‘নিজে গোল না করলে, দল জিতলেও খুশি হতেন না মেসি’

২ সপ্তাহ আগে
বার্সেলোনায় খেলাকালীন লিওনেল মেসি নিজে গোল না করলে, দল বড় ব্যবধানে জিতলেও খুশি হতেন না—এমন দাবি করেছেন তার সাবেক সতীর্থ স্যামুয়েল উমতিতি। আর্জেন্টাইন মহাতারকার অবিরাম ক্ষুধা, নিখুঁত হওয়ার তাড়না ও মানসিকতা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন বিশ্বকাপজয়ী ফরাসি ডিফেন্ডার।

২০১৬ সালে বার্সেলোনায় যোগ দেন উমতিতি। ২০২১ সাল পর্যন্ত মেসির সঙ্গে একই ড্রেসিংরুম ভাগ করেছেন তিনি। এই সময়েই মেসি পাঁচ মৌসুম টানা অন্তত ৩০টি করে গোল করেন, যার মধ্যে কয়েক মৌসুমে ৫০ গোলের মাইলফলকও ছুঁয়েছেন। তার গোলেই লা লিগা ও কোপা দেল রেসহ একাধিক শিরোপা জেতে কাতালান ক্লাবটি।

 

সম্প্রতি দ্য এলিভেট হাউস-এ দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেসির মানসিকতা নিয়ে উমতিতি বলেন, ‘ব্যক্তি হিসেবে সে অসাধারণ। আপনি বুঝতে পারবেন, সবকিছু জিতেও নিজেকে অন্যদের চেয়ে বড় ভাবার কোনো মানে নেই। লিও একটাই সব দিক থেকে। সে একাই ম্যাচ জিতিয়ে দিতে পারে, এমন খেলোয়াড় খুব কমই আছে।’

 

মেসির জয়ের ক্ষুধা বোঝাতে গিয়ে উমতিতির বিস্ময়কর মন্তব্য, ‘আমরা যদি ৪-০ গোলে জিততাম, কিন্তু সে নিজে গোল না করত, তাহলে সে খুশি হতো না। তার মাথায় বিষয়টা পরিষ্কার ছিল, তাকে সব সময় গোল করতে হবে। এটাই বড় খেলোয়াড়দের লক্ষণ।’

 

আরও পড়ুন: এপস্টেইন ফাইলে পাওয়া গেল ফরাসি তারকা ফুটবলারের নাম

 

মেসির খেলার ধরন নিয়েও প্রশংসা ঝরেছে উমতিতির কণ্ঠে। তার ভাষায়, ‘গোলের সামনে সে একজন ঘাতক। কখন গতি বাড়াতে হবে, কখন খেলা থামাতে হবে, সব সে জানত। সে সব সময় ডানে-বামে তাকিয়ে সতীর্থদের অবস্থান বুঝে নিত। তার কাছে সময়টা যেন একটু বেশি থাকত। লিওকে আটকানোর কোনো নির্দিষ্ট উপায় নেই, সে একেবারেই অনিশ্চিত।’

 

বার্সেলোনায় খেলার সময় লুইস সুয়ারেজ ও নেইমারের মতো ভয়ঙ্কর ফরোয়ার্ডদের সঙ্গে যেমন খেলেছেন উমতিতি, তেমনি রক্ষণে পেয়েছেন জেরার্ড পিকের মতো কিংবদন্তিকে। পিকে সম্পর্কে উমতিতি বলেন, ‘আমি যাদের সঙ্গে খেলেছি, তাদের মধ্যে পিকে অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার। সে সবচেয়ে বেশি পরিশ্রমী ছিল না, কারণ শারীরিকভাবে সে তৈরি ছিল। কিন্তু তার খেলার বোধ ছিল অসাধারণ। মজার ব্যাপার হলো, আমরা যদি ৩ বা ৪-০ গোলে এগিয়েও থাকতাম, তবু সে ওপরে উঠে নিজের গোলটা করতে চাইত।’

 

আরও পড়ুন: রোনালদো যদি কালই চলে যান, সৌদি লিগ কেউ আর দেখবে না: টনি ক্রুস

 

বার্সেলোনার পেশাদার পরিবেশ নিয়েও কথা বলেছেন উমতিতি। তার মতে, ক্লাবটি খেলোয়াড়দের মাঠের বাইরে সব ঝামেলা থেকে মুক্ত রাখে। তিনি বলেন, ‘বার্সায় খেলোয়াড়ের একমাত্র কাজ ফুটবল। বাকি সবকিছু ক্লাব সামলায়। ম্যাচের আগের দিন হোটেলে যেতে হতো না, দুই ঘণ্টা আগে স্টেডিয়ামে পৌঁছালেই চলত। তারা আপনাকে দায়িত্বশীল করে তোলে, একজন পেশাদারের মতো আচরণ করে।’

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন