নবীজির রমজানের আমল

৪ দিন আগে
রমজান ইবাদতের বসন্তকাল। অনেকেই জানতে চায়-- কেমন ছিল আমাদের প্রিয় নবীজির রমজান? কীভাবে কেটেছিল নবীজির রমজানের দিনরাত? আজকে আমরা জানবো নবীজি যেভাবে রমজান কাটাতেন

নবীজির সাহরি

 

নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহরিতে খেজুর পছন্দ করতেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে আছে, ‘উত্তম সাহরি খেজুর এবং উত্তম তরকারি সিরকা। মহান আল্লাহ সাহরি গ্রহণকারীদের প্রতি দয়া করুন।’ (কানজুল উম্মাল: ২৩৯৮৩)

 

রমজানের দিন

 

সাহরির পর যখন ফজরের আজান হতো, রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাজ আদায় করে নিতেন। সকাল হলে সাহাবিদের রমজান ও রোজাসংক্রান্ত মাসয়ালা শিক্ষা দিতেন। হজরত লাকিত বিন সাবিরা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে আছে, নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমরা ভালোভাবে নাকে পানি পৌঁছাও, তবে রোজা অবস্থায় নয়। অর্থাৎ রোজা অবস্থায় হালকাভাবে পানি পৌঁছাও, অতিরঞ্জন করো না। (আবু দাউদ ২৩৬৩)

 

নবীজির ইফতার

 

খেজুর দিয়ে ইফতার শুরু করা রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অভ্যাস ছিল। আনাস বিন মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে আছে, তিনি বলেন, 

 

নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাজের আগে কয়েকটি কাঁচা খেজুর খেয়ে ইফতার করতেন। যদি কাঁচা খেজুর না থাকত, তাহলে শুকনো খেজুর দিয়ে। যদি শুকনো খেজুরও না থাকত তাহলে কয়েক ঢোক পানি দিয়ে ইফতার করতেন। (তিরমিজি; রোজা অধ্যায় : ৬৩২)

 

নবীজির তাহাজ্জুদ

 

রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সব সময় তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করতেন। রমজানে তাহাজ্জুদের নামাজে আরও বেশি মগ্ন হয়ে যেতেন। রাতের শেষ অংশে তাহাজ্জুদের জন্য তিনি দাঁড়িয়ে যেতেন। আয়েশা (রা.) বলেন, ‘রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজান মাসে ও অন্য সব মাসের রাতে ১১ রাকাতের অধিক সালাত আদায় করতেন না। প্রথমে চার রাকাত পড়তেন। এ চার রাকাত আদায়ের সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো না। এরপর তিন রাকাত আদায় করতেন। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রসুল, আপনি কি বিতর নামাজ আদায়ের আগে ঘুমিয়ে পড়েন? নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমার চোখ ঘুমায়, আমার অন্তর ঘুমায় না।’ (বুখারি, হাদিস: ৩৫৬৯)

 

আরও পড়ুন: রমজান মাসে কি বিয়ে করা যাবে?


তারাবি নামাজ

 

মহান আল্লাহ রমজানের দিনের রোজাকে ফরজ করেছেন। আর তার হাবিব সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘কিয়ামে রমজান’-এর ঘোষণার মাধ্যমে তারাবির মতো মূল্যবান এ হাদিয়া দান করেছেন। তারাবিতে কালামুল্লাহ-এর সঙ্গে বান্দার বিশেষ সম্পর্ক স্থাপিত হয় এবং এর মাধ্যমে বান্দার গুনাহ মাফ হয়। নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 

 

যে ব্যক্তি ঈমান ও আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস ও সওয়াবের প্রত্যাশা নিয়ে কিয়ামে রমজান আদায় করবে তার বিগত গুনাহগুলো ক্ষমা করে দেয়া হবে। (বুখারি, হাদিস: ২০০৯)

 

নবীজির দান-সদকা

 

নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বভাবগতভাবেই মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দানশীল ছিলেন। রমজান মাস এলে তার দানের পরিমাণ বহুগুণে বেড়ে যেত। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, 

 

রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষের মধ্যে সর্বাধিক দানশীল ব্যক্তি ছিলেন। রমজান মাসে জিবরাইল (আ.)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎকালে কল্যাণবহ মুক্ত বায়ুর চেয়েও বেশি দানশীল হয়ে যেতেন। (বুখারি, হাদিস: ৩২২০)

 

নবীজির কোরআন তেলাওয়াত

 

রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সব সময়ই কোরআন তেলাওয়াত করতেন। আর রমজান এলে তিনি তেলাওয়াত আরও বাড়িয়ে দিতেন। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, 

 

রমজান এলে প্রতি রাতে নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে জিবরাইল (আ.) আগমন করতেন। একে অপরকে কোরআন তেলাওয়াত করে শোনাতেন। (বুখারি, হাদিস: ৩৫৫৪)

 

আরও পড়ুন: তারাবি নামাজের মোনাজাত


নবীজির ইতেকাফ

 

ইতেকাফ তাকওয়া অর্জনের বড় মাধ্যম। নির্জনতায় প্রভুকে স্মরণ করার শ্রেষ্ঠ উপায়। প্রভুর দরবারে নিজেকে মেলে ধরার অবারিত সুযোগ। রমজানে নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ধারাবাহিক ও গুরুত্বপূর্ণ আমল ছিল ইতিকাফ। হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে আছে, তিনি বলেন, 

 

রমজানের শেষ দশকে নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইতিকাফ করতেন। (বুখারি, হাদিস: ২০৩৩)

 

তাই আসুন, রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবিদের পথ অনুসরণ করে পাপ-পঙ্কিলতা পরিহার করে তাকওয়া ও ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে এ মাসের রহমত, বরকত ও মাগফিরাত অর্জন করি।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন