দুর্নীতিগ্রস্ত লোক পার্লামেন্টে পাঠিয়ে ভালো সরকার কেন আশা করেন, প্রশ্ন দুদক কমিশনারের

৩ সপ্তাহ আগে
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার মিঞা মো. আকবর আজিজী বলেছেন, আগামী নির্বাচনের পর দেশ পরিচালনায় কারা দায়িত্ব নিবেন এটা জনগণই নির্ধারণ করে দিবে। আমরা একাধিকবার বলছি, দুর্নীতিগ্রস্ত লোককে পার্লামেন্টে পাঠিয়ে ভালো সরকার কেন আশা করেন? ভালো সরকার পেতে হলে দুর্নীতিমুক্ত মানুষকে নির্বাচিত করতে হবে। আমাদের মূল্যবান ভোট যেন অপাত্রে না যায়।

রোববার (২১ ডিসেম্বর) দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নবাবগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯০ বছর পূর্তি উৎসবে যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

 

এর আগে তিনি বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে পূর্তি উৎসবের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। এসময় তিনি নবাবগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াকালীন সময়ের স্মৃতিচারণ করেন এবং তার শিক্ষক ও সহপাঠীদের সাথে কুশল বিনিময় করেন।

 

আকবর আজিজী বলেন, নির্বাচনে আমরা মানুষ বাছাই করে নিব। প্রার্থী পূর্বে সরকারি চাকরিজীবী বা শিক্ষক হন না কেন, আমরা দেখব তার সততার খ্যাতি আছে কি না কিংবা কর ফাঁকি দেয়ার দুর্নাম আছে কি না। এগুলো যদি না থাকে তাহলে সবার উচিত ভালো মানুষকে নির্বাচিত করে পার্লামেন্টে পাঠানো। তবেই আমরা ভালো সরকার পাবো। তবেই আমাদের ভোটাধিকার, মানবাধিকার, ন্যায়বিচার সবকিছু সমুন্নত হবে।

 

আরও পড়ুন: হাসিনাসহ অন্য আসামিদের দেশে ফেরাতে যোগাযোগ করছে দুদক

 

দুদক কমিশনার বলেন, যা অতীতে হারিয়েছে বলেই যে আমরা হতাশ হয়ে যাব, এমনটা না। যা পারিনি এতোদিন করতে, তা যেন করতে পারি, এটাই হোক আমাদের অঙ্গিকার। অতীতের গ্লানি, অতীতের বঞ্চনা সবকিছু ভুলে আমাদের এই অঙ্গিকার করা উচিত, অতীতে যা করতে পারিনি, আগামীতে তা করব। এবার তরুণ প্রজন্মের নতুন অনেক ভোটার হয়েছে, তারা ন্যায় ও অন্যায়ের পার্থক্য করতে শিখেছে এবং ইনশাআল্লা তা করবে।

 

দেশে দুর্নীতি গভীরভাবে প্রবেশ করেছে উল্লেখ করে দুদক কমিশনার আকবর আজিজী আরও বলেন, দেশে দুর্নীতি এমন পর্যায়ে গেছে, আমরা আগে শুনেছিলাম, শাল গাছ যতোটা খাড়া, ততোটা গাঁড়া। অর্থাৎ উপরে যতদূর যায়, নিচেও ততোদূর যায়। দুর্নীতিও শাল গাছের মতো গভীরে পৌঁছে গেছে। এটাকে ছোট-ছোট খুন্তি দিয়ে উপড়ানো আমাদের পক্ষে সম্ভব না। কিন্তু আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। সম্ভব না বলে ছেড়ে দিব এমন না।

 

তিনি বলেন, আমাদের কমিশনের মধ্যেও যারা দুর্নীতিগ্রস্ত আছেন, তাদেরকে ড. মোমেন কমিশন সামান্যতম ছাড় দিচ্ছে না। ডিএডি থেকে ডাইরেক্টর পর্যন্ত কাউকে ছাড় দেয়া হচ্ছে না। যার যা ত্রুটি আমাদের সামনে এসেছে, আপাতাত সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তদন্ত চালু আছে। তদন্ত যদি প্রমাণ পাওয়া যায় অবশ্যই তারা তাদের প্রাপ্য পাবে।

 

আরও পড়ুন: দুদকের জালে ধরা পড়ায় ঘুষের রেট বাড়ালেন প্রকৌশলী বাচ্চু!

 

নবাবগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সেনাসদরের এমএন্ডকিউ পরিদফতরের এসপিপি বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মো. শহীদুল আলম, রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মো. আমিসুর রহমান, নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর সুলতানা রাজিয়া, আদিনা ফজলুল হক সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মাজহারুল ইসলাম তরুসহ বিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

 

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন