু ভোটে বদলাতে পারে সমীকরণ

২ সপ্তাহ আগে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনে ভোটের সমীকরণ এখন বেশ জটিল। এখনও স্পষ্ট হয়নি নির্বাচনী লড়াইটা আসলে কেমন হবে। ত্রিমুখী লড়াই মনে হলেও বাস্তবে শক্তিশালী স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কারণে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও বহুমাত্রিক রুপ নিয়েছে। বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর পাশাপাশি একাধিক প্রার্থী মাঠে থাকায় ভোটের হিসেব জটিল। এ আসনের মূল ফ্যাক্ট অবাঙালি, নতুন ভোটার ও সনাতনীদের ভোট।

বরাবরেই এ আসনটি জাতীয় পাটি ও আওয়ামী লীগের জোটের দখলে ছিল। বিগত সরকারের আমলেও এ আসনে আওয়ামী জোটের সংসদ সদস্যা নির্বাচিত হন । তাছাড়া সৈয়দপুর পৌর এলাকার অবাঙালি ভোটারদের জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে উপস্থিতি এ আসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ঐতিহাসিক ভাবে অবাঙালি ভোটাররা দলীয় রাজনীতির চেয়ে প্রার্থীর ব্যক্তিগত ইমেজ, সামাজিক সম্পর্ক এবং এলাকায় তার উপস্থিতিকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। অবাঙালি ভোটারা বলছেন, ভোটাররা এবারও শুধু দলীয় পরিচয়ের ওপর ভরসা রাখতে চাইছেন না।

 

অনেকের মধ্যেই দীর্ঘদিনের রাজনীতি নিয়ে হতাশা আছে, আবার একই সঙ্গে রয়েছে পরিবর্তনের প্রত্যাশা। নির্বাচনের আগে ক্যাম্পবাসীদের উন্নয়নে অনেক প্রতিশ্রতি দেন প্রর্থীরা, কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। এ কারণেই স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রতি তাদের আগ্রহ তুলনামূলক বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

 

ক্যাম্প উন্নয়ন কমিটির সভাপতি মাজিদ ইকবাল বলেন, তারা এমন জনপ্রতিনিধি চান যিনি নিয়মিত এলাকায় থাকবেন, মানুষের কথা শুনবেন এবং বাস্তব সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হবেন। ফলে দল আগে না ব্যক্তি আগে এই প্রশ্নটাই এবার নির্বাচনের কেন্দ্রে চলে এসেছে।

 

আরও পড়ুন: ‎আওয়ামী লীগ ভোটে না থাকা মানে, নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না: জিএম কাদের

 

তরুণ ভোটাররাও এই আসনের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারেন। শিক্ষিত বেকারত্ব, কর্মসংস্থানের অভাব এবং প্রশিক্ষণের সংকট তাদের প্রধান উদ্বেগ। তরুণদের বক্তব্যে বারবার উঠে আসছে আইটি ও কারিগরি প্রশিক্ষণ, ছোট শিল্প গড়ে তোলা এবং উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগের কথা। তারা বলছেন, শুধু স্লোগান নয়, বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা দরকার।

 

যে প্রার্থী তরুণদের সঙ্গে বসে কথা বলছেন এবং এলাকায় থেকে কাজ করার আশ্বাস দিচ্ছেন, তার দিকেই তাদের ঝোঁক বেশি দেখা যাচ্ছে।

 

বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আব্দুল গফুর সরকার অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ এবং তার বড় শক্তি হলো দলের কর্মী-সমর্থকদের সক্রিয় উপস্থিতি। তবে বিএনপির ভোটব্যাংকে এবার কিছুটা দ্বিধা দেখা যাচ্ছে। কারণ একই দল থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী দুইজন নেতা স্বতন্ত্র হিসেবে মাঠে থাকায় ভোট ভাগ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অনেক বিএনপি সমর্থক বলছেন, তারা দলকে সমর্থন করলেও স্থানীয়ভাবে যিনি বেশি গ্রহণযোগ্য, তাকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন।

 

জাতীয় পার্টির প্রার্থী সিদ্দিকুল আলম সিদ্দিক উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার ধারাবাহিকতার কথা তুলে ধরছেন। তার সমর্থকদের দাবি, অতীতে এই আসনে যে উন্নয়ন হয়েছে, তার সুফল মানুষ এখনো পাচ্ছে।

 

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হাফেজ আব্দুল মুনতাকিম দুর্নীতিমুক্ত নেতৃত্ব ও সুশাসনের বার্তা দিচ্ছেন। বিশেষ করে কিছু তরুণ ও ধর্মপ্রাণ ভোটারের মধ্যে তার বক্তব্য প্রভাব ফেলছে বলে মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।

 

এই নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছেন। ফুটবল প্রতীকের প্রার্থী রিয়াদ আরফান সরকার রানা তরুণ ও অবাঙালি ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগকে তার শক্তি হিসেবে দেখছেন। তাছাড়া তার বাবা সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম আমজাদ হোসেন সরকার ভজে র্দীঘ দিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং বারবার নির্বাচিত পৌর মেয়র ছিলেন। বাবার ভোটব্যাংক তার দিকে ঝুঁকতে পারে।

 

আরও পড়ুন: কবরে গিয়ে যেন বলতে পারেন, দ্বীন কায়েমের জন্য দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়েছি: শাহরিয়ার কবির

 

মোটরসাইকেল প্রতীকের প্রার্থী মামুন অর রশিদ মামুন তরুন ভোটারদের উপর গুরুত্ব দিচ্ছে। তরুণ ভোটাররা মনে করছেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হলে তিনি দলীয় চাপের বাইরে থেকে এলাকার জন্য কাজ করতে পারবেন। এই ভাবনাই তাদের প্রতি আস্থা বাড়াচ্ছে।

 

মাঠের চিত্র বলছে, এখনো কোনো একজন প্রার্থীকে স্পষ্টভাবে এগিয়ে রাখা কঠিন। বিএনপি সংগঠনের শক্তিতে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নিজেদের কর্মে এগিয়ে। জাতীয় পার্টি উন্নয়নের যুক্তিতে নির্দিষ্ট ভোট ধরে রাখার চেষ্টা করছে, আর জামায়াত তাদের স্থায়ী ভোটব্যাংকের ওপর নির্ভর করছে। 
শেষ পর্যন্ত অবাঙালি ,নতুন ভোটার ও সনাতনীদের অবস্থান এবং শেষ মুহূর্তের সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে কে জিতবে।

 

এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৫১ হাজার ৮১৪ জন। এ মধ্যো পুরুষ ভোটার ২,২৬,৭২৮ হাজার, নারী ভোটার ২,২৫,৮১৪ জন তৃতীয় লিঙ্গ ভোটার ৫জন। ভৌগলিকভাবে নীলফামারী ৪ আসনটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

 

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন