থার্টি ফার্স্ট নাইট: আনন্দ নাকি ঈমান হারানোর আয়োজন?

২ সপ্তাহ আগে
আমাদের এই জীবন আল্লাহর দেয়া এক অমূল্য আমানত। আর এই জীবনের প্রতিটা মুহূর্ত হলো সেই আমানতের পুঁজি। কিন্তু কী অদ্ভুত আমাদের স্বভাব! আমরা আমাদের এই অতি মূল্যবান সময়কে এমন সব উৎসবে বিলিয়ে দিচ্ছি, যার সাথে আমাদের ঈমান, আমল কিংবা সংস্কৃতির কোনো দূরতম সম্পর্ক নেই। তেমনই এক উৎসবের নাম--‘থার্টি ফার্স্ট নাইট’।

প্রাচীন পারস্যের সম্রাট জামশিদ কিংবা রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজার, যাদের হাত ধরে এই নববর্ষের শুরু, তাদের সেই পৌত্তলিক কুসংস্কার আজও আমাদের সমাজে জেঁকে আছে। আমরা কি একবারও ভেবে দেখেছি, বছরের প্রথম দিন আনন্দ করলেই সারা বছর ভালো কাটবে-- এই অদ্ভুত ও অযৌক্তিক বিশ্বাসে গা ভাসিয়ে দিয়ে আমরা আমাদের ঈমানকে কতটা ঝুঁকির মুখে ফেলছি?

 

ইসলাম আমাদের নিজস্ব গৌরবোজ্জ্বল সংস্কৃতি দিয়েছে। প্রিয় নবীজি স্পষ্টভাবে সতর্ক করে বলেছেন-- 

 

যে ব্যক্তি যে জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত হবে। 

 

আজ এই উৎসবের নামে আমরা আসলে কী করছি? একদিকে বিজাতীয় সংস্কৃতির নির্লজ্জ অনুকরণ, অন্যদিকে মহান আল্লাহর হুকুমের চূড়ান্ত নাফরমানি! এই এক রাতে গান-বাজনা, মাদক আর অশ্লীলতার যে ভয়াবহ সয়লাব বয়ে যায়, তা কি আমাদের তরুণ প্রজন্মকে তিলে তিলে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে না? যে সময়টা হওয়া উচিত ছিল আত্মসমালোচনার, সেই সময় আমরা মত্ত হচ্ছি উন্মাদনায়!

 

 

একবার চোখ মেলে দেখুন তো! যে রাতে আপনি কোটি কোটি টাকার আতশবাজি আর ফানুস উড়িয়ে আকাশ রাঙাচ্ছেন, সেই একই রাতে কনকনে শীতে আপনারই ঘরের পাশে কোনো অসহায় মানুষ এক টুকরো গরম কাপড়ের অভাবে কুঁকড়ে পড়ে আছে। আপনি যখন উল্লাস করছেন, তখন বিকট শব্দের আতশবাজিতে কোনো মুমূর্ষু রোগী বা নিষ্পাপ শিশু আতঙ্কে নীল হয়ে যাচ্ছে।

 

পবিত্র কোরআন আমাদের সাবধান করে বলছেন,‘অপচয়কারী শয়তানের ভাই।’ আমাদের এই আনন্দ কি তবে অন্যের জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়াচ্ছে না? এই কি তবে আমাদের মনুষ্যত্ব?

 

একটি নতুন বছর আসা মানে আপনার জীবন থেকে একটি বছরের পাতা ঝরে যাওয়া। কবরের দিকে আমরা আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলাম। একজন ফাঁসির আসামির কাছে প্রতিটি সূর্যোদয় যেমন মৃত্যুর বার্তা নিয়ে আসে, আমাদের জীবনও ঠিক তেমনি ফুরিয়ে আসছে। প্রতিটি ভোর আর সন্ধ্যা আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে-- আমরা নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছি।

 

আরও পড়ুন: জানাজার নামাজের দোয়া বাংলা উচ্চারণসহ


আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেছেন, 

 

সন্ধ্যা হলে প্রভাতের অপেক্ষা করো না, আর প্রভাত হলে সন্ধ্যার অপেক্ষা করো না। কারণ তুমি জানো না, আগামীকাল তোমার নাম জীবিতদের তালিকায় থাকবে নাকি মৃতদের!

 

আসুন, থার্টিফার্স্ট নাইটের নেশা আর উন্মাদনা ছেড়ে বিগত বছরের গুনাহের জন্য চোখের পানি ফেলে আল্লাহর কাছে তওবা করি। নবীজির সেই অমর বাণী মনে রাখি, 

 

বুদ্ধিমান তো সেই ব্যক্তি, যে নিজের হিসাব নেয় এবং মৃত্যুর পরের জীবনের জন্য কাজ করে।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন