রোববার (১ মার্চ) থেকে সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরার মৌসুম শুরু হয়েছে।
বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কাঁকড়ার প্রাকৃতিক প্রজনন নিশ্চিত করতে প্রতি বছর জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে সুন্দরবনে কাঁকড়া আহরণে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এ বছরও ৫৯ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে ১ মার্চ থেকে বনবিভাগের অনুমতিপত্র (পাস) নিয়ে জেলেরা আবারও সুন্দরবনে প্রবেশ শুরু করেছেন।
সাতক্ষীরা রেঞ্জের বিভিন্ন স্টেশন থেকে পাস সংগ্রহ করে ভোর থেকেই জেলেরা নদী-খালে কাঁকড়া ধরতে ছুটছেন। দীর্ঘ বিরতির পর কাজে ফিরতে পেরে তাদের মধ্যে দেখা গেছে নতুন উদ্দীপনা।
বনবিভাগের তথ্য মতে, সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশের আয়তন ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার। এর মধ্যে জলভাগ রয়েছে ১ হাজার ৮৭৪ দশমিক ১ বর্গকিলোমিটার, যা মোট আয়তনের ৩১ দশমিক ১৫ শতাংশ। এ জলভাগে ২১০ প্রজাতির সাদা মাছ, ২৪ প্রজাতির চিংড়ি এবং ১৪ প্রজাতির কাঁকড়া পাওয়া যায়।
আরও পড়ুন: বসতবাড়িতে আটকা সুন্দরবনের ঈগল, দেয়া হচ্ছে চিকিৎসা
উপকূলবর্তী জেলেরা জানান, নিষেধাজ্ঞার দুই মাস তারা জীবিকার তাগিদে বিভিন্ন এলাকায় বিকল্প কাজের সন্ধানে যেতে বাধ্য হন। অনেকেই সংসার চালাতে স্থানীয় মহাজনের কাছ থেকে দাদন নিয়েছেন। এখন মৌসুম শুরু হওয়ায় তারা নৌকা ও জাল মেরামত করে নতুন উদ্যমে কাঁকড়া আহরণে নেমেছেন।
সাতক্ষীরা রেঞ্জের বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান বলেন, ‘প্রতি বছর জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাস কাঁকড়ার প্রজনন মৌসুম। এ সময় নদী-খালে কাঁকড়া ডিম পাড়ে এবং বাচ্চা ফুটে বের হয়। তখন তারা অত্যন্ত সংবেদনশীল অবস্থায় থাকে। এ সময়ে কাঁকড়া ধরা হলে বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। তাই প্রজনন নির্বিঘ্ন রাখতে এ দুই মাস কাঁকড়া আহরণ বন্ধ রাখা হয়।’
সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মশিউর রহমান জানান, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে অবৈধভাবে কাঁকড়া আহরণের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়। এ সময় অন্তত ২৫ থেকে ৩০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বনবিভাগ জানিয়েছে, প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ ও টেকসই আহরণ নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের মৌসুমি নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকবে।

১৫ ঘন্টা আগে
১








Bengali (BD) ·
English (US) ·