চারদিকের নিস্তব্ধতা আর বালুকাময় প্রান্তরে হঠাৎ আয়েশা (রা.)-এর মনে এক অদ্ভুত ইচ্ছা জাগল। তিনি নবীজিকে বললেন, ‘প্রাণের স্বামী, চলুন আজ আমাদের মধ্যে একটি দৌড় প্রতিযোগিতা হয়ে যাক! দেখি কে আগে যেতে পারে।’
স্ত্রীর এমন আবদার শুনে নবীজি (সা.) মুচকি হাসলেন। কোনো কথা না বলে ইশারায় সম্মতি দিলেন। শুরু হলো দৌড়। তখন আয়েশা (রা.)-এর বয়স কম, শরীরও ছিল বেশ হালকা-পাতলা। তিনি বাতাসের গতিতে ছুটে চললেন এবং সহজেই নবীজিকে পেছনে ফেলে বিজয়ী হলেন।
দয়ালু নবী (সা.) যেন প্রিয়তমার কাছে ইচ্ছা করেই হেরে গেলেন। কারণ, স্ত্রীর মুখে জয়ের হাসি দেখাটা ছিল তাঁর কাছে অনেক আনন্দের।
কয়েক বছর কেটে গেল। সময়ের ব্যবধানে আয়েশা (রা.) কিছুটা স্বাস্থ্যবান হলেন। আবারও একদিন একই রকম নির্জন পথ দিয়ে তাঁরা দুজন যাচ্ছিলেন। নবীজি (সা.) পুরোনো সেই দিনের কথা মনে করিয়ে দিয়ে বললেন, ‘এসো, আজ আবারও দৌড় প্রতিযোগিতা করি।’ এবার আয়েশা (রা.) দৌড় শুরু করলেও নবীজি (সা.) দ্রুতগতিতে তাঁকে ছাড়িয়ে গিয়ে বিজয়ী হলেন।
জয়ের পর নবীজি (সা.) হাসতে হাসতে আয়েশা (রা.)-কে বললেন, ‘হে আয়েশা, এই জয় হলো আগের সেই হারের বদলা।’ সুবহানাল্লাহ! জগতের সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ হওয়া সত্ত্বেও পরিবারের সঙ্গে নবীজি (সা.) কতটা অমায়িক ও আনন্দময় সময় কাটাতেন, এটি তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। আমাদের দাম্পত্য জীবনেও নবীজি (সা.)-এর এই ভালোবাসা ও সুন্দর আচরণ হোক পাথেয়।

৩ সপ্তাহ আগে
৭







Bengali (BD) ·
English (US) ·