প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সূত্রগুলোর ভাষ্য মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে আলোচনায় বড় ধরনের অগ্রগতির ‘প্রবল সম্ভাবনা’ রয়েছে। এর আগে আজ দিনের শুরুতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার টেলিফোনে কথা বলেন। উভয় পক্ষ এ খবর নিশ্চিত করেছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ফোনে দুই নেতা আঞ্চলিক পরিস্থিতি, যুদ্ধবিরতি ও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পৃক্ততার প্রেক্ষাপটে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা করেছেন। ইসহাক দার নিরবচ্ছিন্ন আলোচনার ওপর গুরুত্ব দেন। অন্যদিকে আরাঘচি পাকিস্তানের ‘ধারাবাহিক ও গঠনমূলক মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকার’ প্রশংসা করেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, আরাঘচি আজ পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গেও ফোনে কথা বলেছেন। তবে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) এই ফোনালাপের বিষয়ে কোনো তথ্য নিশ্চিত বা অস্বীকার করেনি।
আরও পড়ুন: হরমুজে ‘বন্ধুপ্রতিম’ দেশগুলোর কাছ থেকে ফি নেবে না ইরান: রিপোর্ট
যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর গত ১১ ও ১২ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু প্রায় ২১ ঘণ্টার আলোচনার পরও কোনো সমঝোতা ছাড়া শেষ হয় বৈঠক।
এরপর হরমুজ প্রণালী ও ইরানি বন্দরগুলোতে পাল্টা নৌ অবরোধ আরোপের ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। যা গত ১৩ এপ্রিল থেকে কার্যকর হয়। এতে উত্তেজনা আরও বাড়ে।
এর মধ্যেই তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে দ্বিতীয় দফার বৈঠকের জন্য চেষ্টা করছে প্রধান মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান। সেই লক্ষ্যে চলতি সপ্তাহের শুরু থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয় পাকিস্তান। ইসলামাবাদ ও পাশের শহর রাওয়ালপিন্ডিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।
আরও পড়ুন: যুদ্ধ বন্ধের শর্তে কেন একমত হতে পারছে না ইরান-যুক্তরাষ্ট্র
গত মঙ্গলবার বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। যুক্তরাষ্ট্র রাজি থাকলেও শেষ পর্যন্ত ইরান প্রতিনিধিদল না পাঠানোয় আলোচনা ঝুলে যায়। তেহরান বারবার বলে আসছে, নৌ অবরোধ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনায় বসবে না তারা। তবে বৈঠক না হলেও ‘অনির্দিষ্টকালের জন্য’ যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ান ট্রাম্প। কিন্তু সেই সঙ্গে নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখার কথাও বলেন তিনি। এরপর ইরানি স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, তারা আর আলোচনা নিয়ে এগোবে না।
গত বুধবার (২২ এপ্রিল) ট্রাম্প আশা প্রকাশ করে বলেন যে, ক্রমাগত অবিশ্বাস থাকা সত্ত্বেও দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে দ্বিতীয় দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে পারে। নিউইয়র্ক পোস্ট ট্রাম্পের কাছে জানতে চায় যে, আগামী ৩৬ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ইসলামাবাদে আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা আছে কিনা, তখন ট্রাম্প বলেন, ‘এটা সম্ভব!’
এরপর গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি ইসলামাবাদে পাকিস্তানে নিযুক্ত মার্কিন চার্জ ডি'অ্যাফেয়ার্স ন্যাটালি বেকারের সাথে একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক’ করেন, যেখানে তারা ইসলামাবাদে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফা মার্কিন-ইরান আলোচনা সংক্রান্ত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা করেন।
]]>
১ সপ্তাহে আগে
২








Bengali (BD) ·
English (US) ·