বাগেরহাটের দুবলার চর সুন্দরবনের দক্ষিণে শুঁটকি পল্লীর দশ সহস্রাধিক জেলে মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা থেকে সাগরে মাছ আহরণ বন্ধ রেখে চরে অবস্থান করছেন। দ্রুত বনদস্যু মুক্ত না হলে বন বিভাগ হারাবে রাজস্ব ও বেকার হয়ে পড়বে উপকূলীয় জেলে ও ব্যবসায়ী সম্প্রদায়।
এর আগে সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে অপহৃত ২০ জেলের সন্ধান মেলেনি দুদিনেও। রাজস্ব ঘাটতির আশঙ্কায় রয়েছে বনবিভাগ।
এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন দুবলা ফিসারমেন গ্রুপের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ।
দুবলার আলোরকোল এলাকা থেকে মোবাইল ফোনে তিনি বলেন, ‘সুন্দরবন ও সাগরে নিরাপত্তা না থাকায় বনদস্যুদের হাতে অপহরণের আতঙ্কে দুবলাচরের ১০ সহস্রাধিক জেলে মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে সাগর ও সুন্দরবনের নদীতে মাছ ধরা বন্ধ করে দিয়েছেন। জেলেরা এখন চরে অলস সময় কাটাচ্ছেন এবং মৌসুমের শেষে এসে কি নিয়ে বাড়ি ফিরবেন সে চিন্তায় জেলেরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।’
আরও পড়ুন: সাগরের ঢেউয়ের তাণ্ডবে হুমকির মুখে সুন্দরবনের পর্যটনকেন্দ্র কটকা
তিনি আরও বলেন, ‘সুন্দরবনে জাহাঙ্গীর, সুমন, শরীফ ও করিম বাহিনী নামে বনদস্যুদের চারটি গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। দস্যুরা বেপরোয়া হয়ে সুন্দরবন ও সাগর দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। জেলেদের ধরে নিয়ে আটকে মুক্তিপণ আদায় করে ছেড়ে দিচ্ছে। যারা টাকা দিতে পারছেন না তাদের বেদম মারধর করছে দস্যুরা।’
অপরদিকে গত সপ্তাহে দস্যুদের মারধরে গুরুতর আহত হয়ে চার জেলে রামপাল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়েছেন। সুন্দরবনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো তৎপরতা না থাকায় দস্যুরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
এ দিকে রামপাল জেলে সমিতির সভাপতি মোতাসিম ফরাজী বলেন, ‘আগে প্রবাদ ছিলো জলে কুমির, ডাঙায় বাঘ এখন এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সাগরে গেলে ডাকাত। দস্যুদের তাণ্ডবে মাছ ধরা বন্ধ করা হয়েছে। গত ১৫ দিনের মধ্যে অনেক জেলেকে দস্যুরা অপহরণ করে নিয়ে গেছে। দস্যুদের কব্জায় এখন কম পক্ষে শতাধিক জেলে রয়েছে।’
আরও পড়ুন: সুন্দরবনের শুঁটকি পল্লীতে ব্যস্ততা, ৮ কোটি টাকা রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের জেলে পল্লী দুবলা টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্ট রেঞ্জার মিলটন রায় বলেন, ‘দস্যু আতঙ্কে জেলেরা মাছ ধরা বন্ধ রাখায় তাদের রাজস্ব ঘাটতির আশঙ্কা রয়েছে।’
সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের শরণখোলা ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা ফরেস্ট রেঞ্জার মো. খলিলুর রহমান বলেন, বনদস্যু আতঙ্কে তাদের স্টেশন অফিস থেকে কোনো জেলে সুন্দরবনে মাছ ধরার পাস (অনুমতি) নিচ্ছেন না। যার ফলে মাসিক রাজস্বের টার্গেটে বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে বলে জানান ওই স্টেশন কর্মকর্তা।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবনে বন দস্যুদের তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং বনরক্ষীরা জেলেদের নিরাপত্তায় কাজ করছেন বলে এসিএফ জানান।

২ সপ্তাহ আগে
২






Bengali (BD) ·
English (US) ·