নির্বাচকদের পূর্ণ স্বাধীনতার আশ্বাস দিলেন পিসিবি চেয়ারম্যান

৪ সপ্তাহ আগে
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি শনিবার (১৪ মার্চ) পুরুষ ক্রিকেট দলের নির্বাচক কমিটির সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের পূর্ণ স্বাধীনতার আশ্বাস দিয়েছেন।

বৈঠকে নাকভি নির্বাচক আকিব জাভেদ, মিসবাহ-উল-হক, আসাদ শফিক এবং সরফরাজ আহমেদকে কোনো চাপ ছাড়াই দায়িত্ব পালনের পরামর্শ দেন এবং তাদের প্রতি নিজের পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।


নাকভি বলেন, 'সৎভাবে এবং কোনো চাপ ছাড়াই তোমরা দায়িত্ব পালন করো। শুধু সমালোচনার জন্য যে সমালোচনা হয়, সেগুলোকে গুরুত্ব দিও না।'


তিনি আরও বলেন, 'আমার পূর্ণ সমর্থন তোমাদের সঙ্গে আছে।'


এর জবাবে জাতীয় নির্বাচক কমিটির সদস্যরা তাদের ওপর আস্থা রাখার জন্য পিসিবি চেয়ারম্যানকে ধন্যবাদ জানান।

 

আরও পড়ুন: সিরিজ জয়ের মিশনে বাংলাদেশের পুঁজি ২৯০ রান


উল্লেখ্য, এই বৈঠকটি এমন সময় অনুষ্ঠিত হলো যখন চলমান তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশের বিপক্ষে পাকিস্তান দলে কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে বাদ দেওয়ায় নির্বাচক কমিটি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। এই সিরিজটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের হতাশাজনক ফলাফলের পর তাদের প্রথম আন্তর্জাতিক অ্যাসাইনমেন্ট।


গত বছরের নভেম্বরে ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কাকে ৩–০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করার পরও পাকিস্তান এই সিরিজের জন্য দলে বড় পরিবর্তন আনে। তারকা ব্যাটার বাবর আজমের সঙ্গে ফখর জামান, হাসিবুল্লাহ খান, মোহাম্মদ নওয়াজ, নাসিম শাহ এবং সাইম আইয়ুবকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়।


তাদের জায়গায় ছয়জন অনভিষিক্ত খেলোয়াড়কে সুযোগ দেওয়া হয়। তারা হলেন– আব্দুল সামাদ, মাজ সাদাকাত, মোহাম্মদ গাজী ঘোরি, সাদ মাসুদ, সাহিবজাদা ফারহান এবং শামিল হুসেন।


সমালোচনা আরও তীব্র হয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের আট উইকেটে হারের পর। সেই ম্যাচে তারা বাংলাদেশের বিপক্ষে তাদের সর্বনিম্ন স্কোর (১১৪) করে এবং স্বাগতিকরা মাত্র ১১৫ রানের লক্ষ্য ২০৯ বল হাতে রেখেই তাড়া করে জিতে যায়, যা উইকেট ও বল বাকি থাকার দিক থেকে বাংলাদেশের বিপক্ষে পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় পরাজয়।


তবে দ্বিতীয় ম্যাচে পাকিস্তান ঘুরে দাঁড়ায়। তরুণ অলরাউন্ডার মাজ সাদাকাতের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে তারা স্বাগতিকদের ১২৮ রানে হারায়।


এদিকে বৈঠকের পর লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে জাতীয় নির্বাচকরা সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে আকিব জাভেদ পাকিস্তান দলের বহুজাতিক টুর্নামেন্টে ব্যর্থতার পর বারবার পরিবর্তনের কারণে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।


তিনি বলেন, খেলোয়াড় নির্বাচন থেকে শুরু করে ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনে ঘনঘন পরিবর্তন পাকিস্তান ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় ভুলগুলোর একটি। তার মতে, অন্য কোনো ক্রিকেট খেলুড়ে দেশে এত বেশি পরিবর্তন দেখা যায় না।


আকিব জাভেদ বলেন, 'অনেক দিন ধরেই আমাদের দেশে এটা চলছে। দল কোনো টুর্নামেন্টে হারলেই সঙ্গে সঙ্গে বলা হয় জবাবদিহি দরকার। তখন খেলোয়াড় বাদ দেওয়া, কোচ বদলানো, অধিনায়ক বদলানো—এমনকি বোর্ড চেয়ারম্যান বদলানোর দাবিও ওঠে।'

 

আরও পড়ুন: অবসরের ঘোষণা দিলেন পাকিস্তানকে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জেতানো সরফরাজ


তিনি আরও বলেন, 'শেষ বিশ্বকাপের পরও এটা হয়েছে, এরপর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সময়ও একই কথা হয়েছে, আবার এশিয়া কাপের সময়ও। আমরা যখনই হারি, তখনই প্রতিবাদ শুরু হয় এবং পুরো দল বদলে দেওয়ার দাবি ওঠে।'


জাভেদের মতে, 'এইভাবে আমরা অনেক অন্যায় করেছি। আমার মতে পাকিস্তান ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় ভুলগুলোর একটি হলো ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত বারবার পরিবর্তন করা। যদি পাকিস্তান ক্রিকেটের মডেলকে বিশ্বের অন্য দলের সঙ্গে তুলনা করা হয়, আমি মনে করি না আর কোনো দল আমাদের মতো এত পরিবর্তন করেছে।'

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন