মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তিনি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন। এরপর থেকেই আনন্দ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন তার নির্বাচনী এলাকা লালমোহন ও তজুমদ্দিনের নেতাকর্মীরা। বাদ্য বাজিয়ে, নেচে গেয়ে আনন্দ-উল্লাস করেন তারা। বিতরণ করেন মিষ্টিও।
এর আগে তিনি দুবার বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী, পাট ও পানিসম্পদ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
এ দিকে সংসদ ভবনে শপথ অনুষ্ঠান শেষে সন্ধ্যার পর মেজর হাফিজের নির্বাচনী এলাকায় তজুমদ্দিন উপজেলা বিএনপি অফিস থেকে আনন্দ মিছিল বের করেন নেতাকর্মীরা। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। একই সময়ে লালমোহন উপজেলা বিএনপি অফিসের সামনে থেকে আনন্দ মিছিল বের করেন নেতাকর্মীরা। নিজেদের মধ্যে করেন মিষ্টি বিতরণ। নেচে গেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন তারা।
আরও পড়ুন: মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী মর্যাদায় ১০ উপদেষ্টা নিয়োগ
মহান মুক্তিযুদ্ধের অনবদ্য সাহসিকতার জন্য রাষ্ট্রের তৃতীয় সর্বোচ্চ বীরত্ব পদবী বীর বিক্রমে ভূষিত হন মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ছিলেন তৎকালিন পাকিস্তান ফুটবল দলের খেলোয়াড় ও অধিনায়ক। ১৯৬৪ সাল থেকে পর পর তিনবার পূর্ব পাকিস্তানের দ্রুততম মানব ছিলেন। তার বাবা ডাক্তার আজহার উদ্দিন ১৯৬৩ ও ১৯৬৫ সালে দুই বার পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। সেনাবাহিনী থেকে অবসরে এসে বাবার পথ অনুসরণ করে রাজনীতিতে এসেও তিনি মানুষের মন কেড়েছেন।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ভোলা-৩ আসনে বিজয়ী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী হিসাবে শপথ নেয়ার পর বাদ্য বাজিয়ে, নেচে গেয়ে এলাকাবাসীর উল্লাস। ছবি: সময় সংবাদ
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ভোলা-৩ আসন থেকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হয়ে ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালে পর পর দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরশাদ পতনের পর ১৯৯১ সালের পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে পান প্রতীকে ভোলা-৩ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচিত হন। তার সঙ্গে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীরা।
আরও পড়ুন: সমাজ সেবক থেকে প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল
বিজয়ের পর ১৯৯২ সালে বিএনপিতে যোগদেন তিনি। ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ ও সপ্তম সংসদ নির্বাচনেও বিএনপির হয়ে বিজয়ী হন তিনি। খালেদা জিয়ার মন্ত্রী পরিষদে ষষ্ঠ জাতীয় সংসদে তিনি ১৯ মার্চ ১৯৯৬ থেকে ২৯ মার্চ ১৯৯৬ পর্যন্ত বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অষ্টম জাতীয় সংসদে খালেদা জিয়ার তৃতীয় মন্ত্রী সভায় তিনি ১১ অক্টোবর ২০০১ থেকে ২২ মে ২০০৩ সাল পর্যন্ত পাটমন্ত্রী, ২২ মে ২০০৩ থেকে ২৯ অক্টোবর ২০০৬ পর্যন্ত পানিসম্পদ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
বর্ষীয়ান এ রাজনীতিবিদ বিভিন্ন সময়ে কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যানসহ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারনী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য। ২৪ এর গণঅভুত্থানের পর লালমোহন-তজুমদ্দিনের বিএনপিকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করেন। রাজনীতিতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সপ্তমবারের মতো সংসদে যান। ৮১ বছর বয়সী হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবার হলেন মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী।

২ সপ্তাহ আগে
৩








Bengali (BD) ·
English (US) ·