দর্শনায় বিএনপি কর্মীকে কুপিয়ে জখম: বিক্ষোভ, থানা ঘেরাও

১ সপ্তাহে আগে
চুয়াডাঙ্গার দর্শনা পৌর এলাকায় ইফতার শেষে মসজিদে যাওয়ার পথে রিপন (৪৫) নামে এক বিএনপি কর্মীকে কুপিয়ে গুরুতর জখমের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মীদের বিরুদ্ধে।

রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় দর্শনা পৌরসভার ঈশ্বরচন্দ্রপুর গ্রামের বড় মসজিদের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে।


এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও থানা ঘেরাও কর্মসূচি পালন করে বিএনপিসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। আহতের অবস্থা আশঙ্কাজনক।


আহত রিপন দর্শনা ঈশ্বরচন্দ্রপুর গ্রামের মৃত মান্নানের ছেলে এবং স্থানীয় বিএনপির সক্রিয় কর্মী ছিলেন।


প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইফতার শেষে মসজিদে প্রবেশের সময় পূর্ব থেকে ওত পেতে থাকা একদল দুর্বৃত্ত ধারালো দেশীয় অস্ত্র দিয়ে রিপনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। হামলার পর তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তার অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করেন। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।

 

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছিল। অভিযোগ রয়েছে আওয়ামী লীগ সমর্থিত হাসেম (৫৬) ও খায়রুল কামড়ি (৪৫) গং এবং বিএনপি কর্মী রিপনের মধ্যে পূর্বে বাগবিতণ্ডা হয়। এ বিরোধের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি বিএনপি নেতাদের। তবে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


আরও পড়ুন: ফরিদপুরে ব্যানার টানানোর সময় স্বতন্ত্র প্রার্থীর ২ সমর্থককে কুপিয়ে জখম


ঘটনার প্রতিবাদে রাত ৯টার দিকে দর্শনা পৌর বিএনপির সমন্বয়ক নাহারুল ইসলাম মাস্টারের নেতৃত্বে শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। পরে তারা দর্শনা থানা ঘেরাও করে দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।


দর্শনা পৌর বিএনপির প্রধান সমন্বয়ক হাবিবুর রহমান বুলেট বলেন, রিপনের ওপর হামলা পরিকল্পিত। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই ইফতার শেষে মসজিদে যাওয়ার পথে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়। অবিলম্বে জড়িতদের গ্রেফতারের দাবি করছি।


দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, রিপন নামে একজনকে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করার ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হামলার পর থেকে ঈশ্বরচন্দ্রপুর ও আশপাশের এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন ও জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন