বাংলাদেশে সাধারণত বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে কালবৈশাখী ঝড় হয়ে থাকে। এ হিসেবে এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে কালবৈশাখী ঝড় হওয়া কথা। কিন্তু পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে এ সময়ের আগে অর্থাৎ মার্চ মাসের শেষে দিকেও আগমন ঘটে কালবৈশাখী ঝড়ের।
বৈশিষ্ট্য
সাধারণ ঝড়ের তুলনায় কালবৈশাখী ঝড় আলাদা। যেমন সাধারণ ঝড়ের তুলনায় কালবৈশাখী ঝড়ে বাতাসের গতিবেগ অনেক বেশি থাকে। খুব কম সময়ের জন্য হলেও এর ভয়াবহতা প্রবল। ঝড়ের সময় ঘন কালো মেঘে আকাশ ঢেকে যায়। বজ্রসহ প্রবলবেগে শিলা বৃষ্টি হয়। সকালে কিংবা দুপুরের সময়ও অনুভূত হয় সন্ধ্যা বা রাতের অন্ধকার।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, কালবৈশাখী ঝড়ে ঘণ্টায় বাতাসের গতিবেগ থাকে ৪০ থেকে ৬০ কিমি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এ গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ কিমি-এর বেশিও হতে পারে। সাধারণত এ ঝড় এক ঘণ্টার বেশি সময় স্থায়ী হয় না।
যেভাবে আভাস পাওয়া যায়
ঈশান কোণে জমা হওয়া কালোমেঘ এ ঝড়ের আভাস দেয়। মাত্র কয়েক ঘণ্টায় এ ঝড়ের পরিবেশ তৈরি হওয়ায় কয়েক দিন আগেই এ ঝড়ের পূর্বাভাস বা অনুমান করা যায় না।
এ প্রসঙ্গে আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ বলেন, কালবৈশাখী ঝড় তৈরি হয় ৫/৬ ঘণ্টা আগে আর শতভাগ বোঝা যায় ২/৩ ঘণ্টা আগে।
আরও পড়ুন: তিন বিভাগে দাপট দেখাতে পারে কালবৈশাখী
কেন হয়?
বাংলাদেশের অবস্থান অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগর থেকে সৃষ্টি হওয়া গরম হাওয়া উত্তর দিকে প্রবাহিত হয়। আর হিমালয় থেকে আসা শীতল হাওয়া প্রবাহিত হয় দক্ষিণে। এই গরম ও শীতল হাওয়ার মিলনস্থলে বজ্রসহ ঘনকালো মেঘ তৈরি হয়। সেখান থেকে ঠান্ডা বাতাস নিচে নামতে শুরু করলে উচ্চচাপের উত্তরাঞ্চলের বায়ু ও নিম্নচাপের দক্ষিণাঞ্চলের বায়ুর মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। আর এ কারণে যে ঝড়ের সৃষ্টি হয় সেটিই বাংলাদেশে কালবৈশাখী ঝড় নামে পরিচিত।
আরও পড়ুন: ঈদের সময়ে কেমন থাকবে আবহাওয়া?
কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রপাত থেকে নিরাপদ থাকতে বাড়ি, অফিস কিংবা দোকানের ভেতরে অবস্থান করুন। হাতের কাছে রাখুন মোম, দিয়াশলাই অথবা টর্চ লাইট। জানালা, দরজা ভালো করে বন্ধ করে দিন। ঝড় শেষ হলে তবেই প্রয়োজনে বাইরে বের হন। উঁচু গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি থেকে নিরাপদ দূরত্ব নিশ্চিত করুন।