দেড় বছরে তিনবার সভাপতি বদল— এতটুকুও অবাক হননি সিমন্স

১ সপ্তাহে আগে
২০২৪ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব নেন ফিল সিমন্স। সে সময় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি ছিলেন ফারুক আহমেদ। তার ক’দিন পরই বদল হয় সভাপতি, বোর্ডের দায়িত্ব পান আমিনুল হক বুলবুল। প্রায় বছর খানেক দায়িত্বে থাকার পর বুলবুলের সেই কমিটি ভেঙে দেয় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। এখন বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সভাপতির দায়িত্বে আছেন তামিম ইকবাল। দেড় বছরে তিনবার সভাপতি পরিবর্তন, সবকিছুই সামনে থেকে দেখেছেন ফিল সিমন্স। তবে বোর্ডের বারবার রদবদলে এতটুকুও অবাক হননি টাইগারদের এই প্রধান কোচ।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) সংবাদ সম্মেলনে মুখে প্রশস্ত এক হাসি নিয়ে সাংবাদিকদের উত্তর দিলেন ফিল সিমন্স। তার কথায় এমন এক স্বাভাবিক স্বর ছিল যে, উপস্থিত সাংবাদিকদের মাঝেও ছড়িয়ে পড়ে হাসির রেশ। জীবনের অসংখ্য উত্থান–পতনের অভিজ্ঞতা বুকে নিয়ে ৬৩ বছর বয়সি এই ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান কোচ জানান, জীবনের এই পর্যায়ে এসে আর কিছুই তাকে বিস্মিত করতে পারে না। 

 

বাংলাদেশ ক্রিকেটে এত দ্রুত নেতৃত্বে পরিবর্তন— এতে কি সিমন্স বিস্মিত হয়েছেন? এমন প্রশ্নই উঠেছিল তার সামনে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ শুরুর আগে আজ মিরপুরে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকরা জানতে চেয়েছিলেন, এই হঠাৎ বদল নিয়ে তার প্রতিক্রিয়া কী? 

 

আরও পড়ুন: আইপিএল থেকে অবসর নেয়ারাই পিএসএলে খেলতে আসে: আহমেদ শেহজাদ

 

সিমন্স বলেন, ‘জীবনে কোনো কিছুই আমাকে আর অবাক করে না। এর সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো সম্পর্ক নেই, এটা জীবন নিয়েই আমার উপলব্ধি। আমি এতটাই চড়াই-উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে গিয়েছি যে আমি জানি, প্রতিদিন কত কিছু ঘটে যেতে পারে, তাই কোনো কিছুতেই আমি আর বিস্মিত হই না।’ 

 

সিমন্স আরও বলেন, ‘একটা সিরিজের প্রস্তুতির জন্য আমরা যেভাবে দলকে তৈরি করি বা যে পরিশ্রম করি, সেখানে কোনো পার্থক্য গড়ে দেয়নি (সভাপতি বদলে যাওয়া) এটা। কোচিং গ্রুপ হিসেবেও আমাদের কাজের ধরনে এটি কোনো প্রভাব ফেলেনি।’ 

 

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের ক্রিকেট অঙ্গনে ঘটেছে বেশ কিছু নাটকীয় ঘটনা। ৭ এপ্রিল সকাল পর্যন্ত বিসিবি সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল, আর বিকেলের মধ্যেই তার স্থলাভিষিক্ত হয়ে অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন তামিম ইকবাল। এর পরপরই শুরু হয় অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের নানা আলোচনা। আর এসব ঘটনার মধ্যেই জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা ব্যস্ত ছিলেন নিউজিল্যান্ড সিরিজকে সামনে রেখে প্রস্তুতি ক্যাম্পে। 

 

আরও পড়ুন: গম্ভীরকে টিম ইন্ডিয়া থেকে সরালে পরিণতি খারাপ হবে: মুনাফ প্যাটেল

 

তবে সিমন্স মনে করেন, ওই ঘটনা খেলোয়াড়দের ওপর কোনো প্রভাব ফেলেনি। ‘আমরা কী করছি বা কীভাবে অনুশীলন করছি, তাতে এটা কোনো প্রভাব ফেলেনি। যেভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছিল, ঠিক সেভাবেই সব শেষ হয়েছে। আর যদি খেলোয়াড়দের ওপর প্রভাবের কথা জিজ্ঞাসা করেন, তবে তা তাদেরকেই জিজ্ঞাসা করতে হবে। কারণ, আমি ব্যক্তিগতভাবে কোনো মানসিক প্রভাব দেখতে পাচ্ছি না। তারা সব কাজ ঠিকঠাক করেছে, বরাবরের মতোই কঠোর পরিশ্রম করেছে এবং কেউ কেউ তো স্বাভাবিকের চেয়েও বেশি খেটেছে। সিরিজের প্রস্তুতির জন্য যা যা প্রয়োজন, তার সবই তারা করে যাচ্ছে।’ 

 

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন সিরিজ দিয়েই আবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরছে বাংলাদেশ দল। আগামী শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) শুরু হচ্ছে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম লড়াই। সিরিজের প্রথম দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে মিরপুরের শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে, আর শেষ ম্যাচটি হবে চট্টগ্রামে। তিনটি ম্যাচই শুরু হবে সকাল ১১টায়। এরপর শুরু হবে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন