সুন্দর করে হজ করবেন যেভাবে

৩ ঘন্টা আগে
জীবনে একবার হজ ফরজ, তাই এই পবিত্র সফরের জন্য সঠিক প্রস্তুতি ও জ্ঞান অর্জন অত্যন্ত জরুরি। হজের জন্য টিকিট, ভিসা বা মুয়াল্লিম ঠিক করা কেবল বাহ্যিক প্রস্তুতি, কিন্তু এর সবচেয়ে বড় ও মূল প্রস্তুতি হলো হৃদয়ের বা তাকওয়ার প্রস্তুতি। অর্থনৈতিক সামর্থ্যের পাশাপাশি অন্তরকে হজের জন্য প্রস্তুত করতে হবে এবং মক্কা, হারাম শরীফ ও হজের ইতিহাস সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হবে।

কোরআনের নির্দেশনা অনুযায়ী হজে গেলে তিনটি কাজ থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে হবে। এগুলো হলো অনর্থক কথা বলা বা কাজ করা, অশ্লীল কথা বা কাজ করা এবং কোনো ধরনের ঝগড়া করা। হজের সফরে ছোটখাটো বিষয় নিয়ে মানুষের মধ্যে ঝগড়া হয়ে থাকে, তবে যিনি ঝগড়ামুক্ত হজ করতে পারেন, আল্লাহ তাকে মাবরুর হজের তৌফিক দেন।

 

ওমরায় মূলত চারটি কাজ করতে হয়, যার মধ্যে দুটি ফরজ এবং দুটি ওয়াজিব। প্রথম ফরজটি হলো এহরাম বাঁধা, যার মধ্যে কাপড় পরা, নিয়ত করা এবং তালবিয়া পড়া অন্তর্ভুক্ত। দ্বিতীয় ফরজটি হলো কাবা ঘর তাওয়াফ করা। তাওয়াফের পর মাকামে ইব্রাহিমের পেছনে দুই রাকাত নামাজ পড়া তাওয়াফের ওয়াজিব। ওমরার দুটি ওয়াজিবের মধ্যে প্রথমটি হলো সাফা ও মারওয়া পাহাড়ে সাঈ করা এবং দ্বিতীয়টি হলো মাথার চুল কাটা বা মুণ্ডন করা।

 

হজের মূল কার্যক্রম মূলত জিলহজ মাসের আট থেকে বারো তারিখ পর্যন্ত পাঁচ দিনব্যাপী পাঁচটি জায়গায় সম্পন্ন করতে হয়। হজের মোট কাজ নয়টি, যার মধ্যে তিনটি ফরজ ও ছয়টি ওয়াজিব। হজের তিনটি ফরজ হলো এহরাম বাঁধা, নয় জিলহজ আরাফার ময়দানে অবস্থান করা এবং দশ তারিখ বা তার পরে ফরজ তাওয়াফ বা তাওয়াফে জিয়ারত সম্পন্ন করা। 

 

এর মধ্যে আরাফায় অবস্থান করা হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রোকন, এখানে না গেলে হজ হবে না। হজের ছয়টি ওয়াজিব হলো মুজদালিফায় রাত যাপন করে ফজরের পর কিছুক্ষণ অবস্থান করা, জামারাতে বা শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করা, দমে শুকর বা কুরবানি আদায় করা, মাথার চুল কাটা, সাঈ করা এবং মক্কা ত্যাগ করার পূর্বে বিদায়ী তাওয়াফ করা।

 

আরও পড়ুন: আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের আয়োজনে কওমি কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত


হজের সফরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অথচ অবহেলিত আমল হলো তালবিয়া পড়া। এহরাম বাঁধার পর থেকে কাবা ঘর দেখার আগ পর্যন্ত বেশি বেশি তালবিয়া পড়তে হয়। এছাড়া হজের সফরটি মূলত দোয়ার সফর। না বুঝে মোটা আরবি বই থেকে দোয়া পড়ার চেয়ে নিজের মাতৃভাষা বাংলায় আল্লাহর কাছে মন খুলে দোয়া করা উত্তম। ছোট-বড় যেকোনো প্রয়োজনের কথা আল্লাহর কাছে নিজের ভাষায় চাইতে হবে।


হজের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সবর বা ধৈর্য


বাসের সিট, হোটেল বা খাবার নিয়ে অন্যের সাথে প্রতিযোগিতায় বা ঝগড়ায় লিপ্ত হওয়া যাবে না। হজে অন্য হাজীদেরকে আগে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার মানসিকতা থাকতে হবে এবং কোনো অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি তৈরি হলেও শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধান করতে হবে।


নারীদের হজের ক্ষেত্রে আল্লাহ তায়ালা অনেক বিধান সহজ করেছেন। নারীদের জন্য নির্দিষ্ট সাদা এহরামের কাপড় নেই; যেই পোশাকে পর্দা রক্ষা হয়, সেটিই তাদের এহরাম এবং তারা চাইলে জুতা বা মোজাও পরতে পারবেন। তাওয়াফে দ্রুত হাঁটা বা সাঈতে দৌড়ানোর বিধানও নারীদের জন্য নেই। ভিড় ও রোদের কারণে নারীরা চাইলে সূর্যাস্তের পর বা রাতের বেলাতেও জামারাতে পাথর মারতে পারবেন। নারীদের হজে মূলত দুটি বিষয়ে সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য রাখতে হবে, তা হলো পর্দা রক্ষা করা এবং জবানকে সংযত রাখা।

 

এই তেরোটি কাজ অর্থাৎ ওমরার চারটি ও হজের নয়টি কাজ ধারাবাহিকভাবে মনে রাখলে এবং টিমের বা মুয়াল্লিমের সাথে থেকে নিয়মমাফিক সম্পন্ন করলে হজ অত্যন্ত সহজ ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন হবে।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন