নলকূপ আর নদীতে নেই পানি, খাওয়া-গোসল ছাড়াই দিন কাটছে তাদের

১ সপ্তাহে আগে
ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে পানি শূন্য নলকূপ। গ্রামবাসী পড়েছেন বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকটে। অন্যদিকে বেরিবাঁধের মাটি গ্রামের ছোট্ট নদীতে পড়ে নাব্যতা হারিয়ে প্রায় মৃত। ব্যক্তিগত ব্যবহারের পানিও নেই। দুই মাস ধরে চলা এমন সংকটে বিপন্ন সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি গ্রামের মানুষ।

প্রতিনিয়তই চর্ম ও পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন তারা। দূষিত পানি পান করে মারা যাচ্ছে গবাদিপশু।

 

উপজেলার হরিনগর গ্রামে দেখা যায়, নারীরা বাঁশের আড়ে বসে খালের মধ্যে ছোট গর্তে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে কাপড় ধুচ্ছেন। আর কৃষকরা বালতি দিয়ে গর্তের পানি এনে গবাদিপশুর গোসল দিচ্ছেন। গ্রামের প্রতিটি নলকূপের হাতলে তিন থেকে চার নারী  শতশত চাপ দিয়ে একফোটা পানি ওঠাতে পারেনি। তাই পানি শূন্য কলসি-বালতি। প্রতিদিনের কাজ থালা-বাসন, হাড়ি-পাতিল ধোয়া ও শৌচ কাজে ব্যবহারের জন্য খালের অগভীর গর্তে জমে থাকা দূষিত পানি বাধ্য হয়ে কোনো রকমে ব্যবহার করছেন গ্রামবাসী।

 

গ্রামের বিভিন্ন বয়সের নারী ও কিশোরীরা দল বেঁধে গর্তের পানি বাড়ি নিয়ে যান। অনেক সময় লাগে কলস ডুবিয়ে পানি ভরতে। গর্তের পানি শেষ হয়ে গেলে গ্রামের কোথাও পানি পাওয়া যাবে না। তাই প্রতিদিনের নির্ধারিত সময়ে লাইন ধরে নারীরা মসজিদ স্কুল ও পারিবারিক সাবমার্সিবল পাম্প থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করেন।

 

আরও পড়ুন: বিশ্ব পানি দিবসে খালি কলস হাতে উপকূলীয় নারীদের বিক্ষোভ

 

অন্যদিকে সংসারে যাবতীয় ধোয়া-মোছা ও শৌচকর্মের জন্য গর্তের দূষিত পানি সংগ্রহ করেন তারা। ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ২০ মিটার প্রস্থের এই নদীতে ধোয়া-মোছার কাজে বৃষ্টির পানি জমাতে অনেক অগভীর গর্ত খুড়েন গ্রামবাসী। সুপেয় ও নিত্যব্যবহার্য পানি কতটা অভাব এসব দৃশ্য তা বলে দেয় বাস্তবতা ৷  

 

পুটিয়া, বাগানি, কুমরিয়া গ্রামের নারী-পুরুষ ও শিশু-কিশোর কয়েক কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে অন্যগ্রামের পাশ দিয়ে প্রবাহিত বৌলাই নদীতে সপ্তাহে ৩ দিন গোসল করেন। বাকি ৪ দিন গোসল ছাড়া থাকেন। পানির অভাবে নিয়মিত গবাদিপশুর গোসল মিলে না। এমনকি গ্রামের গৃহিনীদের গৃহপালিত হাঁস পালনের পানিও নেই। তাই অনেকেই হাঁস বিক্রি করে দিয়েছেন।


বিশুদ্ধ খাবার পানির অভাবে গ্রামবাসী গবাদিপশু মারা গেছে বেশ কয়েকজনের। অনিয়মিত গোসল ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার অভাবে গ্রামবাসী পানি বাহিত ও চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।

 

গেল দুইমাস যাবত অপরিচ্ছন্ন নোংরা বিছানাপত্র, পোশাক পরিচ্ছদ ব্যবহার করতে হচ্ছে তাদের। পুরো এলাকা এখন মরুভূমির মতো। খাবার পানি, সেচের পানি, সাংসারিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পানি নেই।

 

আরও পড়ুন: উপকূলবাসীর সুপেয় পানি সংকটের টেকসই সমাধান কবে?

 

চারদিকে পানির অভাবে হাহাকার সৃষ্টি হয়েছে। বৌলাই নদীর পানি ফুটিয়ে কোনো রকমে জীবন বাঁচাচ্ছেন তারা।

 

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদুল ইসলাম বলেন, জেলায় পানি সংকট নিরসনে গভীর নলকূপ স্থাপন শুরু করা হয়েছে। এই গ্রামগুলোতেও করা হবে।  


পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, নদী ও খাল খনন প্রকল্পের প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ের দেয়া আছে এটি অনুমোদন হলে নদী খনন করা হবে। হরিনগর নদী শুকিয়ে যাওয়ার হরিনগর, পুটিয়া, বাগানি, কুমরিয়া গ্রামের ৫ হাজার বাসিন্দা পানি সংকটে রয়েছেন। শীঘ্রই এর সমাধান হবে। 
 

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন