নাক ফোঁড়ানো কোনো আবশ্যকীয় বিষয় নয়। এটি ফরজ বা ওয়াজিব কিছু নয়। কেউ যদি নাক না ফোঁড়াতে চান, তাহলে তার পূর্ণ অবকাশ আছে। এতে কোনো গুনাহ নেই। আবার কেউ যদি সামাজিক রীতি বা বৈধ সৌন্দর্যের অংশ হিসেবে নাক ফোঁড়ান, তাতেও কোনো সমস্যা নেই। কারণ নাক ফোঁড়ানো জায়েজ।
নারী সাহাবিগণ কানে অলংকার পরিধান করতেন। তা সহীহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বর্ণনা করেন,
خَرَجَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ عِيدٍ، فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ لَمْ يُصَلِّ قَبْلُ وَلاَ بَعْدُ، ثُمَّ مَالَ عَلَى النِّسَاءِ، وَمَعَهُ بِلاَلٌ فَوَعَظَهُنَّ، وَأَمَرَهُنَّ أَنْ يَتَصَدَّقْنَ، فَجَعَلَتِ المَرْأَةُ تُلْقِي القُلْبَ وَالخُرْصَ।নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের দিন বের হলেন এবং দুই রাকাত নামায পড়লেন। আগে-পরে কোনো নামায পড়লেন না। অতঃপর বিলাল রা.-কে সাথে নিয়ে মহিলাদের কাছে গেলেন। তাদেরকে উপদেশবাণী শোনালেন এবং সদকা করার নির্দেশ দিলেন। তখন মহিলারা তাদের কানের দুল এবং হাতের কংকন খুলে দিতে লাগলেন। (সহিহ বুখারি-তে বর্ণিত হয়েছে ১৪৩১)
আরও পড়ুন: লোক দেখানো দানে যে শাস্তি
ফকীহগণ এ হাদীস থেকে বুঝেছেন যে, যখন কানে ছিদ্র করে দুল পরিধান করা বৈধ, তখন নাকে ছিদ্র করে নথ পরিধান করাও বৈধ। কারণ উভয় ক্ষেত্রেই উদ্দেশ্য বৈধ সৌন্দর্যচর্চা। তাই শরিয়তের দৃষ্টিতে নাক ফোঁড়ানো জায়েজ।
এ বিষয়ে ফিকহের কিতাবসমূহেও আলোচনা এসেছে। যেমন, খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/৩৭৭, আলহাবিল কুদসি ২/৩২৩, ফাতাওয়া বায্যাযিয়া ৬/৩৭১, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩৫৭ এবং আদ্দুররুল মুখতার ৬/৪২০-এ এ সংক্রান্ত মাসআলা উল্লেখ রয়েছে।
অতএব বলা যায়, নাক ফোঁড়ানো কোনো বাধ্যতামূলক বিষয় নয়। তবে তা জায়েজ এবং শরিয়তসম্মত। কেউ করলে গুনাহ নেই। না করলেও কোনো অসুবিধা নেই। ইসলাম এ ব্যাপারে সহজতা ও অবকাশ প্রদান করেছে।
]]>
২ সপ্তাহ আগে
৪








Bengali (BD) ·
English (US) ·