দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় পত্রিকায় রোববার (৫ এপ্রিল) প্রকাশিত কিছু খবর নিচে তুলে ধরা হলো।
জ্বালানি সংকটে বদলে যাচ্ছে জীবনযাত্রা - দৈনিক সমকালের প্রধান খবর এটি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাত্তার হোসেন পেশায় গাড়িচালক। গ্রামের বাড়ি বরিশালের গৌরনদীর সরিকল এলাকায়। ঢাকায় গণপূর্তের এক ঠিকাদারের মাইক্রোবাস চালান তিনি। গতকাল শনিবার বেলা ১১টার দিকে তিনি রাজধানীর পরিবাগের মেঘনা ফিলিং স্টেশন থেকে অকটেন নেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়ান। শাহবাগ মোড় ঘুরে মেট্রোরেল স্টেশনের সামনে যখন তার গাড়ি পৌঁছে, তখন বিকেল সাড়ে ৪টা পেরিয়ে গেছে। হতাশা আর ক্লান্তি নিয়ে তিনি বললেন, পাম্প পর্যন্ত পৌঁছাতে আরও এক ঘণ্টা লেগে যাবে। এভাবে তেল নিতে গেলে আর জীবন থাকে না।
শুধু সাত্তার হোসেনই নন, সেখানে যারা জ্বালানি তেল নিতে এসেছিলেন সবার কমবেশি একই পরিস্থিতি। একেকজনের তেল নিতে পাঁচ থেকে সাত ঘণ্টা পর্যন্ত লাগছে। কর্মদিবসের প্রায় পুরো সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে জ্বালানি নিতে। এ কারণে অনেকের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করে দিয়েছেন গাড়ির মালিক। আবার তেল নিতে বাড়তি সময় খরচ হওয়ায় ঘুম ও বিশ্রামের সময় কমে গেছে অনেকের। আর যারা রাইড শেয়ার করেন, তাদের সংকট আরও বেশি। আর্থিক ক্ষতি পোষাতে বাড়তি সময় রাইড শেয়ার করতে হচ্ছে। অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বলে জানালেন কয়েকজন চালক।
দুই দশকে দেশে হামে সর্বোচ্চ মৃত্যু, বেশি মৃত্যুহারও - দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পাতায় প্রকাশিত সংবাদ এটি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরে হামে যত মৃত্যু হয়েছে, তা গত দুই দশকে সর্বোচ্চ। এই সময়ে পাঁচবার হামে মৃত্যুর ঘটনা জানা যায়। ২০১৭ সালে সবচেয়ে বেশি মারা যায় ১০ জন। স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, সর্বশেষ ২০ দিনে (১৫ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল) ৯৮ শিশু সন্দেহজনক হাম রোগে মারা গেছে। আর হামে নিশ্চিত মৃত্যুর সংখ্যা ১৬। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম রোগে চারজন এবং নিশ্চিত হামে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে গত দুই সপ্তাহে প্রথম আলো দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে হামে মৃত্যুর সংখ্যা ৬১ বলে জেনেছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে হামে প্রতিবছর কতজন আক্রান্ত হয়, তার হিসাব নিয়মিত করা হলেও মৃত্যুর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয় না। দেশে হামে মৃত্যুর হার ছিল ১০ লাখে ১ শতাংশ। এখন তা বেড়ে হয়েছে ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ।
অটোরিকশার পেটে দিনে ৭৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ - দৈনিক মানবজমিনের প্রথম পাতায় প্রকাশিত খবর এটি।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, জ্বালানি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে নানামুখী উদ্যোগ নিলেও সারা দেশে অটোরিকশার মাধ্যমে বিদ্যুতের অপচয় রোধ করা যাচ্ছে না। দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৫ শতাংশই চলে যাচ্ছে অবৈধ অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জ দিতে। সিপিডি’র তথ্য বলছে- প্রতিদিন অন্তত জাতীয় গ্রিড থেকে ৭৫০ থেকে ৮শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ খরচ হয়ে যাচ্ছে শুধুমাত্র ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চার্জ দিতেই। যার বেশির ভাগ লাইনই নেয়া হয়েছে অবৈধ উপায়ে। এতে বছরে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।
বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতি বলছে, বর্তমানে সারা দেশে ৬০ লাখের বেশি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল করছে। এর মধ্যে রাজধানীতেই ১২ থেকে ১৫ লাখ অটোরিকশা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। আর এসব অটোরিকশার কোনোটিতে ৪টি, কোনোটিতে আবার ৬টি করে ব্যাটারি লাগানো রয়েছে। এসব ব্যাটারি সাধারণত ১২ ভোল্টের হয়ে থাকে। দিনে যা চার্জ হতে ৫ থেকে ৭ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগে।
কঠিন সময়ে বড় বাজেট - দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম এটি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ অর্থনীতিকে চরম অনিশ্চয়তায় ফেলেছে। জ্বালানিসংকটের আঁচ লাগছে প্রবৃদ্ধিতে। এমন কঠিন সময়ে আসছে নতুন সরকারের প্রথম বাজেট। অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত দুর্বলতা ও বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যেই আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রায় ৯ লাখ কোটি টাকার বাজেট প্রণয়ন করছে সরকার।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে জ্বালানিসংকট, রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি—এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেই দিতে হবে একটি ভারসাম্যপূর্ণ বাজেট। ভর্তুকি, উন্নয়ন ব্যয় ও ক্রমবর্ধমান দায়দেনার চাপের মধ্যে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই হবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর জন্য সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ।
রাজনীতিতে কালো মেঘ! - দৈনিক যুগান্তরের প্রধান খবর এটি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তামাদি হচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ২০টি গুরুত্বপূর্ণ ও জনকল্যাণকর অধ্যাদেশ। এই অধ্যাদেশগুলো আইনে রূপ দিতে সংসদে উপস্থাপন করছে না বিএনপি সরকার। এসব অধ্যাদেশের মধ্যে রয়েছে-সুপ্রিমকোর্টের বিচারক নিয়োগ ও সুপ্রিমকোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, গণভোট অধ্যাদেশ, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, তথ্য অধিকার এবং রাজস্ব ও ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ অন্যতম।
এসব বিষয় নিয়ে সংসদ অধিবেশন শুরুর এক মাসের আগেই রাজপথে নেমেছে বিরোধী দল। বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের রাজনীতিতে আবারও কালো মেঘ দেখা দিয়েছে। এক্ষেত্রে রাষ্ট্র সংস্কারের ব্যাপারে সরকারের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ। তাদের মতে, বিষয়টি রাজপথে চলে গেলে তা আর রাজনীতিবিদদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে না। এটি কারও কাম্য নয়।
জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ সীমান্তবর্তী জেলাগুলোয় বেশি - দৈনিক বণিকবার্তার শেষ পাতায় প্রকাশিত সংবাদ এটি।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, কুড়িগ্রাম, দিনাজপুর, মেহেরপুর, কক্সবাজারসহ সীমান্তবর্তী জেলাগুলো থেকে সবচেয়ে বেশি অবৈধ জ্বালানি তেলের মজুত পাওয়ার কথা জানিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, গত ১৭ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত ২২ জেলায় মোট ২৯টি স্থানে জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে সৃষ্ট যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়েছে দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাও। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সময়মতো জ্বালানি তেল দিতে না পারায় দেশের জ্বালানির মজুদে টান পড়তে শুরু করেছে।
]]>
১ সপ্তাহে আগে
২








Bengali (BD) ·
English (US) ·