ধর্ষণের অভিযোগে আটক পোশাকশ্রমিকের থানা হাজতে মৃত্যু

২ দিন আগে
ভোলায় ধর্ষণের অভিযোগে আটক মো. হাসান নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে সদর থানা হাজতখানায়। সোমবার (৩১ মার্চ) দিনগত রাতে সদর মডেল থানার হাজতখানায় গলায় ফাঁস দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি করেছে পুলিশ।

এদিকে হাসানের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে নিহতের পরিবারে। হাসানের বৃদ্ধা মা আর সদ্য বিবাহিত স্ত্রী হাসপাতালে বিলাপ করে এঘটনার জন্য দায়িদের বিচার চেয়েছেন।


পুলিশ জানায়, সোমবার দুপুরে সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের মেদুয়া গ্রামের পোশাকশ্রমিক মো. হাসানকে ধর্ষণের অভিযোগে এলাকার একটি গ্রুপ গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। আহত হাসানকে বিকেলেই ভোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। 

আরও পড়ুন: অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর অস্ত্রোপচারের জন্য বাড়ি যাওয়ার পথে পুলিশ সদস্য নিহত

প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রাত ৮টায় হাসানকে হাসপাতাল থেকে পুলিশ সদর থানায় হাজতখানায় এনে রাখে। সিসি টিভির ফুটেজে দেখা যায়, রাত পৌনে ১২ টার দিকে হাসান হাজতখানায় থাকা নামাজি ছিঁড়ে হাতে করে বাথরুমে যান। কিছুক্ষণ পর বাথরুমের মধ্যে গলায় ফাঁস দেয়া অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতাল নিলে চিকিৎসক তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। 


এ মৃত্যুর বিষয়টিকে অস্বাভাবিক উল্লেখ করে বিচার চেয়েছেন নিহতের স্বজনরা।


মঙ্গলবার দুপুরে ভোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনে নিহত হাসানের বৃদ্ধা মায়ের গগনবিদারী বিলাপ ‘আমার সন্তাকে ফিরিয়ে দে’। উপস্থিত লোকজনের কাছে ভিক্ষা চাচ্ছেন আদরের সন্তানকে। কোনো আশ্বাসেই ছেলে হারানোর কষ্টের বিলাপ থামাতে পারছে না বৃদ্ধা শাহনাজকে।


মৃত্যুর বিষয়টি আত্মহত্যা উল্লেখ করে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন সদর থানার অফিসার ইনচার্জ আবু শাহাদত মো. হাচনাইন পারভেজ। 

আরও পড়ুন: সড়কে মোটরসাইকেল ‘রেস’, প্রাণ গেল দুই যুবকের

তিনি আরও জানান, ধর্ষণের অভিযোগে মামলা প্রক্রিয়াধীন। 

ভোলা হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট শুভ প্রসাদ দাস জানান, হাসানকে হাসপাতালের আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।


পোশাক শ্রমিক হাসান সদ্য বিবাহিতা স্ত্রীকে নিয়ে ঈদ উদযাপনের জন্য ২৯ মার্চ ঢাকা থেকে ভোলায় আসেন। দুই দিন পর ৩১ মার্চ প্রতিবেশী গৃহিনীকে ধর্ষণের অভিযোগে গণপিটুনি দেয় স্থানীয় একটি গ্রুপ।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন