দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় পত্রিকায় বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত কিছু খবর নিচে তুলে ধরা হলো।
ভোটের জন্য উন্মুখ দেশ - দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান খবর এটি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বহুপ্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ শুরু হতে যাচ্ছে। বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ চলবে। দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৯৯টি আসনে ৪২ হাজার ৬৫১টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ করা হবে। বাকি একটি আসন শেরপুর-৩-এ একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে নির্বাচন বাতিল করা হয়েছে।
প্রচারণা শেষ হওয়ায় কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া গতকাল মঙ্গলবার অনেকটা শান্ত ছিল ভোটের মাঠ। শঙ্কা-উৎকণ্ঠা ও উৎসবের মধ্যে টানা প্রায় ২০ দিনের নির্বাচনী প্রচারণা শেষে জয়-পরাজয়ের হিসাব নিয়ে ব্যস্ত প্রার্থীরা। সবার চোখ এখন আগামীকাল বৃহস্পতিবার ভোটের দিকে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছাড়াও গণভোট এ নির্বাচনে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। গণভোটের ফলাফলের ওপর অনেকটাই নির্ভর করবে সংবিধান সংশোধনের একগুচ্ছ প্রস্তাব।
সেই মাহেন্দ্রক্ষণ কাল- দৈনিক যুগান্তরের প্রধান খবর এটি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রচার শেষ হয়েছে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে সাতটায়। এখন চলছে ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি। কারণ বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচনের সেই মাহেন্দ্রক্ষণ কাল। তাই নির্বাচন কমিশন (ইসি), রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীরা তাদের শেষ মুহূর্তের নির্বাচনি কাজগুলো গুছিয়ে নিচ্ছেন। নির্বাচনে অংশ নেয়া বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপিসহ সক্রিয় দলগুলো তাদের মাঠের কৌশল নির্ধারণ করছে।
ভোটগ্রহণ সামনে রেখে সারা দেশে যেমন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে, তেমনি রয়েছে সহিংসতার আশঙ্কাও। ভোটের নিরাপত্তায় ইতোমধ্যে মাঠে নেমেছেন সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নয় লাখ ১৯ হাজারের বেশি সদস্য। এর সঙ্গে আছেন দুই হাজার ১০০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৬৫৭ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। এসব ম্যাজিস্ট্রেটদের নির্বাচনি অপরাধ ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় তাৎক্ষণিক সাজা দেয়ার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার নির্দেশনা দিয়েছে ইসি।
বদলে যাওয়া পরিবেশে ভোট উৎসবের আশা - দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম এটি।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে বদলে গেছে রাজনৈতিক মঞ্চ। ১৭ বছর পর পাল্টে যাওয়া পরিবেশে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য প্রস্তুত নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ২৯৯ আসনে আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত টানা চলবে ভোট গ্রহণ। শেরপুর-৩ আসনে এক প্রার্থীর মৃত্যুতে সেখানে স্থগিত করা হয়েছে ভোট।

রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যে গৃহীত জুলাই সনদে জনসমর্থন আদায়ে গণভোটেরও আয়োজন করা হয়েছে। দেশে এর আগে একাধিকবার গণভোট হলেও সংসদ নির্বাচনের দিনে একসঙ্গে গণভোট এবারই প্রথম। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছাড়েন। এর তিন দিন পর ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়ে রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কার, বিচার ও নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় আগামীকাল সেই মাহেন্দ্রক্ষণ।
সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের অপেক্ষায় দেশ - দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম এটি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার শেষে এখন ভোটের অপেক্ষা। আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে সাতটায় শুরু হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণ। একই সঙ্গে হবে জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান-সম্পর্কিত সংস্কার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে গণভোট।
গত ১১ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণা করা হয়। একজন প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন বাতিল করা হয়েছে। আগামীকাল ভোট হবে ২৯৯টি আসনে। ইতিমধ্যে ভোটের সব প্রস্তুতি শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বুধবার রাতের মধ্যে ভোটকেন্দ্রগুলোতে পৌঁছে যাবে ব্যালট পেপারসহ ভোটের প্রয়োজনীয় সব সরঞ্জাম। আগামীকাল সকাল সাড়ে সাতটায় শুরু হয়ে একটানা বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত চলবে ভোট গ্রহণ। ভোটাররা দুটি ব্যালট পেপারে ভোট দেবেন। একটি সাদা ব্যালট, এটি হবে সংসদ সদস্য নির্বাচনের ব্যালট। আর গোলাপি ব্যালট হবে গণভোটের।
ব্যালটের ভোটে বুলেটের থ্রেট - দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সংবাদ এটি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাত পোহালেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট। গতকাল সন্ধ্যায় শেষ হয়েছে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা। আগামীকাল সকাল থেকে দেশের তিন শতাধিক আসনে ভোটগ্রহণ শুরু হবে। কিন্তু ভোটের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা রয়েই গেছে। ইতিমধ্যে নানা শঙ্কার কথা গোয়েন্দা রিপোর্টেও উঠে এসেছে। প্রার্থী ও ভোটাররা আগে থেকেই শঙ্কা প্রকাশ করে আসছেন। এবারের ব্যালটে সবচেয়ে বড় থ্রেট বুলেট।
আর ভোটকেন্দ্র দখল, ব্যালট ছিনতাই, সংঘর্ষ, সহিংসতা, ভোটপ্রদানে বাধার শঙ্কাও আছে আলোচনায়। গোয়েন্দা রিপোর্টে দেশের কম-বেশি সব আসনে ঘটে যাওয়া সংঘাতের চিত্র উঠে এসেছে। সবক’টি সংসদীয় আসনের অতিঝুঁকিপূর্ণ, ঝুঁকিপূর্ণ ও সংঘাত হতে পারে- এমন কেন্দ্রের তালিকাও করা হয়েছে। তালিকা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার জন্য পুলিশের সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোকে জানানো হয়েছে। অস্ত্রের ব্যবহার করতে পারে এমন পেশাদার শুটারদের তালিকা করে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। বিভিন্ন প্রার্থীর হয়ে ভোটকেন্দ্র দখল, ব্যালট ছিনতাই করতে পারে- এমন সন্ত্রাসীদের তালিকা করে তাদেরকে ম্যানুয়ালি ও ডিজিটালি গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
২০ হাজার বৈধ অস্ত্র জমা পড়েনি - দৈনিক প্রথম আলোতে প্রকাশিত সংবাদ এটি।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, সরকারের বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে সব বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র জমা পড়েনি। জমা না পড়া অস্ত্রের সংখ্যা ২০ হাজার ২৮৮, শতাংশের হিসাবে ৪২। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করার অংশ হিসেবে লাইসেন্স করা এসব জমা দিতে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় দেয়া হয়েছিল।
পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলেছেন, থানায় জমা না হওয়া এসব অস্ত্র এখন অবৈধ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। এসব অস্ত্রের মালিকদের তালিকা করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। ভোটের মাঠে এসব আগ্নেয়াস্ত্র যাতে সহিংসতায় ব্যবহার না হয়, সে জন্য গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি অস্ত্রের মালিকদের গ্রেফতারে অভিযান চালানো হচ্ছে।
নারীর হাতেই জয়ের চাবি - দৈনিক ইত্তেফাকে প্রকাশিত খবর এটি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। তাকে ঘিরে প্রার্থীদের তুমুল প্রচারণার শেষ নেই। রাত-দিন এক করে চলছে গণসংযোগ কর্মসূচি। ভোটার মাঠ সরব রাখতে স্বজনরাও মাঠে নেমেছেন। রয়েছেন দলের নেতাকর্মীরাও। সকাল থেকে মধ্য রাত অবধি চলছে পথসভা, উঠান বৈঠক সভা ও মিছিল। এর মধ্যে চলছে লিফলেট, পোস্টার বিতরণ কর্মসূচি। অবশ্য যারা ত্রয়োদশ নির্বাচন শীতলভাবে সমীকরণ করে যাচ্ছেন, তারা নারী-পুরুষ ও তৃতীয় লিঙ্গের মূল্যবান ভোটারদের নিয়ে অংক কষে যাচ্ছেন।
সিলেট জেলার নির্বাচন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, আসন্ন নির্বাচনে সিলেটের ছয়টি আসনের নারী ভোটারদের হাতে জয়ের সম্ভাবনা মনে করেছেন বিশ্লেষকরা। তথ্য অনুযায়ী, সিলেটের ছয়টি আসনের মোট ভোটার আছে ২৯ লাখ ১৬ হাজার ৫৭৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৪ লাখ ৯৮ হাজার ৯৫৩ জন ও নারী ভোটার ১৪ লাখ ১৭ হাজার ৬১০ জন। আর তৃতীয় লিঙ্গ ভোটার আছে ১৬ জন। মোট ভোটারের প্রায় অর্ধেক অর্থাৎ শতকরা ৪৮ দশমিক ৫ ভাগ নারী ভোটার। আর এর অর্ধেক পুরুষ। অথচ এই পুরুষ ভোটারের উপস্থিতি শূন্য রয়েছে ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের আন্দোলনের পর থেকে।

দেশের একটি বড় রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের পতনের পর পুরুষ শূন্যের কোটায় আছে এই পরিবারগুলো। এছাড়া মামলা, গ্রেফতার ও আত্মগোপনের থাকার জন্য ত্রয়োদশ নির্বাচনে অংশগ্রহণে ওদের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। তাই সিলেটের এবারের ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ভোটের মাঠে যুদ্ধের চাবিকাঠি নারী ভোটারদের ওপর। যার দরুন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের মূল্যবান ভোটার হচ্ছে নারী ভোটাররা।
নতুন মন্ত্রীদের ৬০ গাড়ি প্রস্তুত - দৈনিক কালের কণ্ঠে প্রকাশিত সংবাদ এটি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের ব্যবহারের জন্য ৫০টির বেশি গাড়ি প্রস্তুত রাখতে বলেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এর পরিপ্রেক্ষিতে অন্তত ৬০টি গাড়ি নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত রেখেছে সরকারি যানবাহন অধিদপ্তর। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট আগামীকাল বৃহস্পতিবার। নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত হবে নতুন সরকার ও মন্ত্রিসভা।
নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর দ্রুততম সময়ে মন্ত্রিসভা গঠনের লক্ষ্যে এই আগাম লজিস্টিক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ব্যাপারে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সরকারি যানবাহন অধিদফতরের পরিবহন কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) মো. খায়রুল কবীর মেনন নিজ দফতরে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে নতুন মন্ত্রীদের জন্য গাড়ি প্রস্তুত রাখতে বলেছে। আমরা প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সেরে ৫০টির বেশি গাড়ি প্রস্তুত রেখেছি, যা আগের মন্ত্রিভার সদস্যরা ব্যবহার করেছেন।
শান্তিপূর্ণ নির্বাচন ও ক্ষমতা হস্তান্তর চান ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তারা - দৈনিক বণিকবার্তার প্রধান খবর এটি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত প্রায় দেড় বছরে দেশে যে পরিস্থিতি বিরাজ করেছে, তাতে বিনিয়োগ করা কঠিন ছিল—এমনটাই মনে করেন ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা। এখন তারা চান আগামীকাল শান্তিপূর্ণভাবে জাতীয় নির্বাচন শেষ হোক। পাশাপাশি ক্ষমতা হস্তান্তর হোক মসৃণ ও নিয়মতান্ত্রিক। তারা বলছেন, ফলাফল যা-ই হোক দেশে নতুন নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকারের মাধ্যমে যেন শান্তিপূর্ণ ও বিনিয়োগবান্ধব একটা পরিবেশ তৈরি হয়।
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল করা এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধিতে অন্তর্বর্তী সরকারের সাফল্য থাকলেও উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। দুর্বল আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্যে ছিল ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহার। ফলে এ সরকারের আমলে বেসরকারি বিনিয়োগ ও ঋণপ্রবাহে স্থবিরতা নেমে আসে, যা নেতিবাচক প্রভাব ফেলে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে। আবার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরকারের দূরত্ব ও আস্থার সংকট ছিল। আগামীকাল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। দেশের ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তারা এখন তাকিয়ে আছেন শান্তিপূর্ণ নির্বাচন ও ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রত্যাশায়।

২ সপ্তাহ আগে
৪








Bengali (BD) ·
English (US) ·