খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগে গত ২ মার্চ এক নারী ও কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) ডেপুটি কমিশনার মো. নাজমুল ইসলামের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন চিকিৎসক জোবায়ের আহমেদ। এরপর পর্নোগ্রাফি আইনে ওই নারীসহ চারজনের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করেন তিনি।
এ নিয়ে সময় সংবাদে খবর প্রচারিত হলে, ওই নারী যোগাযোগ করে ডা. জোবায়ের সম্পর্কে করেন পাল্টা অভিযোগ।
অভিযোগকারী নারী বলেন, ‘জোবায়েরের সাবেক স্ত্রীর সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক। তাই আমার ওপর ক্ষোভ রয়েছে তার। তাই আমাকে হয়রানি করছে। আমি আইনি পক্রিয়ায় আছি।’
এদিকে, ডা. জোবায়েরের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা করা পরকীয়া প্রেমিকাও জানান নিজের অসহায়ত্বের কথা।
তিনি বলেন, ‘সে নিজের ব্যাপারে তথ্য গোপন করে আমার সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। তারই এক বন্ধু আমাকে জানায়, আমার আপত্তিকর ভিডিও ছড়ানোর চেষ্টা করছে জোবায়ের। এক পর্যায়ে জানতে পারি সে সিলেটে নারীঘটিত ব্যাপারে তিনবার আটক হয়েছিল। তখন আমি তার সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে চাই না। এরপর থেকে জোবায়ের আমাকে এবং আমার পরিবারকে ব্ল্যাকমেইল করতে থাকে। তাই আমি মামলা করতে বাধ্য হই।’
ভুক্তভোগী দুই নারীই নয়, জোবায়েরের সাবেক স্ত্রীসহ একাধিক নারীও জানান প্রবঞ্চনার কথা।
আভিযোগকারী আরেক নারী বলেন, আমি তার স্ত্রীকে সবকিছু জানিয়ে দিয়েছিলাম। তখন কাউন্টারে আমাকে জোবায়েরের বিভিন্ন প্রেমের কথা জানানো হয়। এই একই কথা আমি আরেকজনের কাছ থেকেও পরবর্তীতে শুনেছি। আমি জোবায়েরকে ভয় পাই। আমার যতটুকু সম্মান অবশিষ্ট রয়েছে, তা নিয়েই থাকতে চাই।
ডা. জোবায়েরের সাবেক স্ত্রী বলেন, আমাদের সম্পর্কে ঝামেলা অনেক আগে থেকে চলছিল। মেয়েঘটিত কারণেই ঝামেলা ছিল। সবশেষ যে কাহিনিটা সে করেছিল, সেটা অনেক বেশি পর্যায়ে চলে গিয়েছিল।
এদিকে একের পর এক জিডি, কয়েকটি মামলা, চেম্বারে নারী রোগীকে যৌন হয়রানি, প্রেমিকার সঙ্গে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি ছড়িয়ে দেয়াসহ সব অভিযোগকে ষড়যন্ত্র বলে দাবি করছেন ডা. জোবায়ের।
তিনি বলেন,
জেল তো অনেকেই খাটে। জেল খাটলেই তো কেউ খারাপ হয়ে মারা যায় না। আমি আওয়ামী ফ্যাসিবাদের ভিকটিম হয়েছি বারবার।
ডা. জোবায়েরের করা মামলায় আসামি হওয়ার বিষয়ে সিটিটিসির ডিসি নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘কয়েকজন নারী থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন। তারা বলছিলেন, হয়রানি করা হচ্ছিল তাদের। তারা চেয়েছিলেন জোবায়েরকে যেন কাউন্সিলিং করি এবং বলি তিনি যেন ঝামেলায় না জড়ান। কিন্তু এসব বলার পর তিনি অব্যাহতভাবে নারীদের হয়রানি করে আসছিলেন। পরবর্তীতে জোবায়ের আমাকে ফাঁসাতে মামলায় আসামি করেছে।
এসব অভিযোগ ও পাল্টা মামলা নিয়ে ফের যোগাযোগ করা হয় ডা. জোবায়ের আহমেদের সঙ্গে। তবে তিনি ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি। মোবাইল ফোনে তিনি বলেন, আপনি আমার বক্তব্য আগে না নিয়ে নাজমুলের বক্তব্য রেকর্ড করেন। আমি যাদেরকে আসামি করেছি, তাদের বক্তব্য আপনি আগেই নিছেন। বিষয়টা আমার পছন্দ হয়নি।
]]>